ড্রেনের ময়লা ড্রেনে

তোলার পর এভাবেই পড়ে থাকে ময়লা-২২২রাজধানীর ব্যস্ততম এলাকাগুলোর মধ্যে অন্যতম গুলিস্তান। প্রতিদিন সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত অসংখ্য মানুষের চলাফেরা গুলিস্তান দিয়ে। সেই সঙ্গে চলাচল করে হাজারও যানবাহন।
এই ব্যস্ত গুলিস্তানের বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ’র ড্রেন লাইন গত মাসে পরিষ্কার করেন একদল স্যুইপার। ড্রেনের ময়লা তুলে রাখেন সড়কের ওপর। কাজ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ময়লা সরিয়ে নেওয়ার কথা থাকলেও তারা তা নেননি। এতে প্রতিটি ম্যানহোলের সামনে ময়লার স্তূপ জমে যায়। ড্রেনের ময়লা দুর্গন্ধ ছড়াতে থাকে চারদিকে। পথচারীদের চলাচল করতে হয় নাকে রুমাল চেপে।
ময়লার স্তূপ বেশি জমেছিল ২ বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ’র ডন প্লাজার সামনে। উত্তোলনের পর থেকে প্রায় প্রতিদিন বৃষ্টি হওয়ায় কিছু ময়লা সড়কে ছড়িয়ে পড়ে। কিছু ময়লা যানবাহনের চাকার সঙ্গে মিশে শহর ঘুরতে থাকে।  বাকি ময়লার বেশির ভাগ বৃষ্টির পানির সঙ্গে মিলে আবারও ড্রেন লাইনে ফিরে যায়। আর যা থাকে তা রোদ পেলে শুকিয়ে ধূলি হয়ে উড়তে থাকে।
সোমবার ডন প্লাজার সামনে গিয়ে দেখা গেছে, ওই ময়লার অবশিষ্টও আর নেই। স্থানীয় হকার জাহাঙ্গীর বলেন, ময়লা তো আর বসে থাকে না, কেউ না নেওয়ায় ড্রেনের ময়লা ড্রেনে চলে গেছে।

ড্রেনের ময়লা তুলে এভাবে সড়কের ওপর ফেলে রাখা এবং বৃষ্টির পানির সঙ্গে মিশে ওই ময়লার ড্রেনে ফেরত যাওয়ার ঘটনা শুধু গুলিস্তানেই নয়, গোটা ঢাকা শহরেই এমন দৃশ্য নিয়মিত চোখে পড়ে। বছরের পর বছর ধরে এমনই চলে আসছে। এ নিয়ে কারও মাথা ব্যাথা নেই।

সরেজমিনে আরও দেখা যায়, সেগুনবাগিচা, বক্সকালভার্ট সড়ক, মতিঝিল, ফকিরাপুল, দিলকুশা, আরামবাগসহ বিভিন্ন এলাকায় একইভাবে ড্রেনের ময়লা পড়ে থাকতে। ঈদের আগে কয়েকদিন টানা বর্ষণ হওয়ায় ওই ময়লার বেশির ভাগই ড্রেনে ঢুকে পড়েছে। ফ্লাইওভারের নিচে যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তা থেকে কাজলা পর্যন্ত সড়কের ড্রেন থেকে তোলা ময়লা বৃষ্টির পানির সঙ্গে মিশে পুরো সড়কে ছড়িয়ে পড়েছে।

জানা গেছে, বৃষ্টির পানি যাতে দ্রুত সড়ক থেকে সরে যেতে পারে সে জন্য প্রতি বছর ঢাকা ওয়াসা এবং দুই সিটি করপোরেশন ড্রেনেজ লাইন পরিষ্কারের এমন কর্মসূচি গ্রহণ করে। এ জন্য ব্যয় করা হয় কোটি কোটি টাকা। কিন্তু ফলাফল আগের মতই থেকে যায়। সঠিক নজরদারি না থাকায় ড্রেনের ময়লা ড্রেনে গিয়ে আবারও আবদ্ধ অবস্থার সৃষ্টি করে। একটু বেশি বৃষ্টি হলেই ড্রেনেজ লাইনগুলো পানি সরাতে পারে না। তখন বলা হয়, ড্রেনেজ লাইনের ধারণ ক্ষমতা কম হওয়ায় নগরীতে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে।

যোগাযোগ করা হলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. নূরুল আমীন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ঢাকার ড্রেনেজ লাইনগুলো ওয়াসা এবং সিটি করপোরেশন- দুই সংস্থা প্রতি বছর পরিষ্কার করে থাকে। ঠিকাদারদের দিয়ে এ কাজটি করানো হয়। এ সময় কেউ কেউ ড্রেনের ময়লা তোলার সঙ্গে সঙ্গে অপসারণ না করে ম্যানহোলের সামনে ফেলে রাখে বলে অভিযোগ আমরাও পেয়ে থাকি। তখন ঠিকাদারকে তাগিদ দিয়ে কাজটি করানো হয়।

 আরও পড়তে পারেন: ভারতে না ফিরে আফ্রিকার পথে জাকির নায়েক!
অারও পড়তে পারেন: জঙ্গিদের ডিএনএ পরীক্ষার অনুমতি আদালতের


ওএফ/এমএসএম /