পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

এক মাসের মধ্যে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভোটের মাধ্যমে কমিটি

দেশের সব বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সংসদ সদস্যদের সভাপতি পদের থাকার রীতি বাতিল করে দেওয়া পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট। এছাড়া যেসব প্রতিষ্ঠান নির্বাচন ছাড়া বিশেষ কমিটির মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে আসছিল সেসব কমিটিও বাতিলের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

রায়ের কপি পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে এসব প্রতিষ্ঠানে অ্যাডহক কমিটি গঠন করে নির্বাচন দিতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে এ সংক্রান্ত আইনের সংশ্লিষ্ট ধারা সংশোধন করতে আইন সচিব, শিক্ষা সচিব ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রবিবার বিচারপতি জিনাত আরা ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হকের হাইকোর্ট বেঞ্চের এ রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়।

এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সব বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য এই বিধান প্রযোজ্য হবে এবং অবিলম্বে তা কার্যকর হবে। সব ধরনের শিক্ষা বোর্ড, বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতাধীন সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য এ রায় প্রযোজ্য হবে।

মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের বিধানমালা ২০০৯-এর ৫ ধারা অনুযায়ী, স্থানীয় সংসদ সদস্যরা ৪টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি হিসেবে থাকতে পারবেন। আর ৫০ ধারায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন না দিয়ে বিশেষ কমিটির মাধ্যমে গঠনের বিষয়টি রয়েছে। এই দুটি ধারা সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক দাবি করে তা বাতিল চেয়ে অ্যাডভোকেট ইউনুছ আলী আকন্দ হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করেন। সেই রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে আদালত চলতি বছর ১৩ এপ্রিল রুল জারি করেন।

রুলে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হিসেবে সংসদ সদস্যদের দায়িত্ব পালন এবং নির্বাচন ছাড়া কমিটি গঠন কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চায় হাইকোর্ট। গত ১ জুন এই মামলার রায়ে আদালত সংশ্লিষ্ট ধারা বাতিল করে, যার পূর্ণাঙ্গ রায় এবার প্রকাশিত হল।

এর আগে সংক্ষিপ্ত রায়ে আদালত ভিকারুননিছা নুন স্কুল ও কলেজের সভাপতি রাশেদ খান মেননের ২৪ ডিসেম্বর ২০১৫ এবং ৩০ ডিসেম্বর ২০১৫ তারিখের বিশেষ কমিটি অবৈধ ঘোষণা করেন। এ ছাড়া ওই নীতিমালার ৫০ ধারা অনুযায়ী যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিশেষ কমিটি আছে তা অবৈধ ঘোষণা করে আদালত। ফলে বাংলাদেশের কোনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ২০১৫ সালের ১ জুন এই রায় ঘোষণার দিন থেকে কোনও বিশেষ কমিটিও নেই।

অন্যান্য সব শিক্ষা বোর্ড যেমন- ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, যশোর, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর, মাদ্রাসা বোর্ড, কারিগরি শিক্ষা বোর্ড, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজসহ একই ধরনের অন্যান্য আইনের ৫ (১), (২) ধারা সহ একই সমপর্যায়ের অন্যান্য রেগুলেশন বাতিলেরও নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

/ইউআই/এসটি/