‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত রাশেদ ও নবী এতদিন ছিলেন কোথায়!

বন্দুকযুদ্ধএসপি বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খাতুন মিতু হত্যায় সন্দেহভাজন রাশেদ ও নবীকে গত ২৩ জুন চট্টগ্রামের বোয়ালখালীর একটি জায়গা থেকে একইসঙ্গে আটক করা হয়েছিল বলে দাবি করে আসছিল তাদের উভয়ের পরিবার। কিন্তু পুলিশ তা বারবারই অস্বীকার করেছে। এরমধ্যে এদের সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে ঘোষণা করে যাতে তারা দেশ ছেড়ে পালাতে না পারে সেজন্য স্থল ও বিমানবন্দরগুলোতে সতর্কতা নোটিশও জারি করে পুলিশ। আর আজ ৫ জুলাই মঙ্গলবার এই দুজন সন্দেহভাজন ‘কথিত বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন বলে পুলিশের পক্ষ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় একটি প্রশ্ন সামনে এসেছে: এই দুই সন্দেহভাজন তাহলে ছিলেন কোথায়?
এদিকে এ কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধের’ ঘটনায় আসল ঘটনা আরও চাপা পড়ে যাওয়ার শঙ্কা করছেন অপরাধবিশ্লেষকরা। সব মিলিয়ে এই ‘বন্দুকযুদ্ধ’ মিতু হত্যার জট খোলার চেয়ে আরও ঘনীভূত করবে বলেই আশঙ্কা করছেন তারা।
গত ৫ জুন নগরীর জিইসি মোড়ে বাসার কাছে খুন হন পুলিশ কর্মকর্তা বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত পাঁচ জনকে আটক করা হয়েছে এবং সন্দেহভাজন মূল হোতা মুসা শিকদারসহ  রাশেদ ও নবী নামের আরও তিনজন এখনও পলাতক রয়েছে বলে জানিয়েছিল পুলিশ। যদিও তাদের তিন পরিবারেরই দাবি এদের পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
গত শনিবার সকালে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রাশেদের বাবা আহমদ হোসেন দাবি করেছেন, গত ২৩ জুন ভোর সাড়ে ছয়টায় বোয়ালখালীর মিলিটারি পুল এলাকার এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে রাশেদ ও  আবদুল নবী নামের দুইজনকে পুলিশ ধরে নিয়ে আসে। তিনি বলেন, যে বাড়ি থেকে তাদের ধরা হয় সেই বাড়ির লোকজন বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে আমাদের জানান।

গত ২৯ জুন পুলিশ রাশেদসহ অন্যরা যাতে দেশ ছেড়ে পালাতে না পারে সেই জন্য সতর্কতা জারি করার পর পরিবারের সদস্যরা চিন্তিত হয়ে পড়েন। আহমদ হোসেন শনিবার প্রশাসনিক সহায়তা দাবি করে বলেন, রাশেদকে যেন আদালতে সোপর্দ করা হয়, আমরা তার সন্ধান চাই। সংবাদ সম্মেলনের দুইদিন পর আজ মঙ্গলবার ভোর রাত সাড়ে ৩টার দিকে রাঙুনিয়ায় সন্দেহভাজন রাশেদ (২৯) ও নবী (২৮) বন্দুকযুদ্ধে মারা যান বলে দাবি করেছে পুলিশ।

পুলিশের হাতে আটক রাশেদের সন্ধান দাবি করে সংবাদ সম্মেলনঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ড. জিয়া রহমান বলেন, আমরা এই ঘটনাটি জানার আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছি। একেকটি অপরাধীর মৃত্যু আমাদেরকে ঘটনা থেকে দূরে নিয়ে যাবে বলে শঙ্কা আছে। তিনি আরও বলেন, এই আসামিদের মাধ্যমে জঙ্গিরা কোন পথে তাদের টার্গেট বিস্তৃত করছে সেসব তথ্যও বেরিয়ে আসতে পারতো। কিংবা আদৌ এ গোষ্ঠী জঙ্গি ছিল কিনা সেটা বেরিয়ে এলে দেশের এই ক্রান্তিকালে তা বেশ কাজে লাগতে পারতো।

এদিকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মানবাধিকারনেত্রী সুলতানা কামাল মামলার সন্দেহভাজন বা আসামিদের বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে বলেন, আমরা যেকোনও ধরনের বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে কথা বলে আসছি দীর্ঘদিন ধরে। এধরনের কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ আসামিরা মারা যাওয়ার কারণে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ মামলায় আমরা প্রকৃত ঘটনা থেকে দূরে থেকে যাই। যাদের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে ঘটনার কেন্দ্রে পৌঁছানো সম্ভব তাদেরকে যদি ধরা না যায় সেক্ষেত্রে একদিকে যেমন ঘটনা ঘুরে যাওয়ার শঙ্কা থাকে, অন্যদিকে সভ্য সমাজে বিচারের মধ্য দিয়ে সাজা পাওয়ার যে প্রক্রিয়া সেটা বিঘ্নিত হয়।  

সদ্যবিদায়ী মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান মনে করেন, বিচার বিভাগের কাজ সরকারের নির্বাহী বিভাগ করলে বিচার বিভাগ গুরুত্বহীন হয়ে পড়ে। তিনি বলেন, যেসব মামলার দিকে জনগণ নজর রাখে, জানতে চায় কী ঘটেছিল সেসব ক্ষেত্রে যদি এধরনের ‘বন্দুকযুদ্ধে’ আসামি মারা যায় তাহলে দেশে আর বিচারক বা আদালতের প্রয়োজন থাকে না। এটা কখনোই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে ঘটতে পারে না। এটা মানাও যায় না।

/টিএন/

আরও পড়ুন:

বৃহস্পতি ছুঁয়েছে নাসার মহাকাশযান ‘জুনো’  

মিতু হত্যার দুই আসামি ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত

দেশে ফিরলো ৭ জাপানির নিথর দেহ

নিহতদের লাশ নিতে ঢাকায় ইতালির উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী

এটিএম বুথে টাকার সংকট এখনই, ব্যাংক খুলবে ৫ দিন পর

ময়মনসিংহে বাস-পিকআপ সংঘর্ষ, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭

‘ও আমার ছেলে হতে পারে না’