বায়তুল মোকাররম, জাতীয় ঈদগাহ এবং রাজধানীর অন্যান্য মসজিদসহ সারাদেশের মসজিদ ও ঈদগাহগুলোতে বৃহস্পতিবার ঈদ জামাতের আগে দেওয়া বক্তব্যে কোরআন ও হাদীসের আলোকে জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদবিরোধী বক্তব্য দিয়েছেন ইমামরা। বাংলাদেশসহ গোটা বিশ্বের মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সুখ ও সমৃদ্ধি এবং জঙ্গি ও সন্ত্রাসীদের হেদায়েত কামনায় মোনাজাত করেছেন তারা।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে আটটায় কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে পবিত্র ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয় জাতীয় ঈদগাহে। প্রধান জামাতে ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ মিজানুর রহমান। নামাজের আগে বয়ানে মাওলানা মুহাম্মদ মিজানুর রহমান ইসলামে একে অপরের প্রতি ভালোবাসা ও মমত্ববোধ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
জামাতের আগে দেওয়া বক্তব্যে মাওলানা মিজানুর রহমান বলেন, ইসলামের শিক্ষা হচ্ছে ভালোবাসাবোধ বজায় রেখে একে অপরের প্রতি মানুষ সহানুভূতিশীল থাকবে। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। অন্যায় অনাচারের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে।
মহানবী (সা.) এর সময়ে খন্দকের যুদ্ধের একটি কাহিনী উল্লেখ করে মাওলানা আসআদ বলেন, ইহুদি ও বিধর্মীদের সৃষ্ট জঙ্গিরা ইসলাম ও জিহাদের নামে নিরীহ মানুষ হত্যা করছে। না হয় মদিনার মতো পবিত্র নগরীতে কিভাবে বোমা ফাটায়, যেখানে আল্লাহর রাসুল স্বয়ং জীবিত শুয়ে আছেন।
জঙ্গি ও সন্ত্রাসীদের সুপথে ফিরে আসা ও হেদায়েতের জন্য দোয়া করে অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে বলেন, নিজেদের সন্তানদের প্রতি নজর রাখুন। তাদেরকে বিজ্ঞ আলেমদের কাছে নিয়ে যান।
এছাড়াও রাজারবাগ পুলিশ লাইন মাঠ, মোহাম্মদপুরের জামে মসজিদ, আলফালাহ মসজিদ, আজিমপুর জামে মসজিদ, সোবহানবাগ জামে মসজিদ, গণভবন মসজিদ, বনানী জামে মসজিদ, গুলশান আজাদ মসজিদ, শুক্রাবাদ জামে মসজিদসহ বিভিন্ন মসজিদের ইমামরা তাদের বক্তব্যে জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কোরআন ও হাদীসের আলোকে যুক্তিনির্ভর বক্তব্য তুলে ধরেন। তারা বলেন, কোনও কারণ ছাড়া নিরীহ মানুষদের ওপর অন্যায়ভাবে হামলা চালানো কখনও ইসলাম সমর্থন করেনা। অন্য ধর্মের মানুষের ওপরও হামলা করা ইসলাম নিষিদ্ধ করেছে।
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদে পর্যায়ক্রমে ৫টি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম জামাত সকাল ৭টায়, দ্বিতীয় জামাত সকাল ৮টায়, তৃতীয় জামাত সকাল ৯টায়, চতুর্থ জামাত সকাল ১০টায় এবং সর্বশেষ জামাত সকাল পৌনে ১১টায় অনুষ্ঠিত হয়। এসব ঈদ জামাতে ইমামতি করেন, মুফতি মুহিবুল্লাহিল বাকী নদভী, ড. মাওলানা মুশতাক আহমাদ, মুহাদ্দিস মাওলানা ওয়ালিয়ুর রহমান খান, মাওলানা মুহাম্মদ আবদুর রব মিয়া আল বাগদাদী ও মুফতি মাওলানা মোহাম্মদ আবদুল্লাহ।
জাতীয় ঈদগাহে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে ঈদ জামাতে অংশ নেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। এসময় রাষ্ট্রপতির পাশে বসে ঈদ জামাতে অংশ নেন ঢাকা দক্ষিণের মেয়র সাঈদ খোকন, ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, রাজনীতিবিদগণ। এছাড়াও সব শ্রেণি-পেশার মানুষ ঈদের এই প্রধান জামাতে অংশ নেন।
আলাদা ব্যবস্থায় ঈদের জামাতে অংশ নিয়েছেন নারীরাও। ঈদ জামাত উপলক্ষে এবার বাড়তি সতর্কতা নিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। মেটাল ডিটেক্টর ছাড়াও জাতীয় ঈদগাহ মাঠের পুরো অংশ ডগ স্কোয়াড দিয়ে তল্লাশি করা হয়েছে। মাঠ ও এর আশেপাশে স্থাপন করা হয় সিসিটিভি। সার্বিক নিরাপত্তায় পুলিশের পাশাপাশি দায়িত্ব পালন করেছেন র্যা ব, সোয়াত, এপিবিএনসহ গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে নামাজ শুরু হয়ে শেষ হয় ৮টা ৩৬ মিনিটে। নামাজের মোনাজাতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের রুহের মাগফিরাত কামনা করা হয়। পাশাপাশি দেশের জন্য যারা প্রাণ দিয়েছেন তাদের জন্য দোয়া চাওয়া হয়। এসময় রাষ্ট্রপতিসহ দেশের জনগণ ও মুসলিম উম্মাহর দীর্ঘায়ু ও উন্নতির জন্যও দোয়া করা হয়।
রাজধানির লালবাগ থেকে সন্তানসহ জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে নামাজ পড়েছেন রফিকুল আলম। তিনি বলেন,এখানে প্রধান জামাত হয় অনেক মানুষ এক সঙ্গে নামাজ পড়া যায়, তাই এখানে নামাজ পড়তে আসি। দোয়া করেছি নিজের ও দেশের শান্তির জন্য।
অন্যবারের চেয়ে অনেক বেশি লোক সমাগম হয়েছে ঈদগাহে। ভেতরে জায়গা না পেয়ে বাইরের রাস্তার ওপরেই জামাতে অংশ নেন অসংখ্য মানুষ। দক্ষিণে শিক্ষাভবন, উত্তরে মৎস্য ভবন ও পূর্বে প্রেসক্লাবের গেট পর্যন্ত এই ঈদ জাতীয় ঈদগাহ ময়দানের আশেপাশে ছিলেন অনেক বিদেশি ফটো সাংবাদিকসহ অনেক বিদেশি সাংবাদিকদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। যা আগের ঈদ জামাতগুলোতে কখনও দেখা যায়নি।
এদিকে পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স মাঠে ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেন। একইসঙ্গে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের প্রধানরা, ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা, পুলিশ সদস্যরা এবং বিপুল সংখ্যক মুসল্লিও সেখানে ঈদের নামাজ আদায় করেন।
ছবি: নাসিরুল ইসলাম
/সিএ/জেইউ/এপিএইচ/আপ-এমও