বুধবার (২৭ জুলাই) ঢাকার পঞ্চম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক জাহিদুল কবির এ রায় বহাল রাখেন। এর আগে এ আদালতে আপিলের রায় দেওয়ার জন্য দিন ধার্য ছিল।
কাদেরের আইনজীবী মুনজুর আলম জানান, দুই পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক আপিলের খালাসের রায় দিয়েছেন। ওসির বিরুদ্ধে তিন বছরের সাজা বহাল রেখেছেন আদালত। দণ্ডপ্রাপ্ত ওসি হেলাল আজ বুধবার আদালতে হাজির হননি। তিনি পলাতক রয়েছেন।
মুনজুর আলম আরও জানান, ওসি হেলালকে এখন এ আদালতে আত্মসমর্পণ করতে হবে। অন্যথায় তাকে পুলিশ গ্রেফতার করবে। তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
ওসি হেলাল বর্তমানে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত আছেন। তিনি নিম্ন আদালত থেকে রায়ের পর কারাগারেও যান। পরে হাইকোর্ট থেকে জামিন পান।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র কাদের এখন কুমিল্লার ভিক্টোরিয়া কলেজের রসায়ন বিভাগের প্রভাষক হিসাবে কর্মরত রয়েছেন।
গত বছরের ১৭ মে ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আলমগীর কবীর রাজ ওসি হেলালের তিন বছরের রায় দেন। তখন ওসি হেলাল পলাতক ছিলেন। পরে আদালতে আত্মসমর্পণ করলে কারাগার পাঠানো হয় তাকে।
নথি থেকে জানা যায়, ২০১১ সালের ১৫ জুলাই রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের স্নাতকোত্তরের ছাত্র আবদুল কাদের ইস্কাটন গার্ডেন রোডে খালার বাসা থেকে হেঁটে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলে ফিরছিলেন। তিনি ওই হলের আবাসিক ছাত্র ছিলেন। রাত দেড়টার দিকে সেগুনবাগিচায় সাদা পোশাকের তিন পুলিশ সদস্য তাকে আটক করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরিচয় দেওয়ার পরও পুলিশ তাকে মারধর করে। এরপর মাইক্রোবাসে তুলে তাকে খিলগাঁও থানায় নিয়ে সারা রাত হাজতে আটকে রাখে।
পরদিন ১৬ জুলাই সকালে ওসি হেলাল উদ্দিন তার কক্ষে নিয়ে কাদেরকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করেন। ওই দিন হেলালের বিরুদ্ধে খিলগাঁও থানায় ডাকাতির প্রস্তুতির অভিযোগে ও অস্ত্র আইনে দুটি মামলা করে পুলিশ। এছাড়া ১৪ জুলাই মোহাম্মদপুর থানায় একটি গাড়ি ছিনতাইয়ের মামলায়ও তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়।
একই বছর ২৬ জুলাই কাদেরের মুক্তির দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তার বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করলে বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।
দুই দিন পর ২৮ জুলাই বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী ও বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ স্বতপ্রণোদিত হয়ে কাদেরের নির্যাতনের ঘটনা তদন্তে আইন সচিব ও পুলিশের মহাপরিদর্শককে নির্দেশ দেন।
তদন্তকালে খিলগাঁও থানার ওসি হেলাল উদ্দিন, উপপরিদর্শক (এসআই) আলম বাদশা ও সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) শহিদুর রহমানকে বরখাস্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
একইসঙ্গে হাইকোর্ট কাদেরকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) সরকারি খরচে চিকিৎসার নির্দেশ দেন।
এরপর ওই দিনই বিএসএমএমইউর প্রিজন সেলে কাদেরকে ভর্তি করা হয়। ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার আবদুল জলিলকে প্রধান করে চার সদস্যের এবং আইন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব আশীষ রঞ্জনকে প্রধান করে এক সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
২০১১ সালের ৩ আগস্ট কাদের তার বিরুদ্ধে করা তিনটি মামলায় জামিন পান। এরপর তিনি ফজলুল হক হলে ফিরে যান।
২০১১ সালের ২৮ নভেম্বর আইন মন্ত্রণালয়ের এবং ১১ ডিসেম্বর পুলিশের কমিটি কাদেরকে নির্দোষ উল্লেখ করে হাইকোর্টে প্রতিবেদন জমা দেয়। দুটি কমিটি খিলগাঁও থানার এসআই আলম বাদশার বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ আনে।
মন্ত্রণালয়ের তদন্ত প্রতিবেদনে খিলগাঁও থানার ওসি হেলাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করার সুপারিশ করা হয়।
মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে ও হাইকোর্টের নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১২ সালের ২৩ জানুয়ারি ওসি হেলাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি দণ্ডবিধির ৩৩১ ও ৩৩৪ ধারায় খিলগাঁও থানায় মামলা করা হয়।
২০১১ সালের নভেম্বরে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তদন্ত শেষে খিলগাঁও থানায় করা ডাকাতির প্রস্তুতি, অস্ত্র আইন ও মোহাম্মদপুর থানায় গাড়ি ছিনতাইয়ের মামলার অভিযোগ থেকে কাদেরকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করে। পরে আদালত তাকে অব্যাহতি দেন।
বাদীপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন আইনজীবী মুনজুর আলম, মোহাম্মদ গাফফার হোসেন ও শুভ্র সিনহা রায়।
আরও পড়ুন-
গুলশান ও কল্যাণপুরের জঙ্গিদের কানেকশনের প্রমাণ ছবিতেই!
খালেদার চা-চক্র থেকে আসছে জাতীয় ঐক্যের রোডম্যাপ: নির্ধারিত হবে জামায়াতের ভাগ্যও!
দারুল ইহসানের শিক্ষার্থীরা কর্তৃপক্ষের কাছে ৫ লাখ টাকা দাবি করতে পারবে
/এসআইটি/এফএস/