রবিবার কৃষি ঋণ নীতিমালা ঘোষণা

চলতি অর্থবছরের কৃষি ও পল্লী ঋণ নীতিমালা ও কর্মসূচি রবিবার (৩১ জুলাই) ঘোষণা করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির এই নীতিমালা ঘোষণা করবেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক শুভঙ্কর সাহা বাংলা ট্রিবিউনকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এই নীতিমালার আওতায় মোট ঋণের পরিমাণ ধরা হয়েছে ১৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। যা সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরের তুলনায় ১ হাজার ১০০ কোটি টাকার বেশি। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা, পুষ্টি নিশ্চিতকরণ, দারিদ্র্য বিমোচন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে কৃষি উন্নয়নকে অগ্রাধিকার প্রদান করেছে বর্তমান সরকার।
চলতি ২০১৬-১৭ অর্থবছর বিভিন্ন ধরনের শস্য, মাছ এবং প্রাণিসম্পদ এই তিনটি খাত কৃষি ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবে।
মূলত কৃষি কাজে সরাসরি জড়িত কৃষক এই ঋণের জন্য আবেদন করতে পারবেন। গত বছরের নীতিমালার সঙ্গে এবারের নীতিমালায় নতুন সংযোজন হচ্ছে অ্যালোভেরা ও পেয়ারা চাষ। এই নতুন সংযোজিত নীতিমালার আওতায় পেয়ারা চাষিরা সারা বছরই ঋণ গ্রহণ করতে পারবে। এছাড়াও ঋণ পাবেন ড্রাগন ফ্রুট চাষিরাও। পাম চাষে বাংলাদেশের সম্ভবনা বিবেচনা করে বাণিজ্যিকভিত্তিতে পাম চাষে কৃষকদের আগ্রহী করতে এ বিষয়টিকে কৃষি ঋণ নীতিমালায় রাখা হয়েছে।

এছাড়াও এই নীতিমালায় গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে পাট চাষকেও। প্রণীত নীতিমালায় ডাল, তেলবীজ, মসলা এবং ভুট্টার উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য এবারও রেয়াতি হার সুদে ঋণ দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মধু চাষসহ অনগ্রসর খাতসমূহকে অগ্রাধিকার প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া ফসলি জমিতে সেচ ব্যবস্থার উন্নয়নেও ঋণ দেওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি হলো কৃষি। মোট দেশজ উৎপাদনে কৃষিখাতের অবদান প্রায় ১৬ শতাংশ। কৃষক ও কৃষি উন্নয়নের সঙ্গে বাংলাদেশের বিপুল জনসংখ্যার খাদ্য নিরাপত্তা প্রত্যক্ষভাবে জড়িত। কারণ, দেশের খাদ্যশস্যের চাহিদার প্রায় ৯৫ শতাংশ সরবরাহ করে থাকে এদেশের কৃষক। এখনও দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ জনসাধারণ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল।

কৃষি ও পল্লী ঋণের ক্রমবর্ধমান চাহিদার কথা বিবেচনা করে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাণিজ্যিক, বিশেষায়িত, বেসরকারি ও বিদেশি ব্যাংকসমূহ কর্তৃক তাদের স্বনির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার ভিত্তিতে ৫৬টি ব্যাংক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই তহবিল থেকে ঋণ গ্রহণ করতে পারবে। তবে এক্ষেত্রে সরকারি ব্যংকগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এবারও একজন কৃষক সর্বোচ্চ ১৫ বিঘা (৫ একর) জমি চাষাবাদের জন্য নির্ধারিত হারে ঋণ গ্রহণ করতে পারবেন।

/এনএস/