আবাসিক হলের দাবিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীরা আগামী শুক্রবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সংহতি সমাবেশ করবে। বুধবার দুপুরে এ দিনের জন্য আন্দোলনের সমাপ্তি ঘোষণা করে শুক্রবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সংহতি সমাবেশ করবে বলে ঘোষণা দেন আন্দোলনের সমন্বয়কারী এক শিক্ষার্থী সফিকুল ইসলাম। এদিন কিছু শিক্ষার্থীকে হলের দাবিতে কাফনের কাপড় গায়ে জড়িয়ে রাজপথের অবস্থান কর্মসূচিতে বসতে দেখা যায়।
দিনের কর্মসূচি শেষে তিনি সাংবাদিকদেরকে জানান,‘আগামীকাল বৃহস্পতিবার কোনও কঠোর কর্মসূচি থাকছে না। তবে শুক্রবার বিকাল ৩ টায় শহীদ মিনারে সংহতি সমাবেশে দেশের কলামিস্ট, সমাজসেবক, বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদ, শিক্ষকদেরকে নিয়ে এ সংহতি সমাবেশটির আয়োজন করা হবে’।
এছাড়া, শনিবার দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে জবি শিক্ষার্থীদের হল আন্দোলনের সমর্থন জানিয়ে সংহতি সমাবেশ ও গত সোমবার শিক্ষার্থীদের ওপর বর্বর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন পালন করার আহ্বান জানান তিনি।
শনিবারের মধ্যে দাবি মেনে না নিলে রবিবার দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মাঠে নেমে আন্দোলন করবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘আগামী রবিবার দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনে নামবো’।
তিনি আরও বলেন, ‘তাদের আন্দোলনে ছাত্রলীগ হামলা চালিয়ে রুহুল আমীন নামে এক ছাত্রকে রাস্তায় ফেলে দেওয়ায় তিনি মাথায় আঘাত পেয়েছেন। পরে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে’। ছাত্রলীগের এমন হামলাকে তিনি তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
এদিকে আন্দোলনকারী অন্য এক শিক্ষার্থী আল আমীন বলেন, ‘আগামীকাল বৃহস্পতিবার শিক্ষার্থীরা পুরান ঢাকাবাসীর সঙ্গে গনসংযোগ করবে। পুরান ঢাকাবাসীর সঙ্গে আলোচনায় বসবে শিক্ষার্থীরা’।
এর আগে বুধবার সকাল থেকে পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী আন্দোলন শুরু করে শিক্ষার্থীরা। বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী গুলিস্তান পার হয়ে পুলিশের কয়েকটা নিরাপত্তা বেষ্টনী পার করে পুরানা পল্টনে অবস্থান নেয়।
রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে হাতে ব্যানার, প্ল্যাকার্ড নিয়ে স্লোগান দিচ্ছে শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীরা বলছেন, ‘হলের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন’। শিক্ষার্থীরা রাস্তায় অবস্থান নেওয়ায় ওই এলাকার যান চলাচল বন্ধ ছিল। ফলে সাধারণ মানুষও দুর্ভোগে পড়েন। সেখানে ৪ ঘণ্টা অবস্থান নেওয়ার পর দুপুর ১টায় তাদের কর্মসূচি শেষ করে। পরে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আবারও কর্মসূচি ঘোষণা করে।
ঘটনাস্থানে প্রায় কয়েকশ’ পুলিশ নিরাপত্তার জন্য অবস্থান করছিল। কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘নাশকতা ঠেকাতে আমরা অবস্থান নিয়েছি।’
এর আগে গত সোমবার পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচির পালনকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্মারকলিপি দিতে অগ্রসর হওয়ার পরে নয়াবাজার মোড়ে পুলিশ তাদের ওপর লাঠিচার্জ করে এবং তাদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে। এতে প্রায় অর্ধশত শিক্ষার্থী আহত হয়। তারা স্থানীয় ন্যাশনাল মেডিক্যাল হাসপাতালে চিকিৎসা দিয়েছে বলে জানায় শিক্ষার্থীরা।
গত ২ আগস্ট থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন নাজিম উদ্দিন রোডে পরিত্যক্ত কারাগারের জমিতে হল নির্মাণের দাবিতে আন্দোলন করছে শিক্ষার্থীরা। জমি পেতে ২০১৪ সালের মার্চে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন স্বরাষ্ট্র সচিবের কাছে আবেদন করেছিল। নতুন করে আন্দোলনের প্রেক্ষিতে জায়গাটির জন্য গত ১৪ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের উচ্চপর্যায়ে আবেদন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপাচার্য মীজানুর রহমান।
উল্লেখ্য, ১৯৮৫ সালে থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১টি হল দখল করে আছে প্রভাবশালীরা। বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে যাত্রার পর ২০০৯ সালে হলের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে ২০১১ ও ২০১৪ সালে দুটি হল উদ্ধার হয়। তবে সেগুলোর সংস্কার নিয়ে কর্তৃপক্ষের কোনও উদ্যোগ নেই।
/আরএআর/টিএন/