বৃহস্পতিবার সকাল সাতটার আগে প্রায় এক ডজন বিদেশি ফটোসাংবাদিক (নারী ও পুরুষ) জাতীয় ঈদগাহ ময়দানের কদম ফোয়ারা সংলগ্ন প্রবেশ পথের সামনে আসেন। এরপর ছড়িয়ে ছিটিয়ে তারা ঈদগাহে ঢুকতে মুসল্লিদের লাইন, সড়কে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায়, নামাজ শেষে কোলাকুলি ইত্যাদির দৃশ্য ধারণ করেন। আর, নামাজের সময় একপাশে দাঁড়িয়ে ছবি তুলতে থাকেন। ঈদ যে বাংলাদেশে আনন্দের দিন সেটাই তারা তাদের ক্যামেরায় ফুটিয়ে তুলছিলেন। অনেক মুসল্লি সেলফিও তোলেন এসব বিদেশি সাংবাদিকের সঙ্গে।
আলাপকালে জানা গেছে, বিদেশি সাংবাদিকদের বেশির ভাগ এসেছেন চীন ও জাপান থেকে। তাদের সঙ্গে মাথায় স্কার্ফ দিয়ে জাপানের এক গৃহবধূও এসেছেন ছবি তুলতে। চীন থেকে আসা এক সাংবাদিক এ প্রতিবেদককে বলেন, ১ জুলাই রাতে গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলায় ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক ঘটনার পর তারা ঢাকা এসেছেন। এরই রেশ ধরে বাংলাদেশের প্রধান ধর্মীয় উৎসবের ছবিও তুলে নিচ্ছেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের এই উৎসব দেখে আমার খুব ভালো লাগছে।
আবহাওয়া অধিদফতরের পূর্বাভাস সত্ত্বেও বৃহস্পতিবার বৃষ্টি হয়নি। বরং আকাশ ছিল ঝকঝকে পরিষ্কার। এ কারণে দূর-দূরান্ত থেকে বিভিন্ন বয়সী বিপুল সংখ্যক মুসল্লি হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে জাতীয় ঈদগাহমুখী হন। সকাল সাতটার পর জনস্রোত দেখা যায় ঈদগাহের দিকে। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে তারা ধীরে ধীরে মূল ঈদগাহে প্রবেশ করেন। ভেতরে জায়গা না থাকায় অসংখ্য মুসল্লি তোপখানা রোড, কদমফোরার চারদিক, মৎস্যভবনমুখী সড়ক এবং শিক্ষাভবনমুখী সড়কে দাঁড়িয়ে ঈদের নামাজ আদায় করেন। বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি, বিভিন্ন মন্ত্রী, মেয়র, সংসদ সদস্যসহ বিভিন্ন স্তরের মানুষ ঈদের প্রধান জামাতে অংশগ্রহণ করেন।
/এমএনএইচ/