ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ডিসি) শেখ মারুফ হাসান বাংলা ট্রিবিউনকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ফ্লাইওভার বন্ধ থাকার সময়টায় সাধারণ লোকজন নিচ দিয়ে চলাচল করতে পারবেন।
তিনি জানান, বন্দি স্থানান্তরে নিরাপত্তার বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনও হুমকি নেই। তবে আমরা গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। যে রুট দিয়ে বন্দিদের নেওয়া হবে সেখানে ভোর ৪টা থেকে আমরা দায়িত্ব নিয়েছি। সূর্যাস্ত পর্যন্ত বন্দি স্থানান্তরের কাজ চলবে। বাকিদের শনিবার নেওয়া হবে।
মারুফ হাসান জানান, র্যাব, পুলিশ, এপিবিএন ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া পাহারায় বন্দিদের স্থানান্তর করা হচ্ছে।
এর আগে কারা উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি প্রিজন) আবিদ হাসান বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, শুক্রবার সকাল থেকে কেরানীগঞ্জের নতুন কারাগারে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বন্দি স্থানান্তর করা শুরু হবে। প্রথম দিন ২৫ থেকে ৩০ টি প্রিজন ভ্যানে ৬ থেকে ৭ হাজার বন্দি স্থানান্তর করা হবে। শনিবার বাকি বন্দিদের নেওয়া হবে।
আবিদ হাসান আরও বলেন, বর্তমানে নতুন কারাগারটি সম্পূর্ণ প্রস্তুত। সেখানে মানবাধিকার সমুন্মত রেখে বন্দিরা সব সুযোগ সুবিধা পাবেন। কেরানীগঞ্জের কারাগারটি পুরুষ কারাগার হওয়ায় ইতোমধ্যেই প্রায় সব নারী ও শিশুকে কাশিমপুরে স্থানান্তর করা হয়েছে।
এর আগে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১০ এপ্রিল কেরানীগঞ্জে নতুন কারাগার উদ্বোধন করেন। এরপর বন্দি স্থানান্তরের জন্য তারিখ নির্ধারণ হলেও নানা কারণে কার্যকর করা হয়নি। প্রাথমিকভাবে কিছু ত্রুটি ধরা পড়ায় সেগুলোও সংস্কার করা হয়। পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা, কেস টেবিল, ফাঁসির মঞ্চসহ বেশকিছু বিষয়ে সংস্কার করা হয়েছে। এটি এশিয়ার সর্বাধুনিক ও বৃহত্তম এই কারাগারটি। এর ধারণক্ষমতা প্রায় ৮ হাজার। কেরানীগঞ্জের রাজেন্দ্রপুরে প্রায় ১৯৪ একর জায়গার ওপর চার শতাধিক কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়েছে।
১৯৮০ সালের দিকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের আশপাশে বেশ কয়েকটি বড় আবাসিক ভবন গড়ে ওঠে। এছাড়া আদালত থেকে কারাগারে আসামি নেওয়া আনায়ও পড়তে হয় দীর্ঘ যানজটে। এতে কারাগারের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা উভয়ই বিঘ্নিত হচ্ছে বলে উপলব্ধি করে তৎকালীন সরকার। ওই বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কাউন্সিলের একটি সভায় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার সরানোর বিষয়টি প্রথম উঠে আসে। ১৯৯৪ সালে একে চূড়ান্তভাবে সরিয়ে দুটি কারাগার নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর মধ্যে একটি গাজীপুরের কাশিমপুরে ও অন্যটি কেরানীগঞ্জে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০০৬ সালে একনেকে কেরানীগঞ্জে এই প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। এরপর থেকেই শুরু হয় জমি অধিগ্রহণের কাজ। বাস্তবায়নের সময় নির্ধারণ করা হয় ২০১১ সালের জুন মাস পর্যন্ত। কিন্তু পরে তিন দফায় প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে করা হয় ২০১৭ সাল পর্যন্ত।
ছবি: সাজ্জাদ হোসেন
আরও পড়ুন-
সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধে ’৭১ এর মতোই বাংলাদেশের পাশে থাকবে ভারত: নরেন্দ্র মোদি
‘মাস্টারমাইন্ড’ তামিম চৌধুরীর যাতায়াত ছিল কল্যাণপুরের জঙ্গি আস্তানায়!
অপারেশন স্টর্ম-২৬ আ. লীগের বড় অর্জন!
/এফএস/