শ্রমিক সংগঠনগুলোর ঐক্যের প্রধান অন্তরায় স্বার্থন্বেষী চক্র: শ্রম প্রতিমন্ত্রী


শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু বলেছেন, শিল্পখাতের উন্নয়ন এবং শ্রমিকদের স্বার্থ সংরক্ষণ উভয় ক্ষেত্রেই শ্রমিক ফেডারেশনগুলোর মধ্যে ঐক্য গুরুত্বপূর্ণশ্রম প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু
মঙ্গলবার (১৯ জুলাই ২০১৬) রাজধানীর বিয়াম মিলনায়তনে ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড ইউনিয়ন কনফেডারেশন- বাংলাদেশ চ্যাপটার আয়োজিত ইউনিটি কনফারেন্সে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ সব কথা বলেন।
শ্রম প্রতিমন্ত্রী বলেন, শ্রমিক সংগঠনগুলোর মধ্যে ঐক্যের প্রধান বাধা হচ্ছে, মানসিকতা এবং তাদের নিজেদের মধ্যকার স্বার্থন্বেষী চক্র।
তিনি বলেন, শ্রমিক সংগঠনগুলোকে নিজেদের স্বার্থ যেমন দেখতে হবে, তেমনি শিল্পখাতের উন্নয়নের বিষয় তথা দেশের স্বার্থও মাথায় রাখতে হবে।
বর্তমান সরকারকে শ্রমিকবান্ধব সরকার উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শ্রমিকদের জীবনমানের উন্নয়নে সরকার অনেকগুলো পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
তিনি বলেন, সরকার শ্রমিকদের জন্য প্রফিডেন্ট ফান্ড খোলার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। কোনও শ্রমিক প্রফিডেন্ট ফান্ডে একশ টাকা জমা করলে তার ফান্ডে সরকারও একশ টাকা দেবে। নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষে যে টাকা জমা হবে, তার সাথে সরকার শ্রমিক কল্যাণ ফান্ড থেকে আরো দুই লাখ টাকা যোগ করে শ্রমিককে দেবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, শ্রমিককল্যাণ ফান্ডে বর্তমান জমার পরিমাণ একশ ৫৭ কোটি টাকা। এখন থেকে শ্রমিকদের দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু, পঙ্গুত্বসহ দুরারোগ্য ব্যাধি, সন্তানসম্ভবা নারী শ্রমিকদের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। শিগগিরই এ খাত থেকে শ্রমিকদের মেধাবী সন্তান যারা এসএসসি, এইচএসসিতে গোল্ডেন জিপিএ পেয়েছে কিংবা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিক্যাল, ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত তাদের সর্বোচ্চ তিন লাখ টাকা পর্যন্ত শিক্ষা সহায়তা দেওয়া হবে।
শ্রমিকদের স্বার্থ সংরক্ষণে আইনি সহায়তার বিষয়ে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে বলেও প্রতিমন্ত্রী আশ্বাস দেন।
দুই দিনব্যাপী কনফারেন্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি শুক্কুর মাহমুদের সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে আইটিইউসি-এপি’র সাধারণ সম্পাদক  নরিইউকি সুজুকি এবং জেটিইউসি-রেঙ্গো’র ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার ডিপার্টমেন্টের নির্বাহী পরিচালক শয়া ইয়োশদা বক্তৃতা করেন।
কনফারেন্সে অ্যাকশন প্ল্যান এবং আগামী দুইবছরের জন্য রোডম্যাপ ও সুপারিশমালা উপস্থাপন করা হবে এবং এগুলো চূড়ান্ত করা হবে। কনফারেন্সে ছয়টি শ্রমিক সংগঠন অংশগ্রহণ করেছে।
/এসআই/এবি