রিজার্ভ চুরি: হ্যাকারদের জিজ্ঞাসাবাদের অপেক্ষায় সিআইডি

 

হ্যাকারবাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির সঙ্গে জড়িত বিদেশি চক্রটিকে এখনও জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারেনি বাংলাদেশের পুলিশ। এজন্য চুরির সঙ্গে জড়িত বাংলাদেশিদের বিষয়ে কোনও উপসংহারে আসতে পারছে না পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তবে শ্রীলঙ্কা ও ফিলিপাইনের পুলিশ সিআইডির অনুরোধের প্রেক্ষিতে জানিয়েছে, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত তাদের দেশের নাগরিকদের বাংলাদেশের পুলিশের মুখোমুখি করার সুযোগ দেবে। সিআইডি বর্তমানে সেই সুযোগের অপেক্ষায় আছে। সিআইডি জানিয়েছে, তাদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষেই মূলত জানা যাবে বাংলাদেশে তাদের সঙ্গে কেউ জড়িত ছিল কিনা।
সিআইডির তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় আন্তর্জাতিক হ্যাকার চক্র জড়িত। বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের অর্থ চুরির সঙ্গে ৪ দেশের ২০ নাগরিক জড়িত থাকার প্রমাণ পেয়েছে সিআইডি। ওই ২০ জন বিদেশি ফিলিপাইন, জাপান, শ্রীলংকা এবং চিনের নাগরিক। ঘটনার সঙ্গে এখনও পর্যন্ত কোনও বাংলাদেশি নাগরিকের জড়িত থাকার তথ্যপ্রমাণ পায়নি সিআইডি। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের গাফিলতির নানা তথ্য প্রমাণ পেয়েছে তারা। এসব বিদেশি কোনও নাগরিককে এখনও জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারেনি সিআইডি। প্রথমদিকে ইন্টারপোলের সহায়তায় তাদের জিজ্ঞাসাবাদের সুযোগ নেওয়ার কথা বললেও সিআইডি এখন সেই জায়গা থেকে সরে এসেছে। ওইসব দেশের পুলিশের সঙ্গে কথা বলেই তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় সিআইডি।

সিআইডি সূত্র জানায়, ফিলিপাইনে অর্থ চুরির ঘটনা ধরা পড়ার ৩ সপ্তাহ পর সেখানে একটি ফৌজদারি মামলা হয়। ফিলিপাইন পুলিশ সেটি তদন্ত করছে। তাদের সঙ্গে সিআইডি যোগাযোগ রক্ষা করে চলছে। রিজার্ভ চুরির ঘটনার সঙ্গে জড়িত ফিলিপাইন নাগরিকদের জিজ্ঞাসাবাদের সুযোগ চেয়ে চিঠি দিয়েছে সিআইডি। তবে চিঠির কোনও সাড়া মেলেনি এখনও। কবে নাগাদ ফিলিপাইনের ওইসব জড়িতদের সিআইডি জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে তারও কোনও নিশ্চয়তা নেই। একই ঘটনা ঘটেছে শ্রীলঙ্কানের ক্ষেত্রেও। ২০ বিদেশির মধ্যে সিআইডি শ্রীলংকার ৭ নাগরিক এবং সাসাকি নামে এক জাপানির সম্পৃক্ততা পেয়েছে। শ্রীলংকার ৭ নাগরিকের মধ্যে সেখানকার বেসরকারি প্রতিষ্ঠান শালিকা ফাউন্ডেশনের ৬ পরিচালক রয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ২০ মিলিয়ন ডলার শ্রীলংকায় পাঠানো হয়। তা পরে জমা হয় শালিকা ফাউন্ডেশনের অ্যাকাউন্টে। তবে এ বিষয়েও তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারেনি সিআইডির তদন্ত দল। বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের অর্থ চুরির ঘটনার রহস্য উদঘাটনে সিআইডির দু’টি তদন্ত দল সম্প্রতি শ্রীলংকা ও ফিলিপাইন ঘুরে আসে। তবে সে সময় সিআইডিকে রিজার্ভ চুরির সঙ্গে জড়িতদের মুখোমুখি করা হয়নি।

সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (অর্গানাইজড ক্রাইম) আব্দুল্লাহ হেল বাকি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, তারা বাংলাদেশ ব্যাংকের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দায়িত্বে গাফিলতির প্রমাণ পেয়েছেন। তবে তারা রিজার্ভ চুরির সঙ্গে সরাসরি জড়িত কিনা তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য ফিলিপাইন ও শ্রীলঙ্কার রিজার্ভ চুরির সঙ্গে জড়িতদের জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। তাহলে জানা যাবে বাংলাদেশের কেউ জড়িত কিনা। এখন পযন্ত বাংলাদেশে জড়িতদের বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত আসা যাচ্ছে না।’

প্রসঙ্গত, গত ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার ফিলিপাইনে স্থানান্তর করে হ্যাকাররা। ওই অর্থ ফিলিপাইনের আরসিবিসি ব্যাংকের জুপিটার ব্রাঞ্চের চারটি অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হয়। পরবর্তীতে সেই অর্থ ক্যাসিনোতে চলে যায়। যার একটি অংশ ফিলিপাইনের সিনেটের কাছে ফিরিয়ে দেন ক্যাসিনো ব্যবসায়ী কিং অন। বর্তমানে মাত্র দেড় কোটি ডলার ফিলিপাইনের বিচার বিভাগের কাছে রয়েছে। সেই টাকা ফিরে পেতেই তৎপরতা চলছে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে। বাকি অর্থের সঠিক হদিস এখনও পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে অর্থচুরির বিষয়টি ফিলিপাইন, শ্রীলঙ্কান পুলিশের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআইও তদন্ত করছে।

আরও পড়ুন: দেশি ব্যান্ডউইথের পরবর্তী গন্তব্য ভূটান?

/এআরআর/এমএসএম/