বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের বিরুদ্ধে সরকারি বাড়ি ছাড়ার রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ করেছেন আপিল বিভাগ। এ বিষয়ে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করতে পারবেন তিনি। মঙ্গলবার একই রায়ে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা বাড়ি আত্মসাতের মামলাটি বাতিল করা হয়।
বুধবার সকালে আপিল বিভাগের ওয়েবসাইটে ৮০ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়।
রাজধানীর গুলশান-২ এর ১৫৯ নম্বর প্লটের বাড়িটি নিয়ে মওদুদ আহমদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বাড়ি আত্মসাতের মামলা করেছিল। এ মামলাটি বাতিল করার পাশাপাশি তার ভাই মনজুর আহমদের নামে মিউটেশন (নামজারি) করতে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ও বাতিল করেছেন সর্বোচ্চ আদালত।
এর ফলে ভাইয়ের নামে দখল করা বাড়িটি মওদুদকে ছাড়তে হবে বলে জানান অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।
৩০০ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের সরকারি বাড়ি আত্মসাতের অভিযোগে গুলশান থানায় দুর্নীতির মামলাটি দায়ের করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ২০১৩ সালের ১৭ ডিসেম্বর গুলশান থানায় মওদুদ আহমদ ও তার ভাই মনজুর আহমদের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন দুদকের উপ-পরিচালক হারুনুর রশীদ।
মামলা এজাহার অনুযায়ী, ১৯৬০ সালের ২৪ আগস্ট গুলশান আবাসিক এলাকায় অবস্থিত এক বিঘা ১৩ কাঠা আয়তনের (হোল্ডিং নং ১৫৯) প্লটটি পাকিস্তানি নাগরিক মো. এহসানকে হস্তান্তর করে তৎকালীন ডিআইটি (বর্তমানে রাজউক)। পরবর্তীতে লিজ গ্রহীতার প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত আবেদনের ভিত্তিতে তার স্ত্রী ইনজে মারিয়া প্ল্যাজ (অস্ট্রেলিয়ান) এর নামে ওই প্লটটি ১৯৬৫ সালে লিজ দলিল হিসেবে রেজিস্ট্রি করে দেওয়া হয়। সরকারি পরিত্যক্ত সম্পত্তি তালিকা প্রণয়ন সংক্রান্ত ‘মিনিস্ট্রি অব ক্যাবিনেট অ্যাফেয়ার্স’ জারির আগেই ইনজে মারিয়া ফ্ল্যাজ ও মুক্তিযুদ্ধের পরপরই তার স্বামী মো. এহসানের দেশত্যাগের কারণে প্লটটি পরিত্যক্ত হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়।
এতে আরও বলা হয়েছে, মওদুদ আহমদ ওই সম্পত্তি আত্মসাতের অসৎ উদ্দেশ্যে নিজেকে ইনজে মারিয়া ফ্ল্যাজ প্রদত্ত আম মোক্তার নামার (পাওয়ার অব অ্যাটর্নি) দাবিদার দেখানোর জন্য ১৯৭৩ সালের ২ আগস্ট একটি আম মোক্তারনামা তৈরি করেন এবং তা তার সুবিধা মতো সময়ে ব্যবহার করেন। পরবর্তীতে নানা কৌশলে বাড়িটি দখলে নিয়ে নিজেকে ইনজে মারিয়া ফ্ল্যাজের ভাড়াটিয়া হিসেবে দেখিয়ে বাড়িটিতে বসবাস করে আসছেন তিনি।
/ইউআই/এসটি/