‘জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় আলেমদের নিয়ে আলাদা সেল গঠন করতে হবে’

জঙ্গিবাদজঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস দমনে দেশবরণ্যে  আলেম ও বুদ্ধিজীবীদের নিয়ে আলাদা সেল গঠনের পরামর্শ দিয়েছেন আলেমরা। তারা বলেন, শুধু মাত্র ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে জঙ্গিবাদবিরোধী প্রচারণা করলে হবে না, এর জন্য দেশের সব আলেমকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। শনিবার দুপুরে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা উপ-পরিষদ আয়োজিত ‘ইসলামের আলোকে জঙ্গি ও সন্ত্রাস মোকাবিলায় করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় তারা এই পরামর্শ দেন।
বক্তরা বলেন, ইসলাম শান্তির ধর্ম। ধর্মের নামে জঙ্গিবাদী কর্মকাণ্ড ইসলাম সমর্থন করে না। তাই দেশের জনগণকে এ বিষয়ে সচেতন করতে দেশবরণ্যে আলেম ও বুদ্ধিজীবীদের নিয়ে আলাদা সেল গঠন করতে হবে। জঙ্গিবাদ ইস্যুটি বিভিন্ন কারণে বাংলাদেশে বেশি প্রচারণা করা হচ্ছে। এর পেছনে রাজনৈতিক যোগ-বিয়োগ আছে। যারা রাজনৈতিকভাবে সুবিধা পাবে তারাই এর পেছনে ইন্ধন দিচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমামের সভাপতিত্বে গোল টেবিল আলোচনায় আরও অংশ নেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য আখতারুজ্জামান, বাংলাদেশ তরিকত ফেড়ারেশনের চেয়ারম্যান নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী, ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মেছবাহুর রহমান, শোলাকিয়া ঈদগাহের প্রধান ইমাম ফরিদউদ্দিন মাসউদ, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য খন্দকার গোলাম মাওলা নক্শবন্দী, ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আহসান উল্লাহ, ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দিন আহমেদ, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আমিনুল ইসলাম আমিন প্রমুখ।

সভাপতির বক্তব্য এইচ টি ইমাম বলেন, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে মুক্তিযুদ্ধকে যেভাবে আমরা জনযুদ্ধে পরিণত করতে পেরেছি, ঠিক তেমনিভাবে আমাদের আরেকটি জনযুদ্ধ করতে হবে। এই জনযুদ্ধে সবাই যদি শামিল হই, তাহলে এ জঙ্গিদের পরাজিত করতে পারব। যদি আমরা সবাই এই জনযুদ্ধে শামিল হই, তবেই আমাদের বিজয় হবে।

ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মেছবাহুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বিজ্ঞ কোনও উপদেষ্টা কিংবা মন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি সেল গঠন করতে হবে, যেখানে  আলেম, শিক্ষক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও বুদ্ধিজীবীরা থাকবেন।  

শোলাকিয়া ঈদগাহের প্রধান ইমাম ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ বলেন, ইসলাম আত্মঘাতী হওয়া জঘন্য অপরাধ। মদ খেয়ে যদি কেউ মৃত্যুবরণ করে তার জানাজা যেমন পড়া যাবে কিন্তু যারা ইসলামের নাম করে আত্মঘাতী হামলা করে মৃত্যুবরণ করে তাদের জানাজা পড়াও জায়েজ হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে এ সব জঙ্গিবাদী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সচেতন ও সতর্ক করতে দেশের আলেম সামাজকে এগিয়ে আসতে হবে। আর সরকারের  উচিত হবে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পাশাপাশি এ দেশের আলেম সমাজকে নিয়ে এ বিষয়ে কাজ করতে হবে। প্রয়োজনে আলাদা একটা সেলও গঠন করা যেতে পারে।

আরও পড়তে পারেন: দেশের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রাখতে যা করছে সরকার

/পিএইচসি/এমএনএইচ/