বন্দুকের নিরাপত্তায় লাঠি!

বন্দুকের নিরাপত্তায় লাঠি!গুলশান ও শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলার পর চেকপোস্টগুলোতে ‘অন গার্ড’ দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা আসে। নির্দেশনা অনুযায়ী চেকপোস্টগুলোতে পুলিশ সদস্যরা যখন সন্দেহভাজনদের তল্লাশি করবেন, তখন তাদের পেছনে আরও একজন পুলিশ সদস্য আগ্নেয়াস্ত্র তাক করে দাঁড়িয়ে থাকবেন এবং আরও পেছনে অন্য একজন পুলিশ সদস্য লাঠি বা অস্ত্র নিয়ে প্রস্তুত থাকবেন। যদি তল্লাশির সময় সন্দেহভাজনদের কেউ পালানোর বা হামলার চেষ্টা করে, তাহলে পেছনে থাকা পুলিশ সদস্য তাকে গুলি করতে পারবেন। কেউ যদি সামনে থাকা পুলিশ সদস্যদের এড়িয়ে যেতে সক্ষম হয়,  তবে তাকে যে কোনোভাবে আটকাবেন শেষে থাকা  লাঠিধারী পুলিশ সদস্য। তবে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় দায়িত্ব পালনে নির্দেশনা থাকলেও রাজধানীর বেশিরভাগ পুলিশ চেকপোস্টগুলো নিরাপত্তা সংকটে রয়েছে। নিজেদের অরক্ষিত বলেই মনে করছেন বিভিন্ন চেকপোস্টে দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তারা। যদিও পেশাগত জায়গা থেকে তারা মুখ খুলতে রাজি নন।

২০১৫ সালের শেষ দিকে চেকপোস্টে পরপর দুইটি হামলার ঘটনা ঘটে। রাজধানীর গাবতলীতে দায়িত্ব পালনের সময় দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে পুলিশের একজন এএসআই নিহত হন। রাত পৌনে ৯টায় পুলিশের চেকপোস্ট তল্লাশির সময় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।  এর পরপরই সাভারের আশুলিয়ায় পুলিশের একটি চেকপোস্টে তল্লাশির সময় ছুরি মেরে শিল্প পুলিশের এক কনস্টেবলকে হত্যা ও চারজনকে জখম করে দুর্বৃত্তরা।

গত ১ জুলাই গুলশান আর্টিজান হামলার পর রাজধানীবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাড়ানো হয়েছে চেকপোস্টের সংখ্যা।পুলিশ সূত্র জানায়, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ৬টি বিভাগকে অর্ধশতাধিক জোনে ভাগ করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। শহরজুড়ে র‌্যাব-পুলিশের ৩ শতাধিক চেকপোস্টে যানবাহন ও জনসাধারণকে তল্লাশি করা হচ্ছে।

এমনকি গত ১ জুলাই গুলশানে ও ঈদের দিন শোলাকিয়ার ময়দানের অদূরে জঙ্গি হামলা ঘটনার পর চেকপোস্টগুলোতে ‘অন গার্ড’ দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা আসে। যেখানে চেকপোস্টগুলোতে পুলিশ সদস্যরা যখন সন্দেহভাজনদের তল্লাশি করবেন, তখন তাদের পেছনে আরও একজন পুলিশ সদস্য আগ্নেয়াস্ত্র তাক করে দাঁড়িয়ে থাকবেন এবং আরও পেছনে অন্য একজন পুলিশ সদস্য লাঠি বা অস্ত্র নিয়ে প্রস্তুত থাকবেন। যদি তল্লাশির সময় সন্দেহভাজনদের কেউ পালানোর বা হামলার চেষ্টা করে, তাহলে পেছনে থাকা পুলিশ সদস্য তাকে গুলি করতে পারবেন। শেষে দাঁড়িয়ে থাকা লাঠি বা অস্ত্র নিয়ে প্রস্তুত পুলিশ সদস্যের দায়িত্ব থাকবে, সামনে থাকা পুলিশ সদস্যদের কেউ এড়িয়ে যেতে সক্ষম হলে, তাকে যে কোনোভাবে আটকানো।

রাজধানীর চেকপোস্টগুলো ঘুরে তেমন কোনও চিত্র চোখে পড়েনি।একটু রাত হলেই পুলিশ নিজেরাই অতিমাত্রায় সাবধান হয়ে যায়। সংখ্যায় বেশি না থাকায় তাদের নিজেদের মধ্যে আক্রান্ত হওয়ার ভয় আছে। প্রতিটি গাড়ি থামিয়ে দেখা হয় না, কেবল সন্দেহভাজন মনে হলে তবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এবং সে জিজ্ঞাসাবাদের সময় ‘অন গার্ড’ সিস্টেম মানা হয় না।

রাজধানীর বিজয় স্মরণী মোড়ে রাত ১০ টার সময় চেকপোস্টে একাধিক পুলিশ সদস্য দেখা গেলেও, একটু দূরে একজন পুলিশ সদস্য একটি সিএনজি দাঁড় করিয়ে চেক করছেন। তার সহকর্মীরা বেশখানিকটা দূরে। তাদেরই একজনকে দুর্বৃত্ত ঠেকানোর প্রস্তুতি সম্পর্কে জিজ্ঞেসা করলে, আগে নিজের ব্যাজ ঢাকেন। তারপর নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,আমাদের ভাবতে হয় আমরা প্রস্তুত।আপনাদের মতোই আমাদের চাকরিতে রিস্ক আছে। তবে সত্য হলো, কেউ অঘটন ঘটাতে চাইলে আমাদের ততটা প্রস্তুতি নেই। তিনি আরও বলেন, আমাদের চাকরিটাই তো এমন। মানুষকে নিরাপত্তা দেই, কিন্তু নিজেদের নিরাপত্তা কতটা, তা নিয়ে ভাবলে চলবে না।

আরেকটু এগিয়ে গিয়ে বঙ্গবন্ধু সম্মেলন কেন্দ্র, আইডিবি, তালতলা, কাফরুল চেকপোস্টগুলো ঘুরে এর চেয়েও ঢিলেঢালা পরিস্থিতি নজরে আসে। প্রতিবেদক ও ক্যামেরাম্যানের সাথে কথা বলতে গিয়ে, দশ মিনিট ধরে অন্য কোনওদিকে খেয়াল নেই তাদের। যাকে চেক করছেন তিনি যদি কোনও অঘটন ঘটাতে যান, তখন কী করবেন প্রশ্নে একজন হেসে বললেন, আমাদের প্রশিক্ষণ অনুযায়ী কাজ করবো। কী কাজ তা বলতে গিয়ে বলেন, চেক করতে চাওয়ার সময় কেউ বাধা দিলে আমরা সন্দেহ করি। তবে, একেকটি চেকপোস্টে আমাদের সদস্য সংখ্যা এতো কম কেউ আমাদের ওপর হামলা করলে, জান দিয়ে তাদের ঠেকাতে হবে।

পুলিশ হেডকোয়ার্টারের উপকমিশনার (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমাদের কেবল চেকপোস্ট আছে তা না, টহলের গাড়ি, হেঁটে টহলসহ বেশকিছু ধরনের নিরাপত্তা কৌশল আছে। এসব জায়গায় পুলিশরা নিরাপদ কিনা প্রশ্নে তিনি বলেন, সেটাতো আমাদেরকে মনে করতেই হবে। বাংলা ট্রিবিউনের অনুসন্ধান বলছে চেকপোস্টে যথেষ্ট পুলিশ নেই। সেক্ষেত্রে পুলিশ বাড়িয়ে দেওয়া যায় কিনা প্রশ্নে তিনি বলেন, সবসময় সবাইকে চেক করতে হয় বিষয়টা এমন না, বিভিন্ন কৌশল মানা হয় এসব ক্ষেত্রে। আমাদের চেকপোস্ট ও টহলের এতোরকম ধরন আছে যে, পুলিশের সংখ্যা বাড়ানোর সুযোগ তেমন নেই।

আরও পড়ুন- 

মেজর জিয়া ও তামিম চৌধুরীকে ধরিয়ে দিতে ৪০ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা

আর্থিক কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়ছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারাও

/এপিএইচ/