আওয়ামী লীগ নেতাদের প্রতিক্রিয়া

বঙ্গবন্ধুর সমকক্ষ করতে জিয়াকে স্বাধীনতা পদক দেওয়া হয়

জিয়াউর রহমান

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও জিয়াউর রহমানকে সমকক্ষ করতে দু’জনকে একসঙ্গে স্বাধীনতা পদক দেওয়া হয় বলে দাবি করেছে আওয়ামী লীগ। সেই সঙ্গে জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতা পদক বাতিলে সরকারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে দলটি। আওয়ামী লীগ বলছে, একটা ভুল সিদ্ধান্তকে সংশোধন করলে জাতি বিভক্ত হবে, এমনটি ভাবার কোনও সুযোগ নেই।

জিয়াউর রহমানকে দেওয়া স্বাধীনতা পুরস্কার  বাতিলে সরকারের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলা ট্রিবিউনকে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় এসব মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলির সদস্য নূহ উল আলম লেনিন ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব উল আলম হানিফ।

বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ২০০৩ সালে একই সঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতা পদক দেয়। প্রতিবছর দু’জনের অধিক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীনতা পদক দেওয়া হলেও ওই বছর এই দু’জনের বাইরে কাউকে দেওয়া হয়নি। তবে, তৎকালীন বিরোধীদল আওয়ামী লীগ ও বঙ্গবন্ধুর পরিবার বঙ্গবন্ধুকে দেওয়া ওই পদক প্রত্যাখ্যান করে। পরে তৎকালীন সরকার দুটি পদকই জাতীয় জাদুঘরে সংরক্ষণের জন্য রেখে দেয়  বলে জানা গেছে।

গত ‍বুধবার জাতীয় মন্ত্রিসভার পদক প্রদান-বিষয়ক কমিটি উচ্চ আদালতের  রায়ের সূত্র ধরে জিয়াউর রহমানকে দেওয়া স্বাধীনতা পদক বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এদিকে বঙ্গবন্ধুকে স্বাধীনতা পদক দেওয়ায় উচ্চ আদালত ২০০৯ সালে এক পর্যবেক্ষণে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। আদালতের পর্যাবেক্ষণে বলা হয়, পদক দিয়ে বঙ্গবন্ধুকে অবমাননা করা হয়েছে।

জিয়াউর রহমানের পদক বাতিলের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে নূহ উল আলম লেনিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘জিয়াউর রহমানকে বঙ্গবন্ধুর সমান্তরাল করার অপচেষ্টায় তৎকালীন সরকার দু’জনকে একই সঙ্গে কথিত স্বাধীনতা পদক দেয়। এটা করে তারা জাতির পিতাকে খাটো করার চেষ্টা করেছে। সেদিন ‍তারা জিয়াকে প্রতিষ্ঠিত করতে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে এ কাজটি করে।’

লেনিন ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু হচ্ছেন এ দেশের শ্রষ্ঠা। তাকে পদক দেওয়ার তারা কে? বিশ্বের কোথাও কি এ রকম কোনও ঘটনা ঘটেছে যে, ফাদার অব দ্য ন্যাশনকে স্বাধীনতা পদক দেয়া হয়েছে?’

জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতা পদক বাতিলের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, ‘একটি ঐতিহাসিক ভুল সিদ্ধান্তকে সংশোধন করা হলে জাতি বিভক্ত হয়ে যাবে, এটা ভাবার সুযোগ নেই। ক্ষমতাসীন দলের একজন একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে সরকারের কোনও সিদ্ধান্তে দ্বিমত করতে পারি না। আমি সরকারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই।’

পদক বাতিল জাতিকে বিভক্ত করবে, বিএনপির এমন বক্তব্যের জবাবে এই নেতা বলেন, ‘জাতিকে তো বিএনপি বিভক্ত করেই রেখেছে। বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে আমরা মুক্তিযুদ্ধ করি। হিন্দু-মুসলমান-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টানের মিলিত রক্তধারায় স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় হয়েছে। স্বাধীন বাংলাদেশে যে সংবিধান প্রণীত হয়েছিল, তাতে ধর্মনিরপেক্ষতা ও বাঙালি জাতীয়তাবাদের কথা বলা ছিল। বলা ছিল ধর্মের ভিত্তিতে কোনও রাজনৈতিক দল গঠন করা যাবে না। জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে সেই সংবিধান কর্তন করে ধর্ম নিরপেক্ষতা বাদ দেন। বাঙালি জাতীয়তাবাদের জায়গায় স্থলাভিষিক্ত করেন বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ। জাতির পিতাকে অস্বীকৃতি জানান। সামরিক ফর্মানের বলে সংবিধান সংশোধন করে জিয়া বিভক্তির ধারা তৈরি করেছিলেন, যা এখনও বেগম খালেদা জিয়া ও তার দল বিএনপি বহন করে চলছে।

মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, ‘জিয়াউর রহমানের মুক্তিযুদ্ধের সময় কর্মকাণ্ড ছিল বির্তকিত। আমরা বিভিন্ন মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের যেসব তথ্য পাই, তাতে জিয়াউর রহমানের স্বীকৃতি পাওয়ার মতো কোনও অবদান দেখতে পাই না। ফলে উনি কেন স্বাধীনতা পদক পেলেন, তা আমরা জানি না। যারা দিয়েছিলেন, তারাই এটা বলতে পারবেন। পুরস্কার দেওয়ার বিষয়ে সরকারের যে কমিটি রয়েছে, তারা যদি মনে করে, এটা দেওয়া সঠিক হয়নি, তাহলে তারা বাতিল করতে পারে।

জিয়ার পদক বাতিল বিষয়ে কমিটির সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘কমিটি উচ্চ আদালতের রায়ের প্রেক্ষিতে একটি সুপারিশ করেছে। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হলে তা জাতিকে জানিয়ে দেওয়া হবে।’

ইএইচএস/ এপিএইচ/

আরও পড়ুন: