জঙ্গি তৎপরতায় লিপ্ত হলে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ: ইউজিসি চেয়ারম্যান


সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান

দেশের সব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্ত-ব্যক্তিদের উদ্দেশ্যে করে ইউজিসি চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে সন্ত্রাসী-জঙ্গি তৎপরতা বা দেশের স্বার্থের ও সার্বভৌমত্বের কোনও ক্ষতি হয় বা স্বাধীনতাকে ক্ষতি করে, এমন কাজে কোনও বিশ্ববিদ্যালয় লিপ্ত হলে সেই বিশ্ববিদ্যালয়কে বন্ধ করে দেওয়া হবে।
রবিবার জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে মানববন্ধন এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক কর্মকাণ্ড নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন।
নর্থ সাউথের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে চেয়ারম্যান বলেন, নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে জঙ্গি কর্মকাণ্ড সহ বেশ কিছু অভিযোগ আগে থেকেই ছিল। তখনই একটি তদন্ত দল ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের গিয়েছিল, তদন্তও হয়েছিল। তদন্তে কিছু অনিয়মও পাওয়া গিয়েছিল। সেই মোতাবেক আমরা একটি রিপোর্ট সরকারকে জানিয়েছিলাম। মন্ত্রণালয় তাদের কাছে মাত্র এক মাসের সময় দিয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছিল। কিন্তু তারা ওই নোটিশের কোনও জবাব দেয়নি। পরে গুলশানের ঘটনার পরে তারা যখন সমালোচনায় পড়তে থাকে, তখন জুলাই মাসের ১৪ তারিখ দায়সারা গোছের একটি জবাব দিয়েছে এবং মন্ত্রণালয় ১৭ জুলাই আমাদেরকে অবহিত করেছে।
১৪ জুলাই ইউজিসির তদন্ত দল নর্থ সাউথে গেলে তাদের কাছে কিছু কাগজপত্র চাওয়া হয়, কিন্তু তারা তা তাৎক্ষণিকভাবে দিতে পারেনি। তারা এক মাসের সময় নিয়েছে। আমরা তাদের কাছে যা চেয়েছি, তা একমাসের মধ্যে দিলে শিক্ষামন্ত্রণালয়কে রিপোর্ট দেবো। রিপোর্ট পর্যালোচনা করে শিক্ষামন্ত্রণালয় ব্যবস্থা নেবে।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০১০ ধারা ৬ (১০) ও ধারা ৪৮ এবং ৪৯ এর উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি আরও বলেন, আইন অনুযায়ী সরকারি অথবা বেসরকারি যেকোনও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে জঙ্গি তৎপরতা বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধও হতে পারে। সরকার এ বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। 

গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের বরাত দিয়ে ইউজিসির চেয়ারম্যান বলেন, জঙ্গিবাদের সমস্যা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কোনও কোনও সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে আরও বেশি। এটিকে জাতীয় সমস্যা হিসেবে দেখতে হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে আব্দুল মান্নান জানান, সারা দেশে বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬৪টি শাখা ক্যাম্পাস (আউটার) ছিল। এর মধ্যে দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়েরই ২৯টি শাখা ক্যাম্পাস ছিল। এগুলো আদালতের স্থগিতাদেশ নিয়ে চলছিল।

আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী শিক্ষা মন্ত্রণালয় দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করেছে। সেই সঙ্গে সব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আউটার ক্যাম্পাসও বন্ধ ঘোষণা করেছে।

তবে বন্ধ হয়ে যাওয়া দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করতে পারবে কি না, এ ব্যাপারে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানান তিনি। 

উল্লেখ্য, সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, জঙ্গিবিরোধী সচেতনতার অংশ হিসেবে আগামীকাল সারা দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীরা মানববন্ধন করবেন। বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এই কর্মসূচি পালিত হবে।

আরএআর/ এপিএইচ/

আরও পড়ুন:

‘জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে প্রস্তুতি’ বৈঠকিতে বক্তারা: এটা যুদ্ধ, এ যুদ্ধে জিততে হবে

গুলশান হামলার ‘মাস্টারমাইন্ড’ তামিমসহ ৫ জেএমবি জঙ্গি ভারতে