বুধবার সংসদ অধিবেশনে বাজেট আলোচনায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
কাজী নাবিল বলেন, ‘শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আগামীর পথে দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। তার দক্ষ নেতৃত্বের কারণে বৈশ্বিক প্রতিকূলতার মধ্যেও আর্থ সামাজিক খাতে বৈপ্লবিক উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। বিশ্বকে বদলে দিতে যারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন, এমন পঞ্চাশ জন নেতার তালিকায় ফোর্বসে প্রধানমন্ত্রীর নাম ছাপা হয়েছে।’
বাজেট আলোচনায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে রমজান ও ঈদকে সামনে রেখে ভোগ্যপণ্য বিশেষ করে ইফতারের পণ্যসহ সব পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখায় প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী, বাণিজ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান নাবিল।
বাজেট বক্তৃতায় নিজের নির্বাচনি আসন যশোরবাসীর জন্যে সুখবর দেন কাজী নাবিল। তিনি বলেন, ‘যশোরবাসীর জন্য সবচেয়ে সুখবর হচ্ছে- যশোর সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক চলতি বছরের মধ্যে বিনিয়োগকারীদের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করার ঘোষণা হবে।’ পাশাপাশি যশোরের উন্নয়নে একগুচ্ছ দাবি তুলে ধরেন যশোরের এই সংসদ সদস্য।
তিনি বলেন, ‘যশোর মেডিক্যাল কলেজের স্থায়ী ক্যাম্পাস প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের দিকে তাকিয়ে আছে যশোরবাসী। বাংলায় ব্রিটিশ ভারতের প্রথম জেলা ও দ্বিতীয় পৌরসভা হিসাবে যশোরের যে প্রভাব বলয় তৈরি হয়েছিল তা আজ ম্রিয়মান। যশোরবাসীর মনে কিছুটা হতাশা বিরাজ করছে। পুরাতন এই যশোর জেলাটিকে বিভাগ ঘোষণা, প্রধানমন্ত্রীর পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী সিটি করপোরেশনে রূপান্তর, বিমানবন্দর স্টেডিয়ামকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীতকরণ, পর্যটন করপোরেশনের মাধ্যমে একটি পাঁচতারা মানের মোটেল নির্মাণ যশোরবাসীর প্রাণের দাবি।’
যশোর শহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত ভৈরব নদ দখল-বেদখল হয়ে গেছে উল্লেখ করে কাজী নাবিল বলেন, ‘ব্যক্তি বিশেষের দখলে এই নদ আজ মৃতপ্রায়। নদীর সীমানা চিহ্নিত করে ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে পারলে যশোরবাসীর জন্য নির্মল বিনোদনের ব্যবস্থা হবে। এজন্যে জেলা প্রশাসনকে একাধিকবার বলা হয়েছে।’ ভৈরব নদ উদ্ধার ও শহরের রাস্তা প্রশস্ত করার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলেও মনে করেন সরকার দলীয় এ এমপি।
তিনি বলেন, ‘দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোল। কোটি কোটি মানুষের চাহিদা পূরণ করে এ বন্দর। কোনও পণ্যবাহী বা গরুবাহী ট্রাক যশোরে চাঁদা না দিয়ে দেশের কোথাও যেতে পারছে না। এক্ষেত্রে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত ও আদেশকে অপরাধীরা অমান্য করছে। ব্যবসায়ী আমদানীকারকরা এখন বেনাপোল বাদ দিয়ে অন্য বন্দরের দিকে ছুটছে। এতে করে সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব যশোর অঞ্চলে পড়তে পারে।’
তিনি বলেন, ‘যশোরবাসীর নিরলস পরিশ্রম ও চেষ্টার ফলে শাক সবজি, ফুল, খেজুর গুড়, নার্সারি ব্যবসা, মিঠা পানির মাছ উৎপাদনে আমরা প্রথম স্থান অধিকার করেছি। কর্মসংস্থান তৈরির জন্যে একাধিক অর্থনৈতিক জোন বিশেষ করে দেশি ও বিদেশি উদ্যোগকারীদের জন্যে তৈরি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন পর্যাপ্ত সংখ্যক কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণ, রাস্তা-ঘাট তৈরি, গ্রামে-গ্রামে বিদ্যুৎ সংযোগ, স্কুল কলেজ নির্মাণ ও সংস্কার, সেই সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী ও যশোর বোর্ডকে ভালো ফলাফল ও এমপিওভুক্তির দিকে গুরুত্বারোপ করা অনুরোধ জানাচ্ছি। ঢাকা থেকে পদ্মাসেতু হয়ে যশোর পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণের প্রকল্প হাতে নেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে অভিন্দন জানাচ্ছি।’
- তনু হত্যার বিচার একদিন হবেই!
- দেশকে অন্যের হাতে তুলে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করছে সরকার: খালেদা
- র্যাবের ধাওয়ায় ছাদ থেকে পড়ে যুবকের মৃত্যু
/পিএইচসি/এফএস/এজে