এসি রবিউলের মা

ওদের এখন কে দেখবে?


রবিউলের মাআমার দুইটা ছেলে ছিল। ছাত্র থাকতেই ওদের বাবা মারা যায়। অনেক কষ্টে ওদের লেখাপড়া শিখাইছি। লেখাপড়া শেষ করে চাকরিতে এলো। ভাবলাম, আমার দুঃখের দিন শেষ হলো। কিন্তু দুঃখের দিন ঘুঁচতে না ঘুঁচতেই আমার ছেলেটা চলে গেল। দেশের জন্য প্রাণ দিলো, আমার ছোট ছেলেটার মাথার ওপর থেকে ছায়াটাও উঠে গেল। এখন আমাদের কে দেখব, কেউতো রইলো না, কী হবে এখন! কান্নাভরা কণ্ঠে কথাগুলো বলেন গুলশানে হামলাকারীদের বোমায় নিহত গোয়েন্দা পুলিশের এসি রবিউল করিমের মা।
সোমবার গুলশান হামলায় নিহতদের শ্রদ্ধা জানানো হয় আর্মি স্টেডিয়ামে। সেখানেই ছোট ছেলে সামসুজ্জামান ও নিহত রবিউলের শিশুপুত্রকে নিয়ে হাজির হন তিনি। বসে ছিলেন একটি চেয়ারে, শুধু চোখ থেকে পানি পড়ছিল, কথা বলছিলেন ধীরে ধীরে।
নিহত রবিউল ইসলামের মা বলেন, আমার একটি নাতি আছে, আর একজন আসতেছে আগস্ট মাসে। ওদের কে দেখবে, কে ওদের দেখে রাখবে। বলেই কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।
তিনি বলেন, আমার ছেলেবউ আর আমার ছোট ছেলেটার কী হবে? ওর স্কুলটার কী হবে? এদের সবার ভবিষ্যৎ আল্লাহর ওয়াস্তে সরকারের হাতে তুলে দিলাম, যা করার উনিই করবেন।
রবিউলের ছোট ভাই ও ছেলেতিনি বলেন, সরকারের কাছে আবেদন করছি, আমরা যেন একটু বাঁচতে পারি সে ব্যবস্থা যেন তারা করেন। আমার ছেলেবউ বা ছোট ছেলেটির যেন একটি কাজের ব্যবস্থা সরকার করে দেয়, নয়তো আমরা মরে যাবো।
রবিউল ইসলামের মা যখন এসব কথা বলছেন, পাশেই ভাইয়ের ছেলে সাজিদুল করিমকে কোলে নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন রবিউলের ছোট ভাই সামসুজ্জামান।
তিনি বলেন, ভাইয়ার এই ছেলেটি ছিল খুবই চঞ্চল, হাতে মুখে কথা বলতো, বাবা ছাড়া কিছুই বুঝতো না। কিন্তু ভাইয়ার দাফনের পর থেকেই সে একেবারেই চুপ হয়ে গেছে। ঠিকমতো খাচ্ছেও না, কথাও বলছে না। মাঝে মাঝে শুধু বলে, বাবা সেদিন (দাফনের দিনে) তার সঙ্গে কথা বলেনি কেন।
উল্লেখ্য, গত ১ জুলাই দিবাগত রাতে গুলশান হামলায় নিহত হন গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার রবিউল ইসলাম। বন্ধুদের কাছে যিনি রবি কামরুল নামেই পরিচিত ছিলেন।
গত শনিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে মানিকগঞ্জের কাটি গ্রামে নেওয়া হয় তার মরদেহ। আর মরদেহ বাড়ি পৌঁছার পর বৃষ্টি উপেক্ষা করে হাজারো জনতা সেখানে ভিড় জমান। রাত ১১টার দিকে তৃতীয় জানাজা শেষে লাশ দাফন করা হয়। জানাজা হয় তার মাধ্যমিক বিদ্যাপীঠ আটিগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে।

এজে/