বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অবসর ভাতায় ঘাটতি বাড়ছে: শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদপ্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ না থাকায় বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও কর্মচারীদের অবসর ভাতা খাতে প্রতিমাসেই ঘাটতি বাড়ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। তবে আগামী অর্থবছরে অর্থ বরাদ্দের প্রস্তাব থাকায় অবস্থার পরিবর্তন হবে বলেও মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন।
সোমবার জাতীয় সংসদে ওয়ার্কার্স পার্টির সংসদ সদস্য ইয়াসিন আলীর এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী এ তথ্য জানিয়েছেন।
শিক্ষামন্ত্রী নাহিদ বলেন, শিক্ষক-কর্মচারীদের এমপিও থেকে কর্তন করা চার শতাংশ হারে চাঁদার ওপর ভিত্তি করে অবসর সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। ১৯৮০ সাল থেকে অবসর ভাতা দেওয়া হলেও এ খাতের জন্য ২০০৫ সাল থেকে কর্তন করা হচ্ছে।
তিনি জানান, বর্তমান মাসিক চাঁদা চার শতাংশ হারে মাসে আয় হয় ১৭ কোটি টাকা এবং অবসর সুবিধার জমাকৃত আবেদন নিষ্পত্তির জন্য প্রয়োজন মাসিক প্রায় ৩৬ কোটি টাকা। ফলে প্রতিমাসেই ঘাটতি বাড়ছে।
আগে শিক্ষকদের অবসর এবং কল্যাণ সুবিধার আবেদন নিষ্পত্তিতে নির্ধারিত নিয়ম-নীতি অনুসরণ করা হয়নি জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে এ বিষয়টি একটি শৃঙ্খলার মধ্যে আনা হয়েছে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর পুঞ্জিভূত এ সকল আবেদন নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে আবেদন দাখিলের তারিখের ক্রমানুসারে পর্যায়ক্রমে নিষ্পত্তি করা হচ্ছে।

মন্ত্রী জানান, অবসর সুবিধা বোর্ডে বর্তমানে অনিষ্পন্ন ৪২ হাজার ৩৮০টি আবেদন নিষ্পত্তি করার জন্য ঘাটতি বাবদ প্রায় এক হাজার ৯৬১ কোটি ৮ লাখ ৮৮ হাজার টাকা এবং কল্যাণ ট্রাস্টে অনিষ্পন্ন প্রায় ২৮ হাজার আবেদন নিষ্পত্তি করার জন্য ঘাটতি বাবদ প্রায় ৪৮৫ কোটি টাকা প্রয়োজন।

শিক্ষক কর্মচারীদের অবসর ও কল্যাণ ট্রাস্টের জন্য বছরে ৬০০ কোটি টাকা প্রয়োজন উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, অবসর ও কল্যাণ ট্রাস্টের জন্য সিড ‍মানি হিসেবে এককালীন ৭২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ, অথবা প্রতি বাজেটে ৬০০ কোটি টাকা বরাদ্দের জন্য অর্থমন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করা হয়েছে।

নাহিদ আরও জানান, আগামী ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে প্রস্তাবিত বাজেটে ‘বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অবসর সুবিধা বোর্ড’ এর অনুকূলে ৫০০ কোটি টাকার এনডাউমেন্ট ফান্ড এবং ১০০ কোটি টাকা এককালীন অনুদান প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রস্তাবিত বাজেটে ‘বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারীদের কল্যাণ ট্রাস্ট’-এর অনুকূলে এককালীন ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দেরও প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

মুহিবুর রহমান মানিকের প্রশ্নের জবাবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, দেশে কিন্ডারগার্টেন স্কুলের সংখ্যা ১৮ হাজার ৩১৮টি।

আ খ ম জাহাঙ্গীর হোসাইনের প্রশ্নের জবাবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী জানান, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ১৬ হাজার ৬০৩টি প্রধান শিক্ষকের পদ এবং ৪৪ হাজার ৯৫টি সহকারি শিক্ষকের পদ শূন্য আছে।

আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমের প্রশ্নের জবাবে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ জানান, ঢাকার বিমানবন্দর এলাকা, হোটেল রেডিসন, দূতাবাস ও কূটনৈতিক এলাকা, বেইলি রোড, রূপসী বাংলা হোটেল (বর্তমানে ইন্টারকন্টিনেন্টাল) ও হোটেল সোনারগাঁও  এলাকাকে ভিক্ষুকমুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে গোপালগঞ্জ, সুনামগঞ্জ ও নড়াইলে ভিক্ষুকদের কর্মসংস্থানের জন্য ৩০ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে।

ইএইচএস/এপিএইচ/

আরও পড়ুন:
এ বছর প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা হবে: মন্ত্রিপরিষদ সচিব

১২৮ বাড়ি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দখলে