এক যুগে ৫ লাখ নারী কর্মী বিদেশে: সংসদে মন্ত্রীর তথ্য

নারী শ্রমিক পাঠানো বন্ধের কোনও পরিকল্পনা নেই সরকারের

নারী শ্রমিকবিশ্বের মোট ৬৮টি দেশে বাংলাদেশ থেকে নারী কর্মী পাঠানো হয়েছে। গত এক যুগে এসব দেশে পাঁচ লাখ ৬ হাজার ৫০৬ জন নারী কর্মী গিয়েছেন। সোমবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য উম্মে রাজিয়া কাজলের প্রশ্নের জবাবে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি জাতীয় সংসদকে এ তথ্য জানান।

মন্ত্রীর তথ্যে দেখা গেছে সব থেকে বেশি নারী কর্মী গিয়েছেন আরব আমিরাতে। জুন ২০০৪ থেকে জুন ২০১৬ পর্যন্ত দেশটিতে মোট এক লাখ ১৬ হাজার ৫৫০ জন নারী কর্মী গিয়েছেন। এছাড়া লেবাননে এক লাখ ১ হাজার ৩১২ জন, জর্ডানে ৯৭ হাজার ৩৩১ জন, সৌদি আরবে ৯১ হাজার ৬২৮ জন, ওমানে ৫০ হাজার ২২৩ জন নারী শ্রমিক গিয়েছেন।

জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে নারী শ্রমিক পাঠানো বন্ধের দাবি নাকচ করে দিয়ে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী বলেন, নারী শ্রমিক পাঠানো বন্ধের কোনও পরিকল্পনা সরকারের এই মুহূর্তে নেই।

তিনি বলেন, সৌদি আরবে নারী শ্রমিকদের নির্যাতন বা নিগৃহীত হওয়ার অভিযোগ পুরোপুরি সত্য নয়। অনেকে মিথ্যা কথা বলেন। তারা অভিযোগ করেন তাদেরকে ভাত দেওয়া হয় না। সৌদি আরবের মানুষ তো ভাত খায় না। তারা রুটি খায়। তখন তারা ‍ভাত দেওয়া হয় না এমন অভিযোগ করেন। আবার অনেকে হোমসিক হয়ে দেশে ফিরে আসতে নানা কাহিনী সৃষ্টি করে।

এর আগে সম্পূরক প্রশ্নে ‘আমাদের দেশে এখন অনেক কর্মসংস্থান রয়েছে’ উল্লেখ করে ফিরোজ রশীদ বলেন, আমাদের দেশের নারীরা বিদেশে বিশেষ করে সৌদি ‌আরব গিয়ে যেভাবে নিগৃহীত হচ্ছেন, তারা সেখানে যৌন নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন, এটা আমাদের জন্য একটা কলঙ্কজনক অধ্যায়। এ অবস্থায় সরকার বিদেশে নারী শ্রমিক ‍পাঠানো বন্ধ করবে কি না ফিরোজ রশীদ তা জানতে চান।

এম আবদুল লতিফের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বলেন, বিগত জোট সরকারের দুর্বল নীতির কারণে বাংলাদেশের শ্রম বাজার সংকুচিত হয়ে পড়েছিল। বর্তমান সরকারের সফল কূটনীতিক প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর কর্মী প্রেরণের সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। জোট সরকারের সময়ে বিশ্বের ৯৬টি দেশে কর্মী পাঠানো হতো। এখন নতুন আরও ৬৪টি দেশে কর্মী পাঠানোয় এই সংখ্যা ১৬০ এ উন্নীত হয়েছে।

এই সংসদ সদস্যের অপর এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, ২০১০ সাল থেকে জুন ২০১৬ পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ১৯ হাজার ৫৪৬ জন প্রবাসী বাংলাদেশির লাশ ফেরত আনা হয়েছে। এর মধ্যে ১৫ হাজার ৬১১ জন কর্মীর লাশ পরিবহন ও দাফন বাবদ ৫৩ কোটি ৫৬ লাখ ৩ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিদেশের নিয়োগকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ৩ হাজার ৪৫৩ জন মৃত কর্মীর অনুকূলে ক্ষতিপূরণের অর্থ হিসেবে ২৪০ কোটি ৯৪ লাখ ৭৪ হাজার ৪২০ টাকা আদায় করে তাদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে।

সুকুমার রঞ্জন ঘোষের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে ইউরোপের ৪২টি দেশে বাংলাদেশি শ্রমিকরা কাজ করছে। এসব দেশে বর্তমানে ৭১ হাজার ৪৯৬ জন শ্রমিক কর্মরত রয়েছে।

সরকারি দলের এনামুল হকের প্রশ্নের জবাবে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী বলেন, বিদেশগামী কর্মীদের এক ধরনের অজ্ঞতা ও কিছু অসাধু রিক্রুটিং এজেন্সি ও দালালদের দৌরাত্মের কারণে কোনও কোনও ক্ষেত্রে বিদেশগামী কর্মীরা প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষিতে ২০০৯ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ৯১টি রিক্রুটিং এজেন্সির ‍লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকদের কাছ থেকে ১৮ কোটি ২১ লাখ ৭ হাজার ৯’শ টাকা ক্ষতিপূরণ আদায় করে ক্ষতিগ্রস্তদের দেওয়া হয়েছে।

সরকারি দলের সুবিদ আলী ভূইয়ার প্রশ্নের জবাবে ‘দেশে আপাতত কোনও খাদ্য ঘাটতি নেই’ উল্লেখ করে খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম জানান, দেশে বর্তমানে (১০ জুলাই ২০১৬) খাদ্য মজুদের পরিমান ৮ লাখ ৩০ হাজার মেট্রিক টন। এর মধ্যে চাল ৪ লাখ ৯১ হাজার ও গম ৩ লাখ ৩৯ হাজার মেট্রিক টন।

ভোলা-২ আসনের সংসদ সদস্য আলি আজমের প্রশ্নের জবাবে খাদ্যমন্ত্রী মো. কামরুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে দেশে চাহিদা অনুযায়ী চাল উৎপাদন হচ্ছে। তবে, চাহিদা অনুযায়ী গম উৎপাদন কম হচ্ছে। বর্তমানে (২০১৪-১৫ অর্থ বছরে) দেশে খাদ্য উৎপাদনের পরিমাণ ৩ কোটি ৬০ লাখ ৫৮ হাজার মেট্রিক টন। এর মধ্যে ৩ কোটি ৪৭ লাখ ১০ হাজার মেট্রিন টন চাল ও ১৩ লাখ ৪৮ হাজার মেট্রিন টন গম।

আরও পড়ুন- 

জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে আবারও সবাইকে সতর্ক করলেন প্রধানমন্ত্রী
জামালপুরের ৩ রাজাকারের ফাঁসি, ৫ জনের আমৃত্যু কারাদণ্ড

/ইএইচএস/এফএস/