হাসনাত ও তাহমিদকে আবারও রিমান্ডে চায় পুলিশ

হাসনাত করিম ও তাহমিদ হাসিব খাননর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক হাসনাত করিম ও তাহমিদ হাসিব খানকে আবার রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেছে পুলিশ। আজ শনিবার (১৩ আগস্ট) দুইজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। ঢাকা মুখ্য মহানগর হাকিম গোলাম নবীর আদালতে তুলে হাসনাতের ১০ দিনের ও তাহমিদের ৮দিনের রিমান্ডের আবেদন জানানো হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) জনসংযোগ শাখার উপকমিশনার মাসুদুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে এই তথ্য জানান।

উল্লেখ্য, হাসনাত করিমকে গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলার মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। আর তাহমিদকে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। দুপুরে শুনানির পর আদালত রিমান্ডের বিষয়ে রায় দেবেন। 

এর আগে গত ৪ আগস্ট হাসনাত ও তাহমিদের ৮দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। আদালতে হাজির করে তাদের ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্যান্সনেশনাল ক্রাইম ইউনিট এর পরিদর্শক মোহাম্মদ হুমায়ন কবির। ঢাকা মহানগর হাকিম নুরুন্নাহার ইয়াসমিনের আদালতে শুনানি শেষে ৮দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। 

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, হাসনাত করিম নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন হিজবুত তাহরীরের সদস্য এবং তাহমিদ তার সহযোগী। বিভিন্ন সময় তাহমিদ হাসনাতকে সহযোগিতা করেছে। 

হাসনাত ও তাহমিদের আইনজীবী জামিনের আবেদন করলে বিচারক তা খারিজ করে দিয়ে ৮ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে ৩ আগস্ট রাতে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক হাসনাত করিম এবং কানাডার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র তাহমিদ হাসিব খানকে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার করে পুলিশ।

তাহমিদ হাসিব খান আফতাব বহুমুখী ফার্মের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফজলে রহিম খান শাহরিয়ারের ছেলে। তিনি কানাডার টরেন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র এবং কানাডার স্থায়ী নাগরিক। ১ জুলাই গুলশান হামলার দিনই দুপুরে ঢাকায় আসেন তাহমিদ।

হাসনাত করিমের বাবা মোহাম্মদ রেজাউল করিম। হাসনাত বাংলাদেশ ও ব্রিটেনের দ্বৈত নাগরিক। ব্রিটেনের নাগরিক হলেও সম্প্রতি তিনি দেশে ফিরে এসে বাবার আর্কিটেক্ট ফার্মে পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছিলেন। ঘটনার দিনে মেয়ের জন্মদিন উপলক্ষে তিনি হলি আর্টিজানে পরিবার নিয়ে খেতে  গিয়েছিলেন।   

১ জুলাই গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলায় দুই পুলিশ কর্মকর্তাসহ দেশি-বিদেশি ২২ নাগরিক নিহত হন। পরে সেনাবাহিনীর কমান্ডো অভিযানে ৫ জঙ্গি নিহত হয়। এ ঘটনায় সাইফুল নামে হলি আর্টিজানের একজন শেফও নিহত হন, তাকে জঙ্গিদের সহায়তাকারী হিসেবে পুলিশ দাবি করলেও তার পরিবার তা অস্বীকার করেছে। এই ৬ জনের মরদেহ এখনও মর্গে রয়েছে। অভিযানের পর ওই রেস্টুরেন্ট থেকে ৩২ জিম্মিকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত জিম্মিদের মধ্যে হাসনাত করিম ও তাহমিদের রহস্যজনক আচরণের কারণে তাদের গোয়েন্দা কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। ঘটনার কয়েকদিন পর হাসনাত ও তাহমিদকে ছেড়ে দেওয়ার কথা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হলেও তাদের অবস্থান জানা যায়নি। পরে ৩ আগস্ট তাদের ৫৪ ধারায় গ্রেফতার করে পুলিশ।

আরও পড়ুন- 

গুলশান হামলায় জড়িতরা আল-কায়েদা নেতা আওলাকির অনুসারী!

ট্যুরিজম টাস্কফোর্স-সুদমুক্ত ঋণ চান পর্যটনখাতের ব্যবসায়ীরা

/এনএল/এফএস/