ঈদের ছুটির নয়দিন

রোগীর চিকিৎসায় গাফিলতি মেনে নেওয়া হবে না!

ফাইল-ছবিঈদসহ যেকোনও ছুটির সময়ে হাসপাতালে রোগীদের ভোগান্তি দিনের পর দিন এক স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত হয়েছে। হাসপাতালে রোগীরা চিকিৎসা পান না, হাসপাতাল পরিচ্ছন্ন থাকে না, পানি থাকে না-এসব অভিযোগ যেন ছুটির সময়ে সাধারণ ঘটনা।
কিন্তু এবারের ঈদে হাসপাতালে কোনও চিকিৎসকের অনুপস্থিতিতে রোগীদের চিকিৎসা না পাওয়া মেনে নেওয়া হবে না বলে মন্ত্রণালয় এবং অধিদফতর থেকে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে বেশ কিছু পদক্ষেপও গ্রহণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন,এসব পদক্ষেপের ফলে এবারের নয়দিনের সরকারি ছুটিতে রোগীদের চিকিৎসাসেবায় কোনও অবহেলা কিংবা গাফিলতি হবে না।
ঈদের ছুটির সময় সরকারি হাসপাতালে যথাযথ চিকিৎসা অব্যাহত আছে কিনা তা তদারকি করতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদফতরে দু’টি পৃথক কন্ট্রোল রুম খোলা রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবারের মধ্যে হাসপাতালগুলোতে এই কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে যোগাযোগের ফোন নম্বর জানিয়ে দেওয়া হবে। গতকাল বুধবার স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম মন্ত্রণালয়ের এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেন।

বৈঠকে আরও সিদ্ধান্ত হয় ঈদের ছুটির সময়ে সব সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকদের রোস্টার ডিউটির মাধ্যমে দায়িত্ব পালন নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে হাসপাতালগুলোতে ২৪ ঘণ্টা জরুরি বিভাগ খোলার রাখারও সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয়ের বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, ঈদের এই ছুটির সময়ে দেশের সব সরকারি হাসপাতালে রোগীদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র, চিকিৎসক, নার্স এবং সুসজ্জিত অ্যাম্বুলেন্সসহ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সরঞ্জামাদি মজুদ করার নির্দেশ দিয়েছেন মোহাম্মদ নাসিম।এছাড়া,মহাসড়ক, রেল ও নৌ-পথে আকস্মিক দুর্ঘটনা মোকাবেলায় জরুরি চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করাসহ প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক, ওষুধপত্র ও সরঞ্জামাদি প্রস্তুত রাখার জন্যও সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন মন্ত্রী।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক অধ্যাপক ডা.খাজা আবদুল গফুর বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, চিকিৎসকদের বিশেষ এই রোস্টার আমরা করে ফেলেছি। রোস্টার অনুযায়ী কাজ করলে রোগীদের সেবা দানে কোনও অসুবিধা হবে না। আমরা প্রতিবছরই এভাবে কাজ করে থাকি। ঈদের দিন,পবিত্র শবে-কদর-এর পরদিন এবং দুই শুক্রবার ছাড়া প্রতিদিন বর্হিবিভাগে চিকিৎসাসেবা চালু রাখা হবে।

অধ্যাপক খাজা আবদুল গফুর আরও বলেন,আমরা এরই মধ্যে ঈদের সময়ে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার জন্য মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা পেয়েছি, সেই অনুযায়ী পুরো হাসপাতাল চলবে,যেটা আমরা বিগত বছরগুলোতেও করেছি। ছুটির এই বিশেষ সময়ে আমরা জনগণের স্বাস্থ্যসেবায় কখনও গাফিলতি করিনি,ভবিষ্যতেও এর ব্যতিক্রম হবে না।

অপরদিকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. উত্তম কুমার বড়ুয়া বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ১,৪,৫,৭,৮ জুলাই হাসপাতালের বর্হিবিভাগ বন্ধ থাকবে। তবে ২,৩,৬ এবং ৯ জুলাই খোলা থাকবে। জরুরি বিভাগ, ডেলিভারি খোলা থাকবে ২৪ ঘণ্টা। অপরদিকে নয় দিনের ছুটিতে দুই শনিবারে খোলা থাকবে ইনডোর, আউটডোর এবং সবধরনের অফিসিয়াল কার্যক্রম চলবে। আন্ত:বিভাগ এবং বর্হিবিভাগ এবং জরুরি বিভাগের জন্য আলাদা আলাদা চিকিৎসকদের রোস্টার থাকবে,যেন তারা নির্ধারিত সময়ে হাসপাতালে উপস্থিত হতে পারেন।

একইসঙ্গে সার্বক্ষণিকভাবে এই নয়দিনের ছুটিতে হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক, আবাসিক সার্জনসহ অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক এবং সহকারী অধ্যাপকের সমন্বয়ে একটি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক কমিটি গঠন করা হবে আগামীকাল বৃহষ্পতিবার, যারা পুরো সময়টাতে চিকিৎসার বিষয়টি মনিটর করবে এবং তারাও হাসপাতালে অন কলে থাকবেন যে কোনও জরুরি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করার জন্য, বলেন অধ্যাপক উত্তম কুমার।

ঈদের বন্ধের সময়ে হাসপাতালটির কিছু উন্নয়ন কাজও করা হবে জানিয়ে উত্তম কুমার বলেন, ঈদের ছুটির সময়ে স্বাভাবিকভাবেই রোগীর চাপ কিছুটা কম থাকে। তাই এই সময়ে আমরা হাসপাতালের কিছু উন্নয়ন কাজ করবো। এই সময়ে বিশেষ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন এবং জীবাণুমুক্ত অভিযান হবে হাসপাতালে। সে জন্য এরই মধ্যে দু’টি কমিটিও গঠন করা হয়েছে। হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার, নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) এবং পোস্ট অপারেটিভ রুমগুলো জীবাণুমুক্ত করা হবে। ওয়ার্ডগুলোতেও এই কার্যক্রম চলবে-এটা এই হাসপাতালের বিশেষ কর্মসূচি, বলেন অধ্যাপক উত্তম কুমার বড়ুয়া।

অপরদিকে, ঈদের ছুটির সময়ে রোগীদের চিকিৎসার কোনও ব্যতয় মানা হবে না বলেন স্বাস্থ্য অধিফতরের উপ-পরিচালক অধ্যাপক সাইদুর রহমান। ছুটির সময়ে বিশেষ কোনও নির্দেশনা অধিদফতর থেকে এখনও দেওয়া হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, মুসলিম অধ্যুষিত দেশ আমাদের, আমাদের সবারই পরিবার, সংসার রয়েছে। সাধারণ নিয়মে সব চললেও ঈদের এই সময়টাতে সাধারণত অন্য ধর্মাবলম্বী যারা রয়েছেন তাদেরকেই বেশি ডিউটিতে রাখা হয়। তবে যারা মুসলিম রয়েছেন তারাও যে ডিউটিতে থাকবেন না, তা নয়, সেখানে একটু সমঝোতা (নেগোসিয়েট) করে নেন চিকিৎসকরা নিজেরাই। তবে হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যাপারে কোনও ব্যতয় হবে না-এই ব্যাপারে আমরা অ্যাডামেন্ট-কারণ একজন চিকিৎসকের কাছে রোগী, হাসপাতাল এসবই সবার ওপরে স্থান পাওয়ার কথা। সরকার এ বিষয়ে কোনও ছাড় দিতে রাজি নয়, বলেন সাইদুর রহমান।  

আরও পড়ুন: রাজনৈতিক দলগুলোর ইফতারে বৈষম্য

/জেএ/এমএসএম/আপ-এআর/