অর্থমন্ত্রীর প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সরকারি ও বিরোধী দলসহ অন্যান্য দলের ২৪৬ জন সংসদ সদস্য ৬০ ঘণ্টা ৫০ মিনিট আলোচনা শেষে গত ৩০ জুন তিন লাখ ৪০ হাজার ৬০৫ কোটি টাকার বাজেট পাস করা হয়। বাজেট পাসের পর ওইদিনই অধিবেশন মুলতবি করার পর ১৭ জুলাই আবার শুরু হয়।
বুধবার স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী অধিবেশনের সমাপ্তি সংক্রান্ত রাষ্ট্রপতির আদেশ পাঠ করার মধ্য দিয়ে অধিবেশনের ইতি টানেন।
সংসদে কার্য উপদেষ্টা কমিটি ২৮ জুলাই পর্যন্ত অধিবেশন চালানোর সিদ্ধান্ত নিলেও একদিন আগেই তা শেষ করা হচ্ছে।
বাজেট আলোচনায় সংসদ সদস্যরা নিজেদের এলাকার উন্নয়ন নিয়ে কথা বলার পাশাপাশি আর্থিক ব্যবস্থাপনা, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি নিয়ে সরব ছিলেন।
আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে সরকারের সমালোচনার পাশাপাশি অর্থমন্ত্রীর সমালোচনাও করেন বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্যরা।
বাজেট প্রস্তাবের দিন ও এর পরে গত ২১ জুলাই বাংলাদেশ থেকে রিজার্ভ চুরি বিষয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত সংসদে বিবৃতি দেবেন বলে জানালেও শেষ পর্যন্ত তা দেননি।
এছাড়া স্কুল-কলেজের পরিচালনা পর্ষদে স্থানীয় এমপির সভাপতি মনোনীত হওয়া নিয়ে আপিল বিভাগের রায় নিয়ে সমালোচনা করেছেন সংসদ সদস্যরা।
এছাড়া রাজধানীর গুলশানে জঙ্গি হামলা, ঈদের দিন শোলাকিয়ায় ঈদ জামাতের কাছে জঙ্গি হামলাসহ বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসবাদী হামলা নিয়ে গত ১৯ জুলাই সাধারণ আলোচনা করেন সংসদ সদস্যরা।
আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিমের আনা এক প্রস্তাবের ওপর ওই আলোচনা শেষে সংসদে নিন্দা প্রস্তাবও গৃহীত হয়।
সংসদ সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী সদস্য সমাপ্ত ৩২ কার্যদিবসের এই অধিবেশনে মোট ১৬টি বিল পাস হয়। এছাড়া ৭১ বিধিতে পাওয়া ১৯৩টি নেটিশের মধ্যে ১২টি নোটিশ গ্রহণ করা হয়। যার মধ্যে আলোচনা হয়েছে ২টির। ৭১(ক) বিধিতে ৫৬টি নোটিশ আলোচিত হয়েছে।
অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর উত্তর দেওয়ার জন্য প্রশ্ন জমা পড়ে ২৩১টি। যার মধ্যে সংসদ নেতা জবাব দেন ৯১টি প্রশ্নের। অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীদের জন্য চার হাজার ১৮৪টি প্রশ্ন জমা পড়ে; মন্ত্রীরা উত্তর দেন তিন হাজার ৪৭১টি।
/ইএইচএস/এমএনএইচ/