অপর এক প্রশ্নের জবাবে আইজি প্রিজন বলেন, কেরানীগঞ্জ কারাগারের আশপাশে কোনও স্থাপনা গড়ে তুলতে দেওয়া হবে না। এমনকি পান, সিগারেট, চায়ের দোকানও করতে দেওয়া হবে না। আমরা কারগারে আধুনিক ক্যান্টিন তৈরি করবো। সেখান থেকে বন্দিদের আত্মীয় স্বজনরা সবকিছু কিনতে পারবেন।
কেরানীগঞ্জ কারাগারে বন্দিদের মৌলিক অধিকারগুলো নিশ্চিত হবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে ইফতেখার উদ্দীন বলেন, একজন বন্দির যেসব সুবিধা পাওয়া দরকার জাতিসংঘের নিয়ম অনুযায়ী সেসব সুবিধা দেওয়া হবে। ওখানে গিয়ে বন্দিরা খুশি হবে।
কেরানীগঞ্জ কারাগারে যে নির্মাণ ক্রুটি ছিল সেগুলো এখনও আছে কিনা এমন প্রশ্নে জবাবে তিনি বলেন, নির্মাণ ত্রুটিগুলো পিআইডব্লিউ ঠিক করার পরেই আমরা সেখানে বন্দিদের স্থানান্তর করছি। এজন্যই চার মাস দেরি হয়েছে। বর্তমানে সেখানে ৫ হাজার ৪৯০ জনের ধারণক্ষমতা রয়েছে।
তাহলে এতো বন্দি কেন নিচ্ছেন, এতেতো মানবাধিকার নিশ্চিত হচ্ছে না এমন প্রশ্নের জবাবে আইজি প্রিজন বলেন, জাতিসংঘের নিয়ম অনুযায়ী একজন বন্দি কারাগারে ৩৫ বর্গফুট জায়গা পাবে। কিন্তু এখানে প্রতি বন্দির জন্য ৯০ বর্গফুট জায়গা রেখেছি। এর মধ্যে তার শোয়ার জায়গা, বারান্দা, টয়লেট রয়েছে। তাই অতিরিক্ত বন্দিদের এই মুহূর্তে বারান্দায় রাখবো।
তিনি বলেন,আমাদের মতো দেশে বাজেট বরাদ্দ কম। তবে আস্তে আস্তে এটা ঠিক হবে। আপনারা জানেন আট হাজার বন্দিদের জন্য এই প্রজেক্ট চলমান। কারারক্ষীদের থাকার জায়গা সম্পর্কে তিনি বলেন, আমরা কারারক্ষীদের জন্য সুব্যবস্থা করতে পারিনি। যা করা হয়েছে তা কারারক্ষীদের নিয়মিত ব্যারাকের তুলনায় কম। তাদের জন্য পরে একটি ব্যারাক নির্মাণ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, বন্দিদের তাদের স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য দোতলায় একটি রুম রয়েছে। সেখানে একসঙ্গে ৪০ জন বন্দি দেখা করতে পারবে। তবে আমরা দোতলা ভবনটিকে চার তলায় উন্নীত করবো। এছাড়া আরও একটি চারতলা ভবন নির্মাণ করা হবে যাতে একসঙ্গে ৮০ জন বন্দি স্বজনদের সঙ্গে দেখা করতে পারে।
বিভিন্ন সময় শোনা যায় বন্দিরা কারাগারে মোবাইল ফোনে কথা বলে- এর উত্তরে আইজি প্রিজন বলেন, যেটা অভিযোগ সেটা অভিযোগই।অভিযোগ যখন প্রমাণিত হয় তখন তা সত্য। একজন বন্দি শুধু কারাগারের ভেতরেই থাকে না। তাকে সপ্তাহের বিভিন্ন দিন দেশের বিভিন্ন জেলায় আদালতে হাজিরা দিতে হয়। আদালতে হাজিরা দিতে গিয়েও তারা বিবিধভাবে যোগাযোগ করতে পারে।
তিনি জানান, ২৫টি প্রিজন ভ্যান ও ৮টি বাসে বন্দিদের স্থানান্তরিত করা হচ্ছে। প্রতি বহরে ৩০০ জন করে বন্দি নেওয়া হচ্ছে। কেরানীগঞ্জের ওই কারাগারে ৫৫৩ জন কারারক্ষী দায়িত্ব পালন করবেন।
উল্লেখ্য, কেরানীগঞ্জের তেঘরিয়া ইউনিয়নের রাজেন্দ্রপুরে সাড়ে পাঁচ হাজার বন্দি ধারণ ক্ষমতার এ নতুন কারাগার গত ১০ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন করেন।
আরও পড়ুন:
বন্দি সরানো হচ্ছে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে, ফ্লাইওভার বন্ধ
/এআরআর/বিটি/