জানা গেছে, গুলশান ও পার্শ্ববর্তী আবাসিক এলাকায় চলাচলের জন্য ৫০০ রিকশা নামানো হচ্ছে। এগুলোর বিশেষ রং থাকবে। এ ছাড়া বাসিন্দাদের দ্রুত চলাচলের জন্য প্রথমে ২০টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাস নামানো হবে। গুলশান, বনানী ও বারিধারা এলাকার নির্ধারিত রুটে চলাচল করবে বাসগুলো। প্রতি বাসে আসন থাকবে ৩০টি। সিকিউরিটি গার্ড নিয়োগ করা হচ্ছে প্রায় পাঁচ শ’।
শনিবার সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত এক গোলটেবিল আলোচনায় মেয়র আনিসুল হক বলেন, আগামী ১০ আগস্ট থেকে গুলশানে ৫০০টি রঙিন রিকশা চলবে। প্রতিটি রিকশার তিনজন চালক থাকবেন। তাদের প্রাইমারি ট্রেনিং দেওয়া হচ্ছে, যে বিপদে পড়লে তারা কী করবে। এ ছাড়া ১০ আগস্ট থেকে গুলশান, বনানী ও বারিধারায় এয়ারকন্ডিশন্ড বাস দিচ্ছি। ত্রিশটি সিট থাকবে। যে কোনও গন্তব্যে যেতে ভাড়া পড়বে ১৫ টাকা।
মেয়র জানান, সিকিউরিটি গার্ডও নতুন নিয়োগ করা হচ্ছে। বনানীতে নিয়োগ হবে ১৬৭ জন, বারিধারায় ৫০ জন, নিকেতনে ১০০ জন ও গুলশানে ৩০০ জন। তিনি বলেন, এসব করার অর্থ হলো, আমরা এক ধরনের আবহ সৃষ্টি করতে চাচ্ছি যে, আমরা নিরাপদ।
জানা গেছে, নগরীতে নিরাপত্তা বলয় সৃষ্টির লক্ষ্যকে সামনে রেখে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে তিন হাজার ক্লোজড সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা স্থাপনের একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে ডিএনসিসি। এতে সহযোগিতা করছে গুলশান, বনানী, বারিধারা ও নিকেতন সোসাইটি এবং গুলশান ইয়ুথ ক্লাব। নেপথ্যে রয়েছে এলওসিসি, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) এবং ডিএনসিসি। মেয়র আনিসুল হক এ কার্যক্রমের উদ্যোক্তা।
জানা গেছে, এই প্রকল্পের অধীনে গুলশান, বনানী, বারিধারা ও নিকেতন এলাকাসহ আশপাশের এলাকায় গত ২৫ মে ৬৪২টি সিসি ক্যামেরা উদ্বোধন করেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। এসব ক্যামেরার কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে গুলশানের ১০২ নম্বর সড়কে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গুলশান, বনানী, বারিধারা ও নিকেতন সোসাইটি এবং বৃহৎ একটি ব্যবসায়ী গ্রুপের সহায়তায় নতুন বাস ও রিকশা নামানো হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, গত ১ জুলাই গুলশান আবাসিক এলাকার ৮৯ নম্বর সড়কে হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার পর কূটনৈতিক এলাকার নিরাপত্তার বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে। এরপর থেকে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো এসব এলাকার নিরাপত্তা জোরদার করতে নানা কার্যক্রম গ্রহণ করে।
/এমএনএইচ/