গুলশান, বারিধারা ও বনানী থমথমে

গুলশান হত্যাকাণ্ডের পর ভয়ার্ত নাগরিকরাহলি আর্টিজান বেকারিতে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে রাজধানীর গুলশান, বারিধারা ও বনানী আবাসিক এলাকায়। এ কারণে শপিং সেন্টার ও মার্কেটগুলো তেমন জমেনি। রাস্তায় মানুষও কমে গেছে। শনিবার সকালে অভিযান শেষ হলেও সন্ধ্যা পর্যন্ত এ পরিস্থিতি দেখা যায়।

আবাসিক এলাকার শপিংমল ও মাকের্টগুলো শনিবার ক্রেতাদের ভিড় তেমন হয়নি। পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে এতদিন মার্কেটে মার্কেটে যে ব্যস্ততা দেখা গিয়েছিল, শনিবার ছিল তার উল্টো দৃশ্য। গুলশান সিটি করপোরেশন মার্কেটের ব্যবসায়ী আবদুর রউফ বলেন, সারাদিন তো এলাকার প্রবেশপথগুলো বন্ধ ছিল। লোকজন আসবে কিভাবে? এ ছাড়া হলি বেকারির ঘটনায় স্থানীয় লোকজনও আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। জরুরি কাজ না থাকলে কেউ ঘর থেকে বের হতে চাইছেন না। সড়কপথের ব্যারিকেড তুলে নিলে রবিবার থেকে মার্কেটগুলো আবারও জমবে বলে আশা তার। আগামী ৬ জুলাই বুধবার পবিত্র ঈদুল ফিতর পালিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

জানা গেছে, আবাসিক এলাকাগুলোর অধিকাংশ ব্যারিকেড শনিবার সন্ধ্যায় তুলে নেওয়া হয়েছে। তবে পুলিশি পাহারা অটুট রয়েছে। হলি আর্টিজান বেকারির চারদিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘেরাও করে রেখেছে।

গুলশান-বনানীর মার্কেটগুলো না জমলেও শনিবার দিনভর নগরীর নিউএলিফেন্ট রোড, মিরপুর রোড, নিউমার্কেট, বসুন্ধরা শপিংমল প্রভৃতি এলাকায় ক্রেতাদের ভিড় হয়েছে। তবে শনিবার তুলনামূলক কম ক্রেতার আগমন ঘটেছে বলে দাবি করেছেন বসুন্ধরা শপিংমলের ব্যবসায়ী মো. শাজাহান।

শুক্রবার রাত পৌনে নয়টায় গুলশান কূটনৈতিক এলাকার ৭৯ নম্বর সড়কের স্প্যানিশ রেস্তোরা ‘হলি আর্টিজান বেকারি’ দুষ্কৃতকারীদের হামলার শিকার হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের একটি দখল সেখানে গেলে দুষ্কৃতকারীরা গুলিবর্ষণ ও গ্রেনেড ছোড়ে। এতে পুলিশের  ডিবি’র সহকারী কমিশনার রবিউল করিম ও বনানী থানার ওসি সালাহউদ্দিন নিহত হন। এরপর দুষ্কৃতকারীরা সেখানে দেশি-বিদেশি নাগরিকদের রাতভর জিম্মি করে রাখে।  অন্তত ২০ জন বিদেশিকে গলাকেটে হত্যা করে। অবশেষে শনিবার সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে যৌথবাহিনী অভিযান চালিয়ে অবশিষ্ট জীবিতদের জিম্মিদশা থেকে মুক্ত করে। এ সময় এক জঙ্গিকে জীবিত আটক করে। সকাল  আটটা চল্লিশ শেষ হয় এ অভিযান।

ছবি: নাসিরুল ইসলাম

আরও পড়তে পারেন:  গুলশান হামলা দেশি-বিদেশি চক্রান্ত: প্রধানমন্ত্রী

/এমএনএইচ