পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, সোমবার নিহতদের পরিবারের সদস্যদের শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় জাপানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে আমি সার্বক্ষণিক উপস্থিত ছিলাম। তাকে বলেছি, জাপান বাংলাদেশের জন্য একটি বন্ধুপ্রতীম এবং নির্ভরশীল রাষ্ট্র। বাংলাদেশের জনগণ জাপানের জনগণকে সবসময় উপকারী বন্ধু হিসেবেই পেয়েছে। বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় জাপানের অবদানকে বাংলাদেশের জনগণ কখনই ভুলেনি। এমনকি জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের বিশেষ আমন্ত্রণে আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ২৬ থেকে ২৯ মে জাপান সফর করেন। বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে ভৌত অবকাঠামো, যোগাযোগ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও শিল্প প্রভৃতি ক্ষেত্রে সহযোগিতার নতুন দ্বার উন্মোচিত হচ্ছে। দু’দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এ সময় জাপানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আমাকে নিশ্চিত করে বলেন, বাংলাদেশে জাপানের উন্নয়ন কার্যক্রম আগের মতোই অব্যাহত থাকবে। তখন জাইকার সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্টও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। আজ সকালে মরদেহবাহী বিমানটি টোকিওতে পৌঁছালে জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও অন্যান্যরা তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং সেখানে আমাদের রাষ্ট্রদূত উপস্থিত ছিলেন। জাপানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ঘটনা মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাহসী নেতৃত্বের প্রশংসা করেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, আজ সকালে ইতালির সফররত উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারিও জাইলোর সঙ্গে আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করি এবং বৈঠক করি। এ সময় পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রীর দিক নির্দেশনা ও শোক দিবস উদযাপনের প্রশংসা করেন তিনি। সফররত মন্ত্রী জানান, এ ঘটনা দু’দেশের সম্পর্ককে আরও জোরদার করবে। কারণ সন্ত্রাসবাদ কখনই সম্পর্কে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না। এ ঘটনা দু’দেশকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে অনুপ্রেরণা যোগাবে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে এ ধরনের ঘটনা প্রথমবারের মতো সংঘটিত হয়েছে। এই সন্ত্রাস মোকাবেলায় গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানে দু’দেশ একসঙ্গে কাজ করবে। যাতে অন্যান্য মুসলিম দেশগুলোর মতো সার্বক্ষণিক সন্ত্রাসবাদের সমস্যায় পড়তে না হয়। তার জবাবে আমি বলি এ ঘটনা পুরো দেশবাসীকে স্তম্ভিত করেছে। ইতালির সরকার ও জনগণের জন্য এটি একটি কঠিন সময়। রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও বাংলাদেশের সর্বস্তরের জনগণসহ সবাই এ কাপুরুষোচিত ও বর্বরোচিত হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী এ ধরনের ঘটনার প্রতি জিরো টলারেন্স নীতির ভিত্তিতে ঘটনার পুনরাবৃত্তিরোধে সর্বাত্মক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।
ইতালির মন্ত্রী এ ধরনের সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় গ্লোবাল কমন স্টাটেজি প্রণয়নের তাগিদ দেন। তিনি আরও বলেন, বর্তমান সময়ে ইন্টারনেট ও সোশ্যাল মিডিয়ার কল্যাণে সন্ত্রাসবাদ ও রেডিকেলাইজেশন ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশে এ ধরনের প্রথম ঘটনা ঘটেছে। এই শোক কাটিয়ে উঠে আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি মোকাবেলার চেষ্টা করছে। যেকোনও আন্তর্জাতিক সহযোগিতাকে বাংলাদেশ স্বাগত জানাতে প্রস্তুত রয়েছে। এর আগে জাপানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। এছাড়া জাপানের প্রধানমন্ত্রী, ভারতের প্রধানমন্ত্রী ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে তাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে টেলিফোনে আলাপ করে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।
/জেইউ/ এএইচ /
আরও পড়ুন-
নিরাপত্তা নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে চরম উদ্বেগ জানিয়েছেন কূটনীতিকরা