আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা না এলে বাজেট বাস্তবায়ন হবে না: বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ

বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ তাজুল ইসলাম চৌধুরীআর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা না গেলে বাজেট বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ তাজুল ইসলাম চৌধুরী।
সোমবার প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, প্রতি বছরের মত এবারও অনুন্নয়নের ব্যয়ের আধিক্য। এবারও উন্নয়ন ব্যয়ের অংশ হ্রাস পেয়েছে। মাথাভারী প্রশাসন পুষতে যদি এত টাকা খরচ হয় তবে উন্নয়ন কিভাবে হবে।
প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যয়ের ৭১ শতাংশের বেশি অর্থ রাজস্ব খাত থেকে আদায়ের লক্ষ্য পূরণ হওয়া নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে তিনি বলেন, অর্থমন্ত্রী স্বপ্ন বিলাসী মানুষ। তিনি তা স্বীকারও করেন। গত সাত বছরে এই সরকার রাজস্ব আদায় বাড়াতে পেরেছে মাত্র এক দশমিক এক শতাংশ। তাহলে কিভাবে লক্ষ্য পূরণ হবে?
আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা নিয়ে সরকারের কাজের সমালোচনা করে তাজুল ইসলাম বলেন, শেয়ারবাজার লুটপাটের তদন্ত কমিটি হলো, কমিটি প্রতিবেদনও দিলো, কিন্তু কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হলো না। অর্থমন্ত্রী ব্যাংকিং খাতে সাগর চুরির কথা বলেছেন, কিন্তু কিভাবে এই সাগর চুরি বন্ধ হবে, ফটকাবাজি বন্ধ হবে, এটা তাকে সংসদে বলতে হবে। তিনি বলেন, রিজার্ভের টাকা চুরি হয়েছে। কিন্তু এটাকা ফেরত আনার বিষয়ে বাজেটে তার কোনও বক্তব্য নেই। অর্থমন্ত্রীর বাজেটবক্তৃতায় ব্যাংকিং খাতের অনিয়ম বন্ধের বিষয়েও কোনও দিক নির্দেশনা নেই। তিনি শিক্ষার মান পড়ে গেছে বলে অভিযোগ করেন।
আওয়ামী লীগ সাংসদ খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যু রহস্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, কোকোর মৃত্যু কিভাবে হয়েছে তার একটা তদন্ত হওয়া উচিত।
তিনি বলেন, খালেদার আরেক পুত্র (তারেক রহমান) ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত হাওয়া ভবন করে বাংলাদেশের সম্পদ লুটতরাজ করেছেন। দেশের টাকা বিদেশে পাচার করেছেন। সেটা আদালতেও প্রমাণিত। ইতোমধ্যে কয়েকটি মামলায় অপরাধী সাব্যস্ত হয়েছেন। বিদেশে পলাতক হয়েও দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছেন তিনি।

বাজেট আলোচনায় আওয়ামী লীগের দীপু মনি, এ কে এম রহমতুল্লাহ, আবু সালেহ মোহাম্মদ সাঈদ (দুলাল),মহিবুর রহমান মানিক, নূরজাহান বেগম, সাগুফতা ইয়াসমিন প্রমুখ বক্তব্য দেন।

ইএইচএস/এপিএইচ/

আরও পড়ুন:

বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অবসর ভাতায় ঘাটতি বাড়ছে: শিক্ষামন্ত্রী

১২৮ বাড়ি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দখলে