উল্লেখ্য, শুক্রবার ভোর সাড়ে ৬টায় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে কেরানীগঞ্জে নবনির্মিত কারাগারে বন্দি স্থানান্তর শুরু হয়েছে। বেলা ১টা পর্যন্ত তিন হাজার বন্দি স্থানান্তর করা হয়েছে। নিরাপত্তার জন্য মেয়র হানিফ ফ্লাইওভার দিয়ে জনসাধারণের চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফ্লাইওভার বন্ধ থাকাকালীন সাধারণ লোকজন নিচ দিয়ে চলাচল করতে পারবেন।
এর আগে কারা উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি প্রিজন) আবিদ হাসান জানান, বর্তমানে নতুন কারাগারটি সম্পূর্ণ প্রস্তুত। সেখানে মানবাধিকার সমুন্মত রেখে বন্দিরা সব সুযোগ সুবিধা পাবেন। কেরানীগঞ্জের কারাগারটি পুরুষ কারাগার হওয়ায় ইতোমধ্যেই প্রায় সব নারী ও শিশুকে কাশিমপুরে স্থানান্তর করা হয়েছে।
কেরানীগঞ্জের রাজেন্দ্রপুরে প্রায় ১৯৪ একর জায়গার ওপর চার শতাধিক কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়েছে।
১৯৮০ সালের দিকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের আশপাশে বেশ কয়েকটি বড় আবাসিক ভবন গড়ে ওঠে। এছাড়া আদালত থেকে কারাগারে আসামি নেওয়া আনায়ও পড়তে হয় দীর্ঘ যানজটে। এতে কারাগারের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা উভয়ই বিঘ্নিত হচ্ছে বলে উপলব্ধি করে তৎকালীন সরকার। ওই বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কাউন্সিলের একটি সভায় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার সরানোর বিষয়টি প্রথম উঠে আসে। ১৯৯৪ সালে একে চূড়ান্তভাবে সরিয়ে দুটি কারাগার নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর মধ্যে একটি গাজীপুরের কাশিমপুরে ও অন্যটি কেরানীগঞ্জে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০০৬ সালে একনেকে কেরানীগঞ্জে এই প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। এরপর থেকেই শুরু হয় জমি অধিগ্রহণের কাজ। বাস্তবায়নের সময় নির্ধারণ করা হয় ২০১১ সালের জুন মাস পর্যন্ত। কিন্তু পরে তিন দফায় প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে করা হয় ২০১৭ সাল পর্যন্ত।
ছবি: সাজ্জাদ হোসেন
আরও পড়ুন:
বন্দি সরানো হচ্ছে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে, ফ্লাইওভার বন্ধ
রাস্তা ফাঁকা থাকলে আজই সব বন্দি স্থানান্তর: কারা মহাপরিদর্শক
/এআরআর/বিটি/এফএস/