শিশুর মনে ‘বাঁচাও সুন্দরবন’





শিশুদের চোখ সবসময়ই ভিন্ন কিছু দেখে, খোঁজেশিশুদের চোখ সবসময়ই ভিন্ন কিছু দেখে, খোঁজে। রামপালে কয়লা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রর দূষণ থেকে সুন্দরবনকে বাঁচাতেও দেখা যাচ্ছে তাদের বিভিন্ন উদ্যোগ। বন বাঁচাতে তারা নিজেদের মতো করে আঁকছে সুন্দরবন, সবুজ গাছ, বাঘ, হরিণ ইত্যাদি। তারা বলছে, সুন্দরবন হারিয়ে গেলে বড় হয়ে গর্ব করবো কী নিয়ে!

শিশু-কিশোরদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা পরিবারের বড়দের কাছ থেকে সুন্দরবন ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে এমন বিষয় জেনেছে। তাই নিজেরা সুন্দরবনের ছবি এঁকে, প্রতিবাদ জানিয়ে বড়দের মাধ্যমে ফেসবুকসহ অনলাইনে পৌঁছে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে।


বাঁচাও সুন্দরবনশিশু মনোবিশ্লেষকরা বলছেন, আমাদের শিশুরা অনেক বেশি সংবেদনশীল। বাসায় যে বিষয় নিয়ে কথা হয় সেটা তারা নিজেদের মতো করে রূপ দিতে চায়। পারিবারিক আবহে বাবা-মাকে যখন দেখেছে সুন্দরবন নিয়ে কথা বলতে তখন এর অংশ হতে চেয়েছে তারা। এর মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক কাজে শিশুদের ব্যবহার হয়ে যাচ্ছে কী না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এটা সচেতনতার কাজে শিশুকে সঙ্গে নেওয়া হিসেবেও আমরা দেখতে পারি। আজকের শিশুরাই তো আগামীর বাংলাদেশ গড়বে।



ছবি পাঠিয়েছেন - Lissa Akikunএদিকে ফেসবুকে ঘুরে বেড়াচ্ছে শিশুদের নানা প্রতিবাদের ছবি। কোথাও কেবল সুন্দরবন বাঁচাও আবার কেথাও নিজেরা বাঘ-সিংহ সেজে তাদের জায়গা যেন নষ্ট না করা হয় সেই প্রতিবাদ। সদ্য এসএসসি পাশ করা রেইনা বলেন, সলীল চৌধুরীর একটা গান আছে ‘তেলের শিশু ভাঙলো বলে শিশুর ওপর রাগ করো, তোমরা যে সব বুড়ো খোকা ভারত ভেঙে ভাগ করো, তার বেলা?’ গানটা আমাদের বয়সীদের বোঝা কঠিন ছিল। কিন্তু এবার আমরা বুঝতে পারছি। আমাদের নানা নিয়ম শেখানো হয়, বকাঝকা করা হয়। কিন্তু কোনও স্বার্থ ছাড়া একটা বন ধ্বংস করা হচ্ছে যেটা চাইলেই কেউ তৈরি করতে পারবে না। সেখানে আমরা কি করতে পারি।



বাঁচাও সুন্দরবন

কোনদিন সুন্দরবন দেখেনি দশবছরের শাহীন। টেলিভিশনে দেখেছে আর জেনেছে এটা পৃথিবীর সম্পদ। সুন্দরবন নষ্ট করে দেওয়া হচ্ছে জানার পর থেকে সবুজ হারিয়ে যাওয়ার শঙ্কা থেকেই হয়তো সে সবুজ গাছের ছবি আঁকা শুরু করেছে। এছাড়া, মেহেদী হাসান আকাশ তৈরি করেছেন এনিমেটেড ফিল্ম। কীভাবে উন্নয়নের নামে বন উজাড় করে একসময় মানুষকে বনসাইয়ের মধ্যে অক্সিজেন খুঁজতে বাধ্য করবে সেই চিত্র তুলে সে ধরেছে।

বন কেটে উন্নয়ন


তরুণদের এসব প্রয়াসই আগামীর ভরসা বলে বিশ্বাস করেন যারা তাদের একজন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, বিশ্বের এবং বাংলাদেশের একজনও বিশেষজ্ঞ পাওয়া যাবে না যিনি মনে করেন রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রে সুন্দরবনের ক্ষতি হবে না। শুধু এর সঙ্গে স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাই দাবি করেন রামপাল কেন্দ্র হলে সুন্দরবনের ক্ষতি হবে না।

এসময় তিনি ফেসবুকে বিজ্ঞানী, আইনজীবী, শিক্ষক, সাংবাদিক, পেশাজীবী, ব্যবসায়ী, কৃষক, শ্রমিক, লেখক, শিল্পী, ইমাম, মুয়াজ্জিন, পুরোহিতসহ সবাইকে নিজ নিজ জায়গা থেকে সুন্দরবন রক্ষার পক্ষে কথা বলার আহ্বান জানান।

ছবি: ফেসবুক থেকে

/ইউআই/এমও/আপ-এবি

আরও পড়ুন

‘জঙ্গিরা ভুল স্বীকার করতে চায় না’

প্রত্যেক শিক্ষকই ছাত্রছাত্রীদের জন্য আদর্শ ও পরামর্শক: প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব

গণতন্ত্র সীমিত হলে উন্নয়নও সীমিত হয়ে যায়: সুলতানা কামাল