চার মাস না যেতেই উপেক্ষিত হয়ে পড়েছে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের ওয়েস্ট বিনগুলো। সচেতনতা না থাকায় লোকজন এগুলোকে সঠিক ব্যবহার করতে পারছেন না।
অন্যদিকে, যেগুলো ব্যবহৃত হয়, সেগুলোও নিয়মিত পরিস্কার করা হচ্ছে না। পরিকল্পিতভাবে স্থাপন করা হয়নি বলে যানবাহনের ধাক্কায় বহু বিন স্থানচ্যুত হয়ে পড়েছে। কোনও কোনওটা উল্টে পড়ে আছে। চুরিও হয়ে গেছে বেশ কয়েকটা বিন।
গত এপ্রিল মাসে ঢাকার দুই সিটিতে ওয়েস্ট বিন স্থাপন শুরু হয়। উদ্দেশ্য ছিল রাস্তায় চলাচলকারী লোকজন তাদের হাতের ময়লা এই ওয়েস্ট বিনে ফেলবেন আর সিটি করপোরেশনের কর্মীরা নিয়মিত পরিস্কার করে দেবেন। এতে ঢাকা শহর অনেকটাই পরিচ্ছন্ন রূপ পাবে। কিন্তু উদ্দেশ্য পূরণ হচ্ছে না।
সরেজমিন দেখা গেছে, গুলিস্তান পার্কের সামনে ফুটপাতে স্থাপন করা বিন একদিকে কাত হয়ে পড়ে আছে। আনন্দ পরিবহনের বাস সম্প্রতি ধাক্কা দিয়ে বিনের এ হাল করেছে বলে জানালেন ওই ফুটপাতের হকাররা। একই ফুটপাতে আরেকটি বিন দিনের পর দিন আবর্জনায় ভরাট হয়ে আছে। কেউ পরিস্কার করছেন না। দয়াগঞ্জ থেকে রাজধানী মার্কেট পর্যন্ত সড়কের পশ্চিমপাশে স্থাপিত অন্তত পাঁচটি বিন উল্টে আছে। কেন এগুলো উল্টে আছে জানতে চাইলে মমতা ট্রেডিংয়ের এক কর্মী বলেন, বিনে বর্জ্য ফেললে কেউ পরিস্কার করেন না। ফলে, দুর্গন্ধ ছড়াতে থাকে। তাই, দোকানকর্মীরা এসব বিন উল্টে রেখেছেন যাতে কেউ বর্জ্য ফেলতে না পারেন।
সেগুনবাগিচা স্কুলের পশ্চিম পাশে চার রাস্তার কোণায় স্থাপিত বিনে কেউ ময়লা ফেলেন না। কারণ, এক দোকানদার ওই বিনের ড্রামে পান রাখেন। পান্থপথে বিনের ফ্রেমের ওপর টায়ার রাখেন ভলকানাইজিং দোকানের লোকজন।
যাত্রাবাড়ীতে বিজিবি বাজার সংলগ্ন ওয়াপদা কলোনির প্রবেশপথের পাশে সিএনজি স্টেশনের সামনে একটা ওয়েস্ট বিন উধাও হয়ে গেছে।
কারওয়ান বাজার, ফার্মগেট, মিরপুর রোড, রূপনগর প্রভৃতি এলাকাতেও বেহাল দশা হয়েছে বিনগুলোর। ফার্মগেটে তেজগাঁও কলেজের কাছে শুক্রবার একটি বিনে মুরগির নাড়িভুড়ি ও চামড়া রাখতে দেখা গেছে, এক মুরগি বিক্রেতাকে।
পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, লোকজন বিন ব্যবহারে খুব বেশি একটা আগ্রহী নন। অনেকে হাতের ময়লা রাস্তায় ফেলে হাত ঘষতে ঘষতে চলে যান। শনিবার বিকালে এমন দৃশ্য দেখা যায় রাসেল স্কয়ারে।
ধানমণ্ডি লেক ঘুরতে যাওয়া এক যুবক তার হাতে থাকা সিগারেটের প্যাকেট রাস্তায় ফেলে চলে যাচ্ছিলেন। আলাপকালে তিনি বলেন, আসলে ফুটপাতে যে বিন রয়েছে, তা খেয়ালই থাকে না। তা ছাড়া অনেক দিনের অভ্যাস তো!
তিনি বলেন, ফুটপাতের বিন নিয়ে তেমন প্রচারণা নেই। এ কারণে শহরের মানুষ দ্রুত সচেতন হতে পারছেন না।
বিনগুলোর দুরাবস্থা সম্পর্কে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের (পবা) যুগ্মসম্পাদক সৈয়দ মনোয়ার হোসেন রবিবার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, খিলগাও বি-ব্লকে আমার বাসার সামনে ফুটপাতে অনেকগুলো ওয়েস্ট বিন ছিল। বর্তমানে এর অর্ধেকও নেই। কোনোটার ড্রাম নেই, কোনোটার আবার গোটা ফ্রেমসহ তুলে নিয়ে গেছে।
তিনি বলেন, আমাদের এখনও অভ্যাস গড়ে ওঠেনি। তাই, সহজে কেউ বিন ব্যবহার করতে চাইছেন না। এ ছাড়া সিটি করপোরেশনের লোকজন বিনগুলো দেখভাল করারও দায়িত্ব নিচ্ছেন না। ওয়ার্ড কাউন্সিলররা এগুলো থেকে মনে হয় দূরে সরে আছেন।
তিনি বলেন, বিন স্থাপনে পরিকল্পনার অভাব রয়েছে। এ ছাড়া ব্যবস্থাপনাতেও ত্রুটি রয়েছে।
যোগাযোগ করা হলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অতিরিক্ত প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা খন্দকার মিল্লাতুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, রাস্তার পাশে স্থাপন করা বেশ কিছু বিন গাড়ির ধাক্কায় নষ্ট হয়েছে। এগুলোকে মেরামত করা হচ্ছে। যাত্রাবাড়ীতে একটি বিন গাড়ির ধাক্কায় পড়ে গিয়েছিল, সেটাকেও মেরামত করা হচ্ছে।
তিনি জানান, এ পর্যন্ত কোনও বিন চুরি হয়নি।
তবে বিনের ব্যবহার বাড়াতে নগরবাসীর মধ্যে আরও বেশি সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
জানা গেছে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় পাঁচ হাজার ৭০০টি বিন স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এগুলোর মধ্যে বেশির ভাগ স্থাপন হয়ে গেছে।
অন্যদিকে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় এ পর্যন্ত স্থাপন করা হয়েছে প্রায় এক হাজার বিন। আরও এক হাজার বিন স্থাপন করা শুরু হবে সামনে মাসে। প্রতিটি বিনের আনুমানিক দাম পড়েছে আট হাজার টাকা।
/ওএফ/এবি/