গুলশান হামলাকারীদের প্রশংসা এবং আরও হামলার হুমকি

আইএস-এর বাংলাদেশি এই তিন তরুণের পরিচয় কী?

গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলাকারীদের প্রশংসা করে ভবিষ্যতে বাংলাদেশে আরও হামলার হুমকি দেওয়া তিন বাংলাদেশি তরুণের মধ্যে দুইজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। শুক্রবারের হামলার পরপর সাইট ইনটেলিজেন্সের টুইটার একাউন্ট থেকে ৫ হামলাকারীর ছবি প্রকাশের পরপরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম তাদের পরিচয় প্রকাশ করেছিল। আবারও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেই নতুন করে হুমকিদাতা তিন তরুণের ভিডিও দেখে দুইজনকে শনাক্ত করা গেছে বলে দাবি উঠেছে।  বাকি একজনের মুখ ঢাকা থাকায় তাকে শনাক্ত করা যায়নি। তবে সে স্পষ্ট বাংলায় কথা বলছে।


সিরিয়ার আর-রাকায় অবস্থানরত হুমকিদাতা ৩ বাংলাদেশি আইএস সদস্য (বাম থেকে) তাহমিদ রহমান সাফি, তওসিফ হাসান, তৃতীয়জন অজ্ঞাত
প্রাথমিকভাবে শনাক্তকৃত দুইজনের মধ্যে একজন তাহমিদ রহমান সাফি বলে দাবি করেছেন একাধিক ফেসবুকধারী। এমনকি যারা ক্রাইম স্ট্র্যাটেজি নিয়ে কাজ করেন তারাও ছবির এই তরুণ তাহমিদ হওয়ার সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দিচ্ছেন না। ফেসবুক পোস্টে বলা হচ্ছে, এই ব্যক্তি সাংস্কৃতিক জগতে একসময়ের পরিচিত মুখ এবং  ঢাকা শহরের ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সে লেখাপড়া করেছে। এদিকে ভিডিওতে কথা বলছে এমন দ্বিতীয়জন তওসিফ হাসান দেশের একটি ঐতিহ্যবাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিল বলে দাবি করা হচ্ছে।
তাদের দুজনের পরিচয় ফেসবুকে প্রকাশ করে লেখা হয়েছে- এখন এরা আইএস জঙ্গি! গণতান্ত্রিক সরকারকে এরা তাগুদি সরকার মনে করে। এরা এখন খেলাফত প্রতিষ্ঠার নামে দুনিয়াকে নরক বানানোর স্বপ্নে বিভোর!
মঙ্গলবার এক ভিডিওবার্তায় তিনজনকে শুক্রবারের হামলা সম্পর্কে বক্তব্য দিতে শোনা যায়। এদের একজন ইংরেজিতে এবং দুইজন বাংলা কথা বলে। সাইট ইনটেলিজেন্ট গ্রুপের ওয়েব সাইট দাবি করেছে, হুমকিদাতারা সিরিয়ার আর-রাকায় অবস্থানরত তিনজন বাংলাদেশি আইএস সদস্য।
তওসিফ-তাহমিদ (ফেসবুক থেকে নেওয়া স্ক্রিনশট)

ভিডিওতে আরবির সঙ্গে বাংলা তর্জমাও দেওয়া আছে। এবং পুরো ভিডিওতে বিভিন্ন স্থানে আইএস- এর হামলার নমুনার পাশাপাশি ঢাকার গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারির ছবিও দেওয়া হয়েছে, যেখানে সমালোচনা করা হয়েছে বাংলাদেশের সরকার ও গণতন্ত্রের। বাংলাদেশি তরুণ যাকে আইএস বলে দাবি করা হয়েছে, সে শরিয়া আইনকে নিজেদের মতো করে ব্যাখ্যা দিয়েছে- ‘‘গণতন্ত্র ‘শিরক’ মতবাদ, এতে আস্থা রাখতে নেই। এই জিহাদকে বন্ধ করতে পারবে না যতক্ষণ পর্যন্ত না আমরা জয়ী হই, আর তোমরা পরাজিত হও। ’’
গুলশানের হামলাকারীরা ইতিহাস সৃষ্টি করেছে উল্লেখ করে আরেক ব্যক্তি ভিডিওতে বলে, সে গর্বিত। এই ভিডিও প্রকাশিত হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের ছবি শেয়ার দিয়ে তাদের পরিচয় খোঁজা শুরু হয়। শিক্ষক অভিন্যু কিবরিয়া লিখেছেন, আইএস -এর ভিডিওতে বয়ানকারী প্রথম ব্যক্তির পরিচয় তিনি তার ছোটবোনের (একজন শিল্পী) কাছ থেকে জেনেছেন। তারপর সেই প্রোফাইলে যাওয়ার চেষ্টা করে ডিএক্টিভেটেড পান। তিনি লিখছেন, তার নামে সার্চ দিয়ে একটা পেজ পেলাম, যেখানে তার কাছ থেকে নিয়ে আল কায়েদা নেতার বক্তব্য শেয়ার করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার (১ জুলাই) রাতে গুলশান ২-এর ৭৯ নম্বর সড়কের হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা চালায় জঙ্গিরা। এতে ২ পুলিশ সদস্য, ১৭ বিদেশি নাগরিক ও ৩ বাংলাদেশি নিহত হন। পরে কমান্ডো অভিযানে ৬ জঙ্গি নিহত হয় বলে শনিবার সেনা সদরে এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। অভিযানে জীবিত উদ্ধার করা হয় ৩ বিদেশিসহ ১৩ জিম্মিকে। এছাড়া ১ জনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়।
/ইউআই/এপিএইচ/আপ-এমও

আরও পড়ুন:

গুলশানে হামলাকারীদের প্রশংসায় আইএস-এর ভিডিওবার্তা: বাংলাদেশে আরও হামলার হুমকি

গুলশান হামলার তদন্ত প্রক্রিয়ায় সহায়তা দিচ্ছে ভারত

গুলশান হামলায় গর্ভের সন্তানও রেহাই পায়নি!