মানবতাবিরোধী অপরাধ

পলাতক আসামিদের বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেই!

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল

পলাতক মানবতাবিরোধী অপরাধীদের ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনে ইন্টারপোলের সহযোগিতা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

এর আগেও একাধিকবার পলাতক আসামিদের ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিতে নির্দেশ এলেও তেমন কোনও ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি। এমনকি একটি বিশেষ সেল করে পলাতক আসামিদের ধরার উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছিল। সূত্র বলছে, সেল হয়েছে কিন্তু কাজ হয়নি।

একাত্তরে মানবাতাবিরোধী অপরাধের মামলায় পলাতক আছেন ৪৬ আসামি। তাদের মধ্যে ১৬ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দণ্ডাদেশ হয়েছে এবং ৩০ জনের বিরুদ্ধে মামলা চলছে। এ ছাড়া অভিযোগ তদন্তাধীন এবং তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে এমন সব মিলিয়ে পলাতক ৮৪ জন।

গত ছয় বছরে দুটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া ২৩ মামলার রায়ে ৩১ যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসিসহ বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হয়েছে। এর মধ্যে সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামির সংখ্যা ১০। তদন্ত সংস্থা জানিয়েছে, আসামিদের মধ্যে যারা বিদেশে পালিয়ে আছেন, তাদের ফিরিয়ে আনার জন্য পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যৌথ তৎপরতা চলছে।

সোমবার জামালপুরের ৮ আসামির মধ্যে পলাতক ছয় আসামিকে ধরতে প্রয়োজনে ইন্টারপোলের সহযোগিতা নেওয়ার নির্দেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। রায় পর্যবেক্ষণে ট্রাইব্যুনাল বলেন, স্বরাষ্ট্র সচিব ও আইজিপিকে মামলার পলাতক (দণ্ডপ্রাপ্ত) আসামিদের গ্রেফতার নিশ্চিত করতে হবে। তাদের গ্রেফতারে যেন পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হয়। প্রয়োজনে এই আসামিদের ধরতে যেন ইন্টারপোলের সহযোগিতা নেওয়া হয়।

যদিও গতবছর ট্রাইব্যুনাল থেকে বিশেষ সেল গঠন করতে বলার পর ২৪ মে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ নিয়ে পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে একটি বিশেষ সেল গঠন করা হয়।

পুলিশের পক্ষ থেকে দেওয়া চিঠিতে বলা হয়, ডিআইজি পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তার নেতৃত্বে গত ২১ মে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রতি ৪০ দিন পর পর তারা পলাতক আসামিদের বিষয়ে প্রতিবেদন ট্রাইব্যুনালে দাখিল করবেন। ডিআইজি ছাড়াও একজন অতিরিক্ত ডিআইজি, র‌্যাব, গোয়েন্দা পুলিশ ও তদন্ত সংস্থার একজন করে প্রতিনিধি রয়েছেন এ কমিটিতে। একবছর পরও তারা কোনও পলাতক আসামির বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়ার নজির দেখাতে পারেননি।

বিশেষ সেলের সদস্য তদন্ত সংস্থার তদন্তকর্মকর্তা হেলাল উদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, পলাতক আসামিদের ধরতে দুটি কমিটি হয়েছে। একটি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ে আরেকটি পুলিশ হেডকোয়ার্টারে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় থেকে সাজাপ্রাপ্ত বিদেশে পলাতক আসামিদের নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে তাদের দেশে ফেরানোর জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় ব্যবস্থা নেওয়াও হয়েছে। আর পুলিশ সদর দফতারের কমিটি পলাতক আসামিদের পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন যোগাযোগ পর্যবেক্ষণে রেখেছে।

তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যে যেসব জেলায় মামলা চলছে এবং আসামিরা পলাতক সেসব এলাকায় একটি সাব-কমিটি করে দেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত কাউকে ধরা বা কারও খোঁজ পাওয়ার তথ্য আছে কিনা প্রশ্নে তিনি নেতিবাচক উত্তর দিয়ে বলেন, ‘কাজ পুরোদমে চলছে।’

/এজে/আপ- এপিএইচ/

আরও পড়ুন:

জামালপুরের ৩ রাজাকারের ফাঁসি, ৫ জনের আমৃত্যু কারাদণ্ড