সাখাওয়াতসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ

সাখাওয়াত

যশোরের সাবেক সংসদ সদস্য সাখাওয়াত হোসেনসহ আট মানবতাবিরোধী অপরাধীর বিরুদ্ধে থাকা মামলার রায় আজ। আসামিদের  বিরুদ্ধে অপহরণ, আটক, নির্যাতন, ধর্ষণ ও হত্যার পাঁচটি অভিযোগ রয়েছে।

এক নম্বর অভিযোগে যশোরের কেশবপুর উপজেলার বোগা গ্রামে এক নারীকে অপহরণ, আটক, নির্যাতন এবং ধর্ষণ এর কথা উল্লেখ আছে। আসামিদের বিরুদ্ধে আনা দ্বিতীয় অভিযোগে একই উপজেলার চিংড়া গ্রামের চাঁদতুল্য গাজী ও তার ছেলে আতিয়ারকে অপহরণ, আটক, নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগ আনা হয়। এছাড়া পরের দুটি অভিযোগ কেশবপুরের চিংড়া গ্রাম ও হিজলডাঙার ঘটনা।

অভিযোগ ৩-এ মো. নুরুদ্দিন মোড়লকে অপহরণ, আটক, নির্যাতন ও অভিযোগ চার নম্বরে আ. মালেক সরদারকে অপহরণ, আটক, নির্যাতন ও খুনের অভিযোগ আনা হয়েছে। আর পাঁচ নম্বর অভিযোগে কেশবপুরের মহাদেবপুর গ্রামের মিরন শেখকে অপহরণ, আটক, নির্যাতন এবং ওই গ্রামে অগ্নিসংযোগ ও লুণ্ঠন এর কথা বলা হয়।

২০১২ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি সাখাওয়াতসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগের তদন্ত শুরু করে প্রসিকিউশনের তদন্ত দল। প্রসিকিউশনের আবেদনে ২০১৪ সালের ২৬ নভেম্বর ট্রাইব্যুনাল সাখাওয়াতের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করলে ২৯ নভেম্বর রাজধানীর উত্তরখান থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

২০১৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বর আদালত ৯ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেয়। এরপর ২৪ নভেম্বর অভিযোগ গঠনের ওপর পক্ষে-বিপক্ষে শুনানি শেষে ২৩ ডিসেম্বর বিচার শুরুর আদেশ দেয় আদালত।

বর্তমানে জাতীয় পার্টিতে থাকা সাখাওয়াত এক সময় ছিলেন জামায়াত নেতা। ১৯৯১ সালে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে নির্বাচনে দাঁড়িয়ে যশোর থেকে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়। কিন্তু মেয়াদপূর্তির আগেই জামায়াত ছেড়ে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন।

প্রসঙ্গত, মামলা চলাকালে আট আসামির মধ্যে জাতীয় পার্টির ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক সাখাওয়াত ও মো. বিল্লাল হোসেন বিশ্বাস শুনানির সময় আদালতে হাজির ছিলেন। তবে, ইব্রাহিম হোসাইন, শেখ মো. মজিবুর রহমান, এম এ আজিজ সরদার, আব্দুল আজিজ সরদার, কাজী ওহিদুল ইসলাম এবং আব্দুল খালেক পলাতক রয়েছেন। আরেক আসামি লুৎফর মোড়ল কারাবন্দি থাকা অবস্থায় মারা গেছেন। 

 

/ইউআই/এসটি/