শুক্রবার বিকাল সোয়া ৫টার সময় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউ-তে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় শাওন। গত ১ জুলাই শুক্রবার জঙ্গি হামলার সময় আহত হয়েছিল শাওন। দুদিন পর ৩ জুলাই জঙ্গিদের সহযোগী সন্দেহে হেফাজতে রেখে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে পুলিশ।
শাওনের বাবা আবদুস সাত্তার সাংবাদিকদের জানান, শাওন হলি আর্টিজান বেকারিতে বাবুর্চির সহকারী হিসেবে কাজ করতো। শাওন কোনও জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে জড়িত ছিল না বলে তিনি দাবি করেন। হামলার ঘটনার পর থেকেই তারা ছেলেকে খুঁজছিলেন। ছেলের ছবি নিয়ে শাওনের বাবা আবদুস সাত্তার ও মা মাহমুদা বেগম আর্টিজানের সামনে এবং থানা-পুলিশ ও ইউনাইটেড হাসপাতালে গিয়েও খুঁজে পাননি। তখন পুলিশও তার কোনও খোঁজ দিতে পারেনি।
মর্গের সামনে শুক্রবার সন্ধ্যার পরে শাওনের স্বজনরা বিলাপ করতে থাকেন। তাদের অভিযোগ, পুলিশের কারণে তাকে অনেক কষ্ট পেয়ে মরতে হয়েছে।
গত শুক্রবার রাতে গুলশান-২ এর ৭৯ নম্বর সড়কের হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা চালায় জঙ্গিরা। এতে ২ পুলিশ সদস্য, ১৭ বিদেশি নাগরিক ও তিন বাংলাদেশি নিহত হন। পরে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে ছয় জঙ্গি নিহত হন বলে শনিবার সেনা সদরে এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। ওই ছয় জনের একজন ছিলেন রেস্টুরেন্টের শেফ সাইফুল ইসলাম চৌকিদার। অভিযানে জীবিত উদ্ধার করা হয় তিন বিদেশি নাগরিকসহ ১৩ জিম্মিকে।
নিহতদের মধ্যে নয়জন ইতালির, সাতজন জাপানি ও একজন ভারতের নাগরিক। বাকি তিনজন বাংলাদেশি, যাদের মধ্যে একজনের যুক্তরাষ্ট্রেরও নাগরিকত্ব ছিল। নিহত সাত জাপানির মধ্যে ছয়জনই মেট্রোরেল প্রকল্পের কাজে নিয়োজিত ছিলেন।
/জেএ/জেইউ/ এএইচ/
আরও পড়ুন:
শোলাকিয়ায় হামলাকারী নিহত ‘জঙ্গি’ নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির ছাত্র
নিশা দেশাই আগামী সপ্তাহে ঢাকা আসছেন
ভারতীয় নিরাপত্তা দলের আসার খবর নিয়ে বিভ্রান্তি
গুলশান হামলার ‘সন্দেহভাজন’ শাওন মারা গেছে
শোলাকিয়া হামলার ‘সন্দেহভাজন’ শাফিউল আড়াই বছর আগেই বাড়ি ছাড়েন
নিশ্চুপ হেফাজত, তীব্র নিন্দা ধর্মভিত্তিক দলগুলোর
মক্কার খতিবকে ঢাকায় আনার চেষ্টা: আলেমদের মধ্যে প্রতিযোগিতা