শুক্রবারের হামলার পরপর সাইট ইনটেলিজেন্সের টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে ৫ হামলাকারীর ছবি প্রকাশের পরপরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের পরিচয় বের হয়েছিল। আবারও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেই নতুন করে হুমকিদাতা তিন তরুণের ভিডিও দেখে দু’জনকে শনাক্ত করা গেছে। তাদের মধ্যে তাহমিদ জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো ক্লোজআপ ওয়ানের প্রতিযোগী বলে চিহ্নিত করেছেন তার পরিচিতজনেরা। তার পিতা শফিউর রহমান ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত চারদলীয় জোট সরকারের আমলে নির্বাচন কমিশনার ছিলেন। ফেসবুকে এ নিয়ে একাধিক পোস্টে দাবি করা হয়েছে। তবে তাহমিদের কোনও অ্যাকাউন্ট পাওয়া যায়নি। তার নাম দিয়ে সার্চ দিলে যে পেইজ আসে সেখানে দেখা গেছে তার কাছ থেকে নিয়ে অন্যরা আল কায়েদা নেতার বক্তব্য শেয়ার করেছে।
সাফির আগের ছবি এখনকার ছবির সঙ্গে মিলিয়ে তার কাছের মানুষরা তার পরিচয় নিশ্চিত করেন। তবে সে কোথায় ছিল এ বিষয়ে কেউই জানতেন না। অনলাইনে পাওয়া সাফি’র সিভি অনুযায়ী তার ঠিকানা বারিধারা এবং গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি স্কুল থেকে এসএসসি এবং নটরডেম কলেজ থেকে এইচএসসি পড়া শেষ করে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে গ্র্যাজুয়েশন কমপ্লিট করেছে।
তাদের দুজনের পরিচয় ফেসবুকে প্রকাশ করে তার এক বন্ধু লিখেছেন- কোথায় দাঁড়িয়ে আছি আমরা। যে ছেলে এভাবে গান করতে পারে সে কীভাবে এসব হত্যাকাণ্ডে আনন্দ পেতে পারে? আরেক ফেসবুক বন্ধু তাদের পরিচয় জানিয়ে লিখেছেন, এখন এরা আইএস জঙ্গি! গণতান্ত্রিক সরকারকে এরা তাগুদি সরকার মনে করে। এরা এখন দুনিয়াকে নরক বানানোর স্বপ্নে বিভোর!
জঙ্গিবাদ নিয়ে গবেষণা করছেন প্রবাসী নির্ঝর মজুমদার। তিনি ভিডিও দেখার পর বলেন, আইসিসের ভিডিওতে আহমেদ সাফি নামের যে ছেলেকে নিয়ে তোলপাড় হচ্ছে, সেই ছেলেও গ্রামীণফোনেই চাকরি করতো। তবে কোন পদে বা কীসে চাকরি করতো সেটা জানতে পারিনি এখনও।
ফেসবুকের একটি গ্রুপ আরেক ভিডিও বার্তাধারী তাওসিফ হাসান বলে নিশ্চিত করলেও সিটি ডেন্টাল কলেজের একটি গ্রুপ দাবি করেছে এর নাম আরাফাত। সে দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ রয়েছে।
তাওসিফ হাসান বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল থেকে ও লেভেল এবং এ লেভেল শেষ করে। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ’র শিক্ষার্থী ছিল। তার ফেসবুক পোস্ট থেকেই দেখা যায় গত ২০১৪ সাল থেকে তার বন্ধুরা যোগাযোগ করতে চেয়েও ব্যর্থ হয়েছেন। তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে গিয়ে দেখা যায়, তাওসিফ ২০১৩ সালে হেফাজতের তাণ্ডবের সময় প্রপাগাণ্ডা হিসেবে শতশত লাশের যে বানানো ছবি অনলাইনে প্রচার করা হয়েছিল সেটা শেয়ার করেছিল এবং সরকার যে কোনওভাবে সংখ্যা কমানোর চেষ্টা করবে এবং তখনকার পরিস্থিতির ভুল বিবরণ দিয়ে ও অতিরঞ্জিত করে পোস্ট দিয়েছিল।
প্রকাশিত ভিডিওতে তাওসিফ গুলশানে হামলাকারীরা ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন বলে উল্লেখ করে শুকরিয়া আদায় করতে ‘জাজাকাল্লা খায়ের’ বলে। তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে নানা পোস্টে এই শব্দটি একাধিকবার পাওয়া যায়। তবে ফেসবুকে মঙ্গলবার এক ভিডিওবার্তায় তিনজনকে শুক্রবারের হামলা সম্পর্কে বক্তব্য দিতে শোনা যায়। তৃতীয়জনের মুখ ঢাকা থাকায় পরিচয় পাওয়া যায়নি।
ভিডিওতে আরবির সঙ্গে বাংলা তর্জমাও দেওয়া আছে। পুরো ভিডিওতে বিভিন্ন স্থানে আইএস এর হামলার নমুনার পাশাপাশি ঢাকার গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারির ছবিও দেওয়া হয়েছে যেখানে সমালোচনা করা হয়েছে বাংলাদেশের সরকার ও গণতন্ত্রের। বাংলাদেশি তরুণ যাকে আইএস বলে দাবি করা হয়েছে সে শরিয়া আইনকে নিজেদের মতো করে নেওয়ার সমালোচনা করেছে। গণতন্ত্র ‘শিরক’ মতবাদ, এতে আস্থা রাখতে নেই।এই জিহাদকে বন্ধ করতে পারবে না যতক্ষণ পর্যন্ত না আমরা জয়ী হই আর তোমরা পরাজিত হও।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার (১ জুলাই) রাতে গুলশান-২-এর ৭৯ নম্বর সড়কের হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা চালায় জঙ্গিরা। এতে দুই পুলিশ সদস্য, ১৭ বিদেশি নাগরিক ও তিন বাংলাদেশি নিহত হন। পরে কমান্ডো অভিযানে ৬ জঙ্গি নিহত হয় বলে শনিবার সেনা সদরে এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। অভিযানে জীবিত উদ্ধার করা হয় তিন বিদেশিসহ ১৩ জিম্মিকে। এছাড়া এক জনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়।
/ইউআই/এপিএইচ
আরও পড়ুন:
গুলশানে হামলাকারীদের প্রশংসায় আইএস-এর ভিডিওবার্তা: বাংলাদেশে আরও হামলার হুমকি