নিখোঁজ যুবকদের কেউ কেউ জঙ্গি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে: র‌্যাব

‘রিপোর্ট টু র‌্যাব’ মোবাইল অ্যাপস্ উদ্বোধননিখোঁজ বেশ কিছু যুবকের অবস্থান র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন (র‌্যাব) জানতে পেরেছে বলে জানিয়েছেন, সংস্থাটির মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ। এসব যুবকের কেউ কেউ জঙ্গি তৎপরতার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। রাজধানীর র‌্যাব সদর দফতরে সোমবার বিকেলে ‘রিপোর্ট টু র‌্যাব’ মোবাইল অ্যাপস্ উদ্বোধন উপলক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ সব কথা বলেন।
তিনি বলেন,‘আমরা বেশ কিছু নিখোঁজ যুবকের খোঁজ পেয়েছি, যারা দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ ছিল। তাদের কেউ কেউ জঙ্গি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।’
জঙ্গিদের তালিকা প্রসঙ্গে র‌্যাবের মহাপরিচালক বলেন, আমরা জানি, অনেকের কাছে অনেক ধরনের তথ্য আছে, এজন্য ‘রিপোর্ট টু র‌্যাব’ মোবাইল অ্যাপস্ চালু করা হয়েছে। জঙ্গিদের তালিকা বা তাদের ওয়াচ করা একটি চলমান প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়া কখনও থেমে থাকে না।
জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে র‌্যাবের পক্ষ থেকেও সামাজিক উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান র‌্যাবের মহাপরিচালক। বেনজীর আহমেদ বলেন, জঙ্গিবাদ একটি বৈশ্বিক সমস্যা। জঙ্গিবাদ তিন ধরনের জঙ্গিবাদ রয়েছে ল্যাফট্রিস, ইথনিক ও রিলিজিয়াস। প্রত্যেকটির পলিটিক্যাল ডাইমেনশন আছে।
সাম্প্রতিক হামলা প্রসঙ্গে বেনজীর আহমেদ বলেন, সাম্প্রতিক হামলার ঘটনাগুলোর তদন্ত চলছে। পর্দার আড়ালে কারা আছে সেটা খুঁজে বের করা প্রয়োজন। কারা অর্থায়ন করছে, কারা পরিচালনা করছে, কারা নেতৃত্ব দেয় এসব আমরা খুঁজে বের করার চেষ্টা করি। গত বছর ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে আইএসের পোস্টারিং করার সময়ে ১২ বছরের এক ছেলেকে আটক করা হয়। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে জানায় ইন্টারনেট থেকে সে আইএসের ছবি পেয়েছে। তার বাবা একটি ধর্মীয় রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে জড়িত ছিল। এরপর তার কম্পিউটার চেক করে দেখা যায় সে নিজেই সারাদিন কম্পিউটারে জঙ্গিবাদের বিষয়ে ছবিসহ তথ্য সংগ্রহ করত। কিন্তু তার সঙ্গে আন্তর্জাতিক কোনও গোষ্ঠীর যোগাযোগ নেই। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মোটিভেটেড হওয়া এক জিনিস, আর ইন্টারন্যাশনাল কানেকশন অন্য জিনিস। এখন পর্যন্ত হামলার সঙ্গে যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গিয়েছে একেক সময় এক এক নামে আসে। তবে এখন যাদের পাওয়া যাচ্ছে তাদের লিংক জেএমবির সঙ্গে পাওয়া যাচ্ছে।


বেনজীর আহমেদ বলেন, সবগুলো হামলার ঘটনা তদন্তাধীন। এ সকল ঘটনায় পর্দার আড়ালে কে তা বের করা প্রয়োজন। এগুলো বের করার চেষ্টা চলছে। কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় নিহত সন্ত্রাসী শফিউলের বিরুদ্ধে ৪টি মার্ডারের মামলা ছিল। শফির অন্যান্য জঙ্গিদের মত একাধিক নাম ছিল। মামলাগুলো করার সময় স্থানীয় ভাবে তার যে সাংগঠিনিক নাম পেয়েছি, সে নামে মামলা হয়েছে। এ ধরনের জঙ্গিদের মূল উদ্দেশ্য হল দেশের অগ্রগতি রুখে দেওয়া। হামলার ঘটনা ঘটালে দেশের অর্থনীতি ও ইন্টারন্যাশনাল কমিউনিকেশনের ওপর প্রভাব পড়বে। এ চিন্তা করেই তারা হামলার ঘটনা ঘটাচ্ছে। নিরীহ মানুষ হত্যা করে কী হতে পারে। তারা হত্যা করে নির্বিচারে, বাছবিচার ছাড়া। এরা খুনি।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) কর্নেল আনোয়ার লতিফ, অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) আবদুল জলিল মণ্ডল, পরিচালক (অপারেশন) কে এম আজাদ, পরিচালক (ইন্টিলিজেন্স) আবুল কালাম আজাদ, পরিচালক (প্রশিক্ষণ) জসিম এবং আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খানসহ র‌্যাবের বিভিন্ন ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক।
/সিএ/টিএন/আপ-এমও