আজ আসছেন কেরি: নিরাপত্তা ইস্যুতে পাল্টা বার্তা দেবে বাংলাদেশ

জন কেরিএকদিনের সফরে আজ সোমবার সকালে ঢাকা আসছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি। তার সফরকালে দুই দেশের নিরাপত্তার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হবে। তবে ঢাকা নিরাপত্তার প্রশ্নে ওয়াশিংটনের সহযোগিতা চাইবে। কিন্তু এর শর্তাবলি বাংলাদেশই ঠিক করবে। জন কেরিকে এমন বার্তা জানানো হবে বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

এ প্রসঙ্গে রবিবার যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মাদ জিয়াউদ্দিন বলেন, ‘এটি একটি বড় অর্জন—জন কেরি ঢাকা সফর করছেন।’ তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শুধু সেই সব দেশ ভ্রমণ করেন, যেসব দেশের সঙ্গে ওয়াশিংটন আরও গভীর সম্পর্ক করতে চায়।’ কোন বিষয়টি তার সফরে সবচেয়ে বেশি প্রধান্য পাবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘নিরাপত্তা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হবে।’

রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘সারা বিশ্ব এখন সন্ত্রাসবাদ ও উগ্রবাদের শিকার। ওয়াশিংটন ঢাকার মতো বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোসহ একসঙ্গে এটি মোকাবিলা করতে চায়।’

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা বিষয়ক আলোচনায় বাংলাদেশ কী বলবে, তা ঠিক করা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধুদের একটি বার্তা দিতে চাই যে, বাংলাদেশ তার নিরাপত্তা নিজেই নিশ্চিত করতে পারে। ১৯৭১ সালে স্বধীনতা যুদ্ধে বাংলাদেশের জনগণ পৃথিবীর অন্যতম শক্তিশালী পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিল। তাদের পরাজিত করেছিল। তিনি আরও বলেন, ‘৪৫ বছর আগে আমরা যদি পাকিস্তানি বাহিনীকে পরাজিত করতে পারি, তবে বর্তমান যুগের এ শত্রুকেও আমরা মোকাবিলা করতে পারব।’

ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা নিরাপত্তা সহযোগিতা চাই কিন্তু তার শর্তও বাংলাদেশ ঠিক করবে। আমরা তাদের বলব, আমাদের কী সহযোগিতা লাগবে। বর্তমানে আমাদের চাহিদার পর্যালোচনা করছি।’

জুলাই মাসে গুলশানের হলি আর্টিাজন বেকারি ও কিশোরগঞ্জের শোলাকায়  জঙ্গি হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অ্যাসিট্যান্ট সেক্রেটারি নিশা দেশাইসহ কয়েকটি মার্কিন প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফর করে এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কী কী সহযোগিতা দেওয়া সম্ভব, তার একটি তালিকা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে দেন। বর্তমানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সেটি পর্যালোচনা করে দেখছে।

অন্য একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু খুনি রাশেদ চৌধুরীর প্রত্যাবাসন বিষয় নিয়েও দুই পক্ষের মধ্যে কথা হবে। আমরা জানি, রাশেদ চৌধুরী যুক্তরাষ্ট্রে আছে এবং আমরা তাকে ফেরত চাই।’ তিনি বলেন, ‘রাশেদ চৌধুরী যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী একজন সন্ত্রাসী এবং যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য একটি হুমকি।’ এছাড়া বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত প্রবেশাধিকারের বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরবে বলে তিনি জানান।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাণিজ্য অংশীদার।

এদিকে, একদিনের সফর শেষে কেরি ঢাকা থেকে ভারতের উদ্দেশে যাত্রা করবেন।

২০১২ সালে তৎকালীন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হিলারি ক্লিনটন ঢাকা সফর করেন।

আওয়ামী লীগ সরকারের সাত বছরে মোটা দাগে দুই দেশের সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি আলোচিত বিষয় ছিল গ্রামীণ ব্যাংকের উদ্যোক্তা ড. ইউনূসের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের অকুণ্ঠ সমর্থন এবং  যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের জিএসপি সুবিধা প্রত্যাহার। এছাড়া দুই দেশের সম্পর্কের প্রাতিষ্ঠানিকীকরণও হয়েছে এ আমলে।

গত পাঁচ বছর ধরে প্রতি বছর বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ে অংশীদারিত্ব সংলাপ হচ্ছে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (দ্বিপক্ষীয়) পর্যায়ে নিরাপত্তা সংলাপ এবং দুই দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে ‘মিলিটারি-মিলিটারি’ সংলাপ হচ্ছে।

বাণিজ্য বিষয়ে আলোচনার জন্য টিকফা ফোরাম ব্যবহার করা হচ্ছে, যার তৃতীয় বৈঠক এ বছর ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে।

আরও পড়ুন: খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে পারেন কেরি

/এমএনএইচ/