দালালদের দৌরাত্মে নষ্ট হচ্ছে লেবাননের শ্রম বাজার





বাংলাদেশি শ্রমিকদালালদের দৌরাত্মে লেবাননে বাংলাদেশিদের শ্রমবাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এর ফলে বাংলাদেশিদের জন্য যেমন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সমস্যা হচ্ছে, তেমনি সৃষ্টি হচ্ছে ভাবমূর্তি সংকট।
লেবাননে বর্তমানে প্রায় ১ লাখ ৪ হাজার বাংলাদেশি কর্মরত। তাদের অধিকাংশই নারী গৃহকর্মী ও ক্লিনার। এছাড়া কেউ কেউ সুপারমার্কেট, ফার্নিচারের দোকান, হাসপাতাল অথবা অফিসে কাজ করেন। অল্পসংখ্যক কাজ করেন কৃষি ও নির্মাণ শিল্পে।
সরকারের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, লেবাননে বাংলাদেশিদের জন্য সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে, তারা দালালদের কথায় অথবা স্বেচ্ছায় কর্মক্ষেত্র থেকে পালিয়ে যান।
তিনি বলেন, বিদেশি একজন কর্মীকে চাকরি দেওয়ার সময় একজন লেবানিজ মালিককে সময় এবং শ্রমসহ গড়ে প্রায় দুই হাজার মার্কিন ডলার খরচ করতে হয়। এর মধ্যে ফি হিসেবে সরকারকে দিতে হয় ৮০০ ডলার। চাকরিতে যোগ দেওয়ার এক সপ্তাহ বা এক মাস পরে সেই কর্মী পালিয়ে গেলে কোনও মালিকেরই খুশি হওয়ার কারণ নেই। এ কারণে তারা ২৪ ঘণ্টা পর সেই কর্মীর বিরুদ্ধে চুরির মামলা করে থাকে।
তিনি জানান, আবার দালালদের কথায় অনেক সময় লেবানিজ মালিকরা কর্মীদের বেতন ভাতা কমিয়ে দেন, যার প্রভাব পড়ে শ্রমবাজারের ওপর।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে লেবাননে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আব্দুল মোতালেব সরকার বলেন, এখানে সমস্যা আছে এবং আমরা এটি দূর করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করছি। আমি লেবানিজ সরকারের প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার থেকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছি এ শ্রমবাজারের উন্নতির জন্য।
তিনি বলেন, এখানে কিছু বাংলাদেশি অনেকদিন ধরে চেষ্টা করছিলেন দেশে ফেরার জন্য। কিন্তু এখানকার জটিল ও শক্ত আইনের জন্য পারছিলেন না। এখানে নিয়ম কানুনের জন্য ঢোকা সহজ কিন্তু বের হওয়া কঠিন। কেউ অবৈধ হয়ে গেলে তাকে মোটা অর্থদণ্ড দিয়ে লেবানন থেকে বের হতে হয়। আমি বিষয়টি জানতে পেরে নিজে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে যোগাযোগ করে তাদের সহজে এদেশ থেকে যাওয়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছি।

তিনি জানান, রোজার ঈদের আগে ৩০০ জনের বেশি দেশে ফেরত গেছেন এবং আরও প্রায় ২০০০ আগ্রহী বাংলাদেশি দেশে ফিরতে চান। দূতাবাসে এসে তারা নাম নিবন্ধন করে গেছেন। তাদের ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।


/এসএসজেড/এজে/