মামলার হুমকিতে পাওনা টাকা ফেরত দেয় গ্রামীণফোন

গ্রামীণফোন থেকে পাঠানো চিঠি

গ্রাহকদের সেবা দিতে নারাজ হলেও মামলা করার কথা বললে ঠিকই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয় গ্রামীণফোন। সম্প্রতি তারা টকশো উপস্থাপক অঞ্জন রায়কে টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হয়েছে। কিন্তু, মামলার কথা বলার আগ পর্যন্ত কোনও ধরনের সহায়তা করতেই রাজি ছিল না প্রতিষ্ঠানটি।

‘অযথা কেটে নেওয়া’ টাকা কীভাবে আদায় করলেন জানতে চাইলে অঞ্জন রায় বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমি একটি প্যাকেজ কেনার পরও তা চালু না হওয়ায় তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করি। তখন তারা জানায়, আমার প্যাকেজটা নেওয়া হয়নি। এরপর আবারও একই জিনিস নিতে বলে। আমি তাদেরই পরামর্শ অনুযায়ী আরেকবার প্যাকেজটা নিলে বুঝতে পারি আমার কাছ থেকে দ্বিগুণ টাকা কেটে নেওয়া হয়েছে।’

এরপরের প্রক্রিয়া এবং অভিজ্ঞতা ছিল বিব্রতকর উল্লেখ করে অঞ্জন রায় বলেন, ‘আমি তাদের কাছে বিষয়টা বলাতে তারা শুরুতে একেবারেই কানে না তুলছিল না।  পরবর্তীতে আমি মামলা করার কথা জানালে তাদের সুর পাল্টে যায়। এর কিছুদিনের মধ্যেই তারা আমার টাকা ফেরত দিয়ে (রিফান্ড) চিঠি পাঠায়।’

এদিকে গত সোমবার আরেক সাংবাদিক হারুন উর রশীদের ফোন থেকে পূর্ব সতর্কতা বার্তা ছাড়াই দুইদিনে ৫ জিবি ইন্টারনেট ডাটা খরচ হওয়ার খবর প্রকাশিত হলে বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঝড় ওঠে। গ্রামীণফোনের গ্রাহক হারুন উর রশীদ ফেসবুকে নিজের পেজে বিষয়টা নিয়ে পোস্ট দিলে তার ওয়ালে একইরকম অভিজ্ঞতা ও হয়রানির কথা জানান গ্রামীণফোনের হাজার হাজার গ্রাহক।

গ্রামীণ ফোন

তবে গ্রামীণফোনের সঙ্গে এ ব্যাপারে কথা বলার চেষ্টা করলে তাদের হেড অব এক্সটার্নাল কমিউনিকেশনস সৈয়দ তালাত কামাল এক লিখিত বিবৃতিতে দাবি  করেন, ‘আমরা সম্মানীত গ্রাহকের ইন্টারনেট ব্যবহারের বিষয়টি খতিয়ে দেখেছি। আমাদের বিলিং সিস্টেমের তথ্য অনুযায়ী, তিনি ১৭ আগস্ট থেকে ১৯ আগস্ট ২০১৬-এর মধ্যে ওই পরিমাণ ডাটা ব্যবহার করেছেন। প্রতিবার প্যাকেজ শেষ হওয়ার পর তাকে ডাটা শেষ হয়ে যাওয়ার তথ্য এসএমএস-এর মাধ্যমেও জানানো হয়েছে।’

এবিষয়ে হারুন উর রশীদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন,‘তারা (গ্রামীণফোন) ডাটা শেষ হওয়ার এসএমএস পাঠানোর যে দাবি করেছেন তা সত্য নয়।’ তিনি বলেন, ‘গ্রামীণফোন তাদের বক্তব্য বাংলা ট্রিবিউনকে দিলেও ভুক্তভোগী গ্রাহক হিসেবে তিনটা মেইল করার পরও তারা কোনও জবাব দেয়নি। বিটিআরসি বিষয়টি তদন্ত করলে আসল তথ্য বেরিয়ে আসবে।’

প্রায় একযুগ গ্রামীণফোন ব্যবহার করা এই স্টার গ্রাহক দুই দিন ধরে বিষয়টি নিয়ে নানাভাবে সুরাহা পাওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন।

এদিকে বিটিআরসি বলছে, ‘তারা এ অভিযোগগুলো তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেবে।’

এদিকে ফেসবুক পোস্ট দেওয়ার দ্বিতীয় দিনেও ভুক্তভোগী অনেক গ্রাহক সাংবাদিক হারুন উর রশীদের ওয়ালে তাদের নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা লিখছেন। মঈন উদ্দিন সুমন নামের এক গ্রামীণফোন গ্রাহক লিখেছেন, ‘আমি সপ্তাহ, দশ দিনের জন্য দেশে যাই। একবার ৪৫ টাকার সবটাই হজম করে ফেলেছে। ফোন করে আরও ৪০ /৫০ টাকা অপেক্ষার প্রহর গুনে খোয়া গেছে। কাস্টমার কেয়ার আমাকে আমার হিসাব বোঝাতে ব্যর্থ হয়েছে। তারা নাকি টেকনিক্যাল সাপোর্টে অভিযোগটি পাঠিয়েছে, আমার সাথে অতি শীঘ্রই যোগাযোগ করবে। এখনো করছে.... মামলা করার কথা চিন্তা করেছিলাম, সময়ের অভাবে করিনি। পৃথিবীর প্রায় সব দেশে এখন কাস্টমার কেয়ার ফ্রিতে কল করা হয় কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে চার্জ প্রযোজ্য। এটা বড় অন্যায়।’

মামলার হুমকিতে অঞ্জন রায়ের টাকা পাওয়ার বিষয়ে শহীদুল ইসলাম লিখেছেন, ‘যাদের আঙুল বাঁকা করার মত যথেষ্ট বড় না... তাদের কি হবে?’

লুৎফর রহমান লিখেছেন, ‘ফেসবুকে লগইন করতেই ৮-১০ মেগাবাইট খরচ হয়ে যায়! সব অ্যাপসের অটোস্টার্ট বন্ধ রাখার পরও! আশ্চর্য সিস্টেম! ছুঁইলাম না, দেখলাম না—ডাটা শেষ।’

/উদিসা/টিএন/

আরও পড়ুন: ‘দুই দিনেই ৫ জিবি ডাটা খেয়ে ফেলল গ্রামীণফোন’