বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষা, বালু, তুরাগ ও দেশের গুরুত্বপূর্ণ অন্যান্য নদ-নদীর নাব্যতা এবং নদীর স্বাভাবিক গতিপ্রবাহ অব্যাহত রাখতে সরকার এ টাস্কফোর্স গঠন করে।
টাস্কফোর্সের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় খাল দখল করে ভবন নির্মাণকারীদের বিরুদ্ধে শিগগির উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে। যারা খাল নদী দখল করে স্থাপনা গড়ে তুলেছেন এবার তাদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে জেল ও জরিমানা করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে ওই বৈঠকে।
নদীর সীমানা পিলার সঠিক জায়গায় স্থাপন করতে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) জরিপ কার্যক্রম এবং ট্যানারি শিল্প সাভারে দ্রুত স্থানান্তরের লক্ষ্যে টাস্কফোর্সের প্রতিনিধিরা আগামী ৩ আগস্ট সাভারের চামড়া শিল্প নগরী পরিদর্শন করবে।
এ ছাড়া যেসব শিল্প প্রতিষ্ঠানে অ্যাফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্লান্ট (ইটিপি) স্থাপন করা হয়নি, সেগুলোতে ইটিপি স্থাপন ও সকল কারখানায় ইটিপি চালু রাখতে পরিবেশ অধিদফতর ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করবে।
সভায় জানানো হয়, আদি বুড়িগঙ্গা নদীকে বাঁচাতে কমিটির রিপোর্ট আদালতে দাখিল করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশনা পাওয়া গেলে সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এছাড়া শ্যামপুরের ‘ইকোপার্ক’র মডেলে কাঁচপুর, টঙ্গি ও আশুলিয়ায় আরও তিনটি ইকোপার্ক এবং আরও ৫০ কিলোমিটার ‘ওয়াকওয়ে’ নির্মাণ করা হবে।
সভায় জানানো হয়, নদীর তীর অবৈধ দখলরোধে ঢাকার চারপাশে ৪ হাজার ৬৩টি এবং নারায়নগঞ্জে শীতলক্ষ্যার তীরে ৫ হাজার ১১টি ‘সীমানা চিহ্নিতকরণ পিলার’ স্থাপন করা হয়েছে। পাবনা জেলার চাটমোহরে বড়াল নদীর মথুরা-দোহারপাড়ায় নির্মিত আড়াআড়ি বাঁধটি সম্পূর্ণরুপে অপসারণ করার ফলে বড়াল নদীর সঙ্গে চলনবিলের আংশিক সংযোগ স্থাপন হয়েছে। অন্যান্য বাঁধ অপসারণের কাজ চলছে।
সভায় আরও জানানো হয়, সাভারে চামড়া শিল্প নগরীর ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টে বিদ্যুৎ সংযোগ পাওয়া গেছে। এ পর্যন্ত ১০২টি ট্যানারি শিল্পের মালিক গ্যাসের জন্য আবেদন করেছে। ১৩৭টি ট্যানারিতে পানির মিটারের পিট এবং ৩০টিতে ওয়েট-ব্লু মেশিন স্থাপন করা হয়েছে।
বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিতি ছিলেন- গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, পানি সম্পদমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, ভূমি মন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ, বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, সংসদ সদস্য বেগম সানজিদা খানম প্রমুখ।
/এসআই/এসএনএইচ/