আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরের তাজরীন ফ্যাশনসের মামলায় সাক্ষীর অভাবে সাক্ষ্যগ্রহণ পিছিয়ে যাচ্ছে। চোখের সামনে অগ্নিকাণ্ডে ১১২ শ্রমিক নিহতের ঘটনার সাক্ষী না পাওয়াটা নিয়ে অবাক হচ্ছেন খোদ রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীও। যদিও প্রত্যক্ষ সাক্ষীরা ঘটনাস্থলের আশেপাশেই বসবাস করছেন এখনও।
এদিকে, একটি মামলায় দীর্ঘ তদন্ত শেষে মালিক দেলোয়ারসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করা হলেও নিহত শ্রমিক রেহানার ভাই মতিকুলের মামলাটি আড়াই বছর ধরে চার্জশিট দেওয়ার জন্য ঘুরছেন। দফায় দফায় সময় চেয়েও আদালতের নির্ধারিত দিনে চার্জশিট জমা পড়েনি।
আইন বিশ্লেষকরা বলছেন, সাক্ষী একাধিকবার হাজির না করলে মামলা দুর্বল বিবেচনা হতে থাকে। এর মাধ্যমে দীর্ঘসূত্রিতাও বাড়ে।
গত বছরের ২২ ডিসেম্বর ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তাজরীন ফ্যাশনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) দেলোয়ার হোসেনসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেন সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক মহসীন উজ্জামান খান। চার্জশিটে ১০৪ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বলছেন, সাক্ষী হাজির করতে বেগ পেতে হচ্ছে। যদিও সাক্ষী তালিকায় যারা আছেন তারা নিশ্চিন্তপুরের আশেপাশেই অবস্থান করছেন।
আসামি পক্ষ কোনও ধরনের চাপ প্রয়োগ করছে কিনা প্রশ্নে প্রসিকিউটর এম এ মান্নান বলেন, একটি মামলা তো শুরু হয়ে গেছে। আসামি পক্ষ নিজেকে বাঁচানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেই। কিন্তু সাক্ষী হাজির করতে বেগ পেতে হচ্ছে।
সাক্ষীরা তো সব চেনাজানা এবং এলাকাতেই আছেন জানানো হলে তিনি বলেন, আমরা চেষ্টা করছি। রানাপ্লাজার মামলাও এখন সাক্ষ্যগ্রহণের পর্যায়ে আছে। আশা করছি, দ্রুত শেষ হবে।
দ্রুত শেষ হওয়ার আশা কীভাবে করছেন যখন কিনা তাজরীনের মামলায় দিনের পর দিন সাক্ষী হাজির না করে মাসের পর মাস মামলার তারিখ নেওয়া হচ্ছে প্রশ্নে তিনি বলেন, আমরা কয়েকজন সাক্ষী এনেছি। চেষ্টা চলছে।
২০১২ সালে ২৪ নভেম্বর ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড হয়। এতে প্রাণ হারান শতাধিক শ্রমিক। তবে ঘটনার পর সাড়ে তিন বছর পার হলেও এখন পর্যন্ত নিহত শ্রমিকদের পরিবার বিচার পাননি। মামলার অগ্রগতি হতাশাজনক বলে মনে করছেন অ্যাক্টিভিস্টরা। তারা বলছেন, এমন একটা ঘটনার সাক্ষী পাওয়া যাচ্ছে না, সেটা ভীষণ হাস্যকর যুক্তি।
গত ১৪ জুন রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় ইমরাত আইনে দায়ের করা মামলায় অভিযোগ গঠন করা হয়েছে৷ ২৩ আগস্ট ওই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হওয়ার কথা আছে৷ রানাপ্লাজার মামলায়ও সাক্ষী হাজির করা নিয়ে শঙ্কিত আইনজীবীরা।
দুই ঘটনারই মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আব্দুল মান্নান বলেন, সাক্ষীদের আদালতে হাজির করার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে৷ কত দ্রুত মামলা শেষ হচ্ছে, সেটাও নির্ভর করছে। তাজরীন ফ্যাশনের মামলায় যেমন সাক্ষীদের পাওয়া যাচ্ছে না, এক্ষত্রেও তেমন কিছু হবে কিনা জানতে চাইলে বলেন, এই মামলায় সাক্ষীদের সময়মতো আদালতে হাজির করা যাবে বলে আশা করি৷
এধরনের অবহেলাজনিত হত্যাকাণ্ডের জন্য নতুন আইন ও তার দ্রুত প্রয়োগ জরুরি উল্লেখ করে মানবাধিকারকর্মী এলিনা খান বলেন, এ ধরনের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আর্থিক ক্ষতিপূরণে যতটা মনোযোগ দেওয়া হয়, আহতদের বিষয়ে ঠিক ততটাই অবহেলা দেখানো হয়। আবার দিনের পর দিন বিচারহীনতায় এক ধরনের হতাশার জন্ম হয়। তাজরীন অগ্নিকাণ্ড ও রানাপ্লাজা ধসের মতো ঘটনা দুটির পর আইনের পরিবর্তন বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে এবং এটা জরুরি।
/ইউআই/এবি/
আরও পড়ুন:
জেলা-উপজেলায় ইসলামি সাংস্কৃতিক শিক্ষাকেন্দ্র গড়ে তোলা হবে: প্রধানমন্ত্রী