গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলার ঘটনায় আহতরা চিকিৎসা নিচ্ছেন রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতাল এবং ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। আর উদ্ধার কার্যক্রম শেষ হবার পর নিহতদের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয়েছে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে। সেখানেই মরদেহ শনাক্ত করতে স্বজনদের ডেকেছেন কর্তৃপক্ষ।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর) গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলার ঘটনায় নিহত ২০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে ছয় হামলাকারীর মরদেহও। হামলার পর প্রাণ বাঁচাতে দেয়াল টপকে, ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ে আহত হয়েছেন হলি আর্টিজান বেকারির অনেক কর্মচারী।একইসঙ্গে শুক্রবার রাত থেকে হামলার শুরুতেই বন্দুকধারীদের গুলি এবং গ্রেনেডের আঘাতে আহত হয়েছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও। শুক্রবার রাতে মারা গেছেন পুলিশের দুজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা।
তবে মোট হতাহতের সংখ্যা কতোজন সেটা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। শুক্রবার রাতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাপসাতালে গুরুতর আহত অবস্থায় ভর্তি হন দুই পুলিশ কর্মকর্তাসহ একজন গাড়ি চালক আব্দুর রহমান রানা। তবে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, তারা বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত। এদিকে আজ শনিবার (২ জুলাই) বিকাল পৌনে ছয়টায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন গুলশান থানার সাব ইন্সপেকটর কবীর হোসেন। তিনিও আশঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের পরিচালক। কালরাত থেকে আজ বিকাল পর্যন্ত ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মোট ভর্তি হয়েছেন চারজন।
আর গতকাল রাত থেকে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ২৫ থেকে ২৬ জন পুলিশ সদস্য। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের কয়েকজন রিলিজ নিয়েছেন। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি আছেন ১৮ জন। তবে ভর্তি হওয়া সব পুলিশ সদস্যরাই আশঙ্কামুক্ত বলে বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন সেখানে কর্মরত পুলিশের সাব ইন্সপেকটর মো. গিয়াস। তিনিই সেখানে পুলিশ সদস্যদের দেখাশোনার দায়িত্বে রয়েছেন।
মো. গিয়াস বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ইউনাইটেড হাসপাতালে কেবল পুলিশ সদস্যদের ভর্তি করা হয়েছে এবং তারা আশঙ্কামুক্ত। এখানে, যার যতোদিন চিকিৎসা দরকার হবে তাকে ততোদিনই চিকিৎসা দেওয়া হবে।
আমেরিকার লসএঞ্জেলসে বসবাসকারী অবিন্তা কবীরের লাশও শনাক্ত করতে এখন সিএমএইচে অবস্থান করছেন তার পরিবার। এ তথ্য জানিয়েছেন এলিগেন্ট গ্রুপের এজিএম লিয়াকত হোসেন।অবিন্তা এলিগেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যানের কন্যা। শুধু লিয়াকত হোসেনই নন, মৃতদেহ শনাক্ত করতে এখন হলি আর্টিজান বেকারির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পরিবারের সদস্যরা জড়ো হয়েছেন সেখানে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, ময়নাতদন্ত শেষ হলে লাশ শনাক্তের জন্য তাদের ডাকা হবে, তখন মরদেহ হস্তান্তর করা হবে।
ছবি: নাসিরুল ইসলাম
এপিএইচ/
আরও পড়ুন:
জঙ্গিবাদ সংকটে সম্মিলিত প্রতিরোধ চায় রাজনৈতিকদলগুলো
‘হামলাকারী সাত-আট জন, তখন কাস্টমার ছিল প্রায় ২০ জন’
কমান্ডো অভিযানে মাত্র ১০ ঘণ্টার মধ্যে গুলশানে জিম্মি সংকটের অবসান: প্রধানমন্ত্রী