তিনদিন হলো মেয়ে মারা গেছে কিন্তু লাশ এখনও দেখেননি। বিরাশি বছরের জীবনে চার ছেলেমেয়ের মধ্যে একমাত্র মেয়ে ইশরাত আখন্দের ওপরই সব অভিমান মায়ের। লাশ আসতে আর আধঘণ্টা সময় লাগবে জানার পর থেকে তিনি একটু অস্থির হয়ে উঠলেন। বাড়ির সদস্যরা একটু কিছু মুখে দিতে অনুরোধ করলে বলেন, আমি কিচ্ছু খাব না, গলা দিয়ে নামবে না। এসময় কেউ একজন দু’টুকরো খেজুর এনে দিলে তিনি সেটা মুখে দেন, চোখে পানি গড়িয়ে পড়ছে।
সোমবার বেলা ১২টা ৪০ মিনিটে ইশরাতের মরদেহ উত্তরায় ১০ নম্বর সেক্টরের ভাইয়ের বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। ইশরাতের ভাইয়ের বাসায় গিয়ে দেখা যায়, তার বৃদ্ধা মা ছোটবেলার ইশরাতকে নিয়ে নানা অভিজ্ঞতা সবার সঙ্গে শেয়ার করছেন। কিন্তু ইশরাতের লাশ এসে পৌঁছার পর তিনি সবাইকে বলেন বাইরে যেতে।
এসময় কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ঘটনার পরদিন আমার ইশরাতের শ্রীলঙ্কা যাওয়ার কথা ছিলো।ও রোজার সময়টা নানা দেশে ঘুরতে যেত, অন্য সময়তো ছুটি পেত না তেমন। এবার যে কেন গেল না।
ইশরাতের ভাই ইউসুফ আখন্দ বলেন, ইশরাতকে প্রথমে পেছন থেকে দেখে চিনতে পারা যায়নি, পরে উল্টোদিক থেকে দেখে চেনা গেছে। তাকে গুলি করা হয়েছে বলেই জেনেছি। কোপানো বা জবাইয়ের চিহ্ন নেই।
তিনদিনে গোসল করানো হয়নি জানতে চাইলে স্বজনদেরে একজন বলেন, আমাদের জানানো হয়েছে গোসল করানো সম্ভব হয়নি, শরীর ধুয়ে দেওয়া হয়েছে কিন্তু সেটা ‘লাশের প্রপার গোসল’ না। মেয়েটা কষ্ট পেয়ে মরলো, মরেও কষ্ট পেলো তিনদিন। এটা ওর প্রাপ্য ছিল না।
এদিকে, ইশরাতের বন্ধুরা এসেছেন ছুটে উত্তরায় ভাইয়ের বাসায়। তারা বলেন, ও এতো গোছালো একটা মেয়ে। নিজের কাজ ছাড়া কিছু বুঝতো না। সেই মেয়েকে এভাবে চলে যেতে হবে ভাবতে পারি না। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে আমরা যেমন স্বজন হারিয়েছি, তেমনি হারিয়েছি আমাদের নিরাপত্তাবোধ। কে শুনবে আমাদের কথা।
মৃতদেহ ময়নাতদন্তের পর গতকাল রবিবারই হস্তান্তর করা হবে জানানো হলেও পরে সিএমএইচ থেকে স্বজনদের আজ সকাল ১০টায় আর্মি স্টেডিয়ামে আসতে অনুরোধ জানানো হয়। গুলশানে জঙ্গি হামলার রক্তাক্ত সমাপ্তি হয়েছে। তবে এখনও শোক কাটিয়ে উঠতে পারেনি জাতি। সরকার ঘোষিত দুই দিনের রাষ্ট্রীয় শোকের আজ চলছে দ্বিতীয় দিন।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় জঙ্গি হামলায় বিদেশি নাগরিকসহ ২২ জন নিহত হন।
- প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরে কাঁদলেন ইতালির রাষ্ট্রদূত
- ৭৯ নাম্বার সড়কের মুখে শোকের দ্বিতীয় দিনেও শ্রদ্ধা নিবেদন
/এমও/এজে