রাজউকের মোবাইল কোর্ট অব্যাহত

ধানমণ্ডি ও গুলশানে অবৈধ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান উচ্ছেদ

রাজউকের অভিযানআবাসিক এলাকায় অননুমোদিতভাবে গড়ে ওঠা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান অপসারণে বুধবারও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-রাজউক। এদিন ধানমণ্ডি এবং গুলশান আবাসিক এলাকায় বেশ কয়েকটি অবৈধ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান উচ্ছেদ করা হয়। একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও স্কুল কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে তাদের প্রতিষ্ঠান সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন রাজউকের ম্যাজিস্ট্রেট। 
রাজউকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বে বুধবার দুপুরে ধানমণ্ডি আবাসিক এলাকার ৫, ৬, ৭/এ এবং ১১/এ নম্বর সড়কে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ৩টি রেস্টুরেন্ট, ৬টি দোকান, একটি ডেন্টাল চেম্বার বন্ধ করে দেওয়া হয়। একটি স্কুলসহ অপর প্রতিষ্ঠানগুলোর গ্যাস, পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। এছাড়া, একটি ইউনিভার্সিটি, একটি স্কুল, একটি হাসপাতাল ও একটি ওষুধের ফ্যাক্টরি কর্তৃপক্ষকে নিজ দায়িত্বে প্রতিষ্ঠান সরিয়ে নিতে মুচলেকা নেওয়া হয়।
বুধবার দুপুরে মোবাইল কোর্ট প্রথমে অভিযান চালায় ধানমন্ডি আবাসিক এলাকার পাঁচ নম্বর সড়কে। এ সড়কের ১৫/এ নম্বর প্লটে চারতলা ভবনের নিচতলায় একটি রেস্টুরেন্ট, দোকান ও একটি অফিস ভাঙচুর করা হয়। ২০ নম্বর প্লটের সামনে অবৈধভাবে নির্মিত এনলাইভ অ্যাডভান্স ডেন্টাল সেন্টার নামের একটি ডেন্টাল ক্লিনিক বুলডোজার দিয়ে গুড়িয়ে দেওয়া হয়।
৫ নম্বর সড়কে ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি ভবনের অনুমোদিত নকশায় নিচতলায় গাড়ি পার্কিং থাকলেও কর্তৃপক্ষ সেটাকে ক্যান্টিন হিসেবে ব্যবহার করছে। রাজউক কর্মকর্তাদের অভিযোগ, এই ক্যান্টিন সরিয়ে নিতে ইতিপূর্বে নোটিশ দিলেও ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষ গ্রাহ্য করেনি। ফলে রাজউকের ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ইউনিভার্সিটির ঊর্ধতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে নিচতলার গাড়ি পার্কিং নিশ্চিত করতে সাত দিন সময় বেধে দেন এবং ইউনিভার্সিটিটি দ্রুত আবাসিক এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন। ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষ তখন লিখিত মুচলেকা দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেন।

ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির ডেপুটি ডিরেক্টর মো. ইমতিয়াজ রাজউকের অভিযান প্রসঙ্গে কোনও মন্তব্য করতে চাননি। সাংবাদিকরা ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের কোনও বক্তব্য নেই। আমরা কি আপনাদের ডেকেছি? রাজউকের কাছ থেকেই জেনে নিন।

রাজউকের ম্যাজিস্ট্রেট মো. নাসির উদ্দিন বলেন, সাত দিনের মধ্যে ক্যান্টিন সরিয়ে পার্কিং নিশ্চিত না করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রাজউকের উচ্ছেদ এড়াতে ৬ নম্বর সড়কের ৩০ নম্বর প্লটের সামনের দিকে অননুমোদিত চারটি দোকান টিনের বেড়া দিয়ে রাখা হয়েছিল। রাজউকের মোবাইল কোর্টের নির্দেশে এই বেড়া অপসারণ করে কাবাব ভিলেজ, মাস্ক সেলুনসহ চারটি দোকান গুড়িয়ে দেওয়া হয়। কাবাব ভিলেজের মালিক মহিবুর রহমান বলেন, দুই বছর ধরে রেস্টুরেন্টটি চালাচ্ছি। অভিযানের খবর পেয়ে আমরা কয়েক দিন ধরে রেস্টুরেন্টটি সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি। একই প্লটে থাকা তোফাজ্জল স্টোরের এক কর্মী জানান, গত ২৪ জুলাই সাত দিনের মধ্যে দোকানটি অপসারণের নির্দেশ দিয়ে রাজউক থেকে নোটিস দেওয়া হয়েছিল। সে অনুযায়ী আরও তিনটা দিন তাদের হাতে ছিল। কিন্তু রাজউক নিজেই নিজের নোটিশ মানল না। ৬ নম্বর সড়কের ৩২/এ নম্বর প্লটে পেডিহোপ হসপিটাল ফর সিক চিল্ড্রেন নামের একটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে হাসপাতালটি সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালের পক্ষে প্রফেসর মঞ্জুর হোসেন এ ব্যাপারে লিখিত মুচলেকা দেন।

ধানমণ্ডি লেকপাড়ে রবীন্দ্র সরোবর সংলগ্ন ৭/এ সড়কের ৫৮ নস্বর প্লটে ছয়তলা ভবনের নিচতলায় মি. বেকার’র পেস্ট্রিশপটি বুলডোজার দিয়ে গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

আবাসিক এলাকার ১১/এ সড়কের ৭৮ নম্বর প্লটের পেছন দিকে থাকা ছয়তলা ভবনে লেকহেড গ্রামার স্কুলটি স্থানান্তরের কার্যক্রম চলছে কয়েক দিন ধরে। বুধবার অভিযান চালিয়ে রাজউক কর্মকর্তারা ওই ভবনের গ্যাস, পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পাশাপাশি আবাসিক এলাকায় যাতে স্কুলটি স্থানান্তর করা না হয় সে জন্য কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করে দেন। স্কুলের অ্যাডমিন ইনচার্জ মায়ফুল বেগম বলেন, স্কুলটি অন্যত্র স্থানান্তরের এই নির্দেশনা আমরা মালিকদের জানাব।

উচ্ছেদ অভিযানে ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে ছিলেন রাজউকের পরিচালক শাহআলম চৌধুরী ও অথরাইজড অফিসার শফিউল হান্নান।

গুলশান মডেল টাউনের এক নম্বর সার্কেলের ২, ৭ ও ৮ নম্বর সড়কে পরিচালিত মোবাইল কোর্টে নেতৃত্ব দেন রাজউকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খন্দকার অলিউর রহমান। অভিযানে আবাসিক এলাকায় অবৈধভাবে বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার দায়ে ৩টি রেস্টুরেন্ট, একটি আবাসিক হোটেল বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ সময় সেবাদানকারী সংস্থাগুলো একটি গাড়ির শো-রুম এবং এসব প্রতিষ্ঠানে তাদের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। এছাড়া একটি ভবনের সামনে ফুটপাতের ওপর নির্মিত অবৈধ র‌্যাম্প অপসারণ এবং একটি ভবনের কার পার্কিংয়ের জায়গা উদ্ধার করা হয়।

গুলশান ও ধানমণ্ডির অভিযানে রাজউককে সহযোগিতা করে মহানগর পুলিশ এবং ইউটিলিটি সার্ভিস প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।

প্রসঙ্গত, গুলশান হামলার পর গত ২৫ জুলাই থেকে রাজধানীর আবাসিক এলাকা থেকে অননুমোদিত বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান উচ্ছেদে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছে রাজউক। আগস্টজুড়েও এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

আরও পড়তে পারেন: ৭১ এর যুদ্ধাপরাধী পাকিস্তানি সেনা কর্মকর্তাদের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে

/ওএফ/এমএসএম/