অবরোধ কর্মসূচি শেষে শিক্ষার্থীরা হত্যাকারীকে গ্রেফতারে সময় বেঁধে দেওয়ার পাশাপাশি কর্মসূচিও ঘোষণা করে। কর্মসূচিতে আগামীকাল বুধবার নিজেদের স্কুলে দোয়া ও শোকসভা এবং ১ সেপ্টেম্বর সারা দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা দেয় তারা।
এর আগে, গতকাল সোমবার শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ স্কুলে উপস্থিত হয়ে বখাটে ওবায়দুলকে দ্রুত গ্রেফতার করে বিচার করার আশ্বাস দেন। এছাড়া রমনা থানার সহকারী কমিশনার (এসি) শিবলী নোমান ঘটনাস্থলে এসে শিক্ষার্থীদের শান্ত করেন এবং ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে রিশার ঘাতক হিসেবে অভিযুক্ত ওবায়দুল খানকে গ্রেফতার করা হবে বলে ঘোষণা দেন।
রমনা থানার সহকারী কমিশনার (এসি) শিবলী নোমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করছি। আশা করি দ্রুত তাকে গ্রেফতার করতে পারবো।’
উল্লেখ্য, মাস ছয়েক আগে স্কুলের ড্রেস বানাতে রিশা মায়ের সঙ্গে ইর্স্টান শপিং কমপ্লেক্সের বৈশাখী টেইলার্সে গিয়েছিল। সেখানের কাটিং মাস্টার ওবায়দুল রিসিট থেকে ফোন নম্বর পেয়ে রিসাকে উত্ত্যক্ত করতে থাকে। এক পর্যায়ে ক্ষিপ্ত ওবায়দুল গত বুধবার (২৪ আগস্ট) বেলা পৌনে ১২টার দিকে কাকরাইলে উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের সামনেই ছুরিকাঘাত করে রিশাকে। গুরুতর আহতাবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির চারদিন পর রবিবার (২৮ আগস্ট) রিশা মারা যায়। মৃত্যুর আগে রিশা বলে গেছে, ওবায়দুলই ছুরি মেরেছে তাকে। পুলিশকেও সে এই জবানবন্দি দিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওবায়দুলকে ধরতে তার গ্রামের বাড়ি দিনাজপুরের বীরগঞ্জে অভিযান চালানো হয়েছিল। হত্যার পর সেখানে অবস্থান করেছিল সে। কিন্তু গণমাধ্যমে ওবায়দুলের ছবি প্রকাশ হলে সে গ্রামের বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। তবে এরই মধ্যে ওবায়দুলকে না পেয়ে তার বোন ও ভগ্নিপতিকে দিনাজপুরের বীরগঞ্জ থেকে আটক করেছে পুলিশ।
/আরএআর/এআরআর/এমও/