খামোখা পড়ে আছে কোটি টাকার স্পাই মেশিন

ঢামেকপ্রয়োজনীয় উপকরণের অভাবে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে কোটি টাকার একটি চিকিৎসা-যন্ত্র অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে। যন্ত্রটি স্পাই মেশিন নামে পরিচিত। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, এই যন্ত্রটির চাহিদাপত্রও ছিল না।
প্লাস্টিক সার্জারি, ব্রেস্ট সার্জারি, মাইক্রো সার্জারি, অর্গান ট্রান্সপ্লানটেশন, হৃদরোগীদের বাইপাস সার্জারিসহ নানা ক্ষেত্রে এটি ব্যবহৃত হয়। অস্ত্রোপচারের আগে কিংবা পরে রোগীর শরীরে রক্ত-সঞ্চালন স্বাভাবিক আছে কিনা, তা পরীক্ষা করতে এই স্পাই মেশিন ব্যবহৃত হয়। পরীক্ষায় এক ধরনের উপকরণ (ডাই) দরকার পড়ে, যেটি ব্যয়বহুল। সাধারণত একজন রোগীর জন্য প্রায় ১৫ হাজার টাকার ডাই লাগে। এটি আবার দেশে তৈরি হয় না; বিদেশ থেকে আনতে হয়। মূলত,এই ডাইয়ের সরবরাহ না থাকায় যন্ত্রটি খামোখা পড়ে আছে। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পাশাপাশি জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানেও (নিটোর)একটি স্পাই মেশিন আছে; যা একই কারণে পড়ে আছে।|
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে জেনারেল সার্জারি বিভাগে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট করেছেন, এমন কয়েকজন বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, তারা কখনও স্পাই মেশিনের কোনও ব্যবহার দেখেননি।
হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হরিদাস প্রতাপ সাহা জানান, সবাই এ মেশিন চালাতে পারে না, এর জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ নিতে হয়। ‘মেশিন আসার পর আমাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে আনা হয়েছে।’ চাহিদাপত্র ছাড়াই যন্ত্রটি কেনা হয়েছে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে কিছু বলতে পারবো না।’

হাসপাতালের সহকারী পরিচালক অধ্যাপক খাজা আবদুল গফুর বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, যন্ত্রটি সম্পর্কে তিনি কিছু জানেন না।

উল্লেখ্য, গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে বিশ্বব্যাংকের উদ্যোগে ‘বাংলাদেশ মেডিক্যাল ইকুইপমেন্ট সার্ভে’ শিরোনামে এক জরিপে দেখা যায়, সরকারি হাসপাতালগুলোতে অন্তত ১৬ শতাংশ যন্ত্রপাতি বাক্সবন্দি হয়ে পড়ে থাকে। বিকল হয়ে পড়ে থাকে ১৭ শতাংশ। জরিপে আরও দেখা যায়, হাসপাতাল এবং স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে সরবরাহকৃত ৫০ শতাংশ যন্ত্রপাতি রোগীদের কোনও উপকারে আসে না।

আরও পড়ুন: বৃহস্পতিবারও পুলিশ সদর দফতরে যাবেন বাবুল আকতার
/এআরএল/আপ-এআর/