ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জায়গা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে হল নির্মাণের জন্য বরাদ্দ দেওয়ার কোনও পরিকল্পনা নেই। বুধবার এক অনানুষ্ঠানিক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন) বিগ্রেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিন।এ সময় তিনি বলেছেন,‘কারাগার স্থানান্তর হয়েছে সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে, পুরান ঢাকার মানুষদের একটু স্বস্তি দেওয়ার জন্য, হল করার জন্য নয়।’
মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মীর কাসেমের ফাঁসি কার্যকর করার সময়সংক্রান্ত বিষয়ে ওই অনানুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় প্রসঙ্গক্রমে আইজি প্রিজনের কাছে সাংবাদিকরা জানতে চান ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের পরিত্যক্ত জায়গা হল নির্মাণে বরাদ্দ চেয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছে। এই জায়গা হল নির্মাণের জন্য বরাদ্দ করা হবে কিনা? এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,'ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার একটা উদ্দেশ্য নিয়ে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। পুরান ঢাকার মানুষ যাতে একটু স্বস্তিতে থাকতে পারে, এখানে ট্রাফিক জ্যাম, গিঞ্জি এলাকা এখানে একটা হল হলে কেমন হবে?'
তিনি বলেন, 'দুইশ বছরের ইতিহাস এটি। তা সংরক্ষণ, নতুন স্থাপনা করে তা সংরক্ষণ করা, খালি পার্ক, শপিং মল করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। তারজন্য পরিকল্পনাও করা হয়েছে। আমরা পরিকল্পনা অনুযায়ী চলছি। পুরান ঢাকার শিশুদের একটা ফাঁকা জায়গা করার জন্য এটা স্থানান্তর করা হয়েছে। হল করে যদি আবার একই অবস্থায় নিয়ে যাওয়া হয় তাহলে ৪০০ কোটি টাকা ব্যয় করে কারাগার স্থানান্তরিত করার কোনও প্রয়োজন ছিল না।'
আইজি প্রিজন বলেন,'প্রধানমন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে কারাগার পরিদর্শন করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তিনি এটি ঘুরে দেখবেন। এখানে কোন স্থাপনা রাখা যায় কোনটি রাখা যাবে না, সেবিষয়ে তিনি মতামত দিবেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যে উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করছেন, তা জনগণের জন্য বেশি কল্যাণকর।'
পুরান কেন্দ্রীয় কারাগারে যাদুঘর ও পার্ক নির্মাণের অগ্রগতির বিষয়ে তিনি বলেন, 'আমরা এরইমধ্যে অনেকদূর এগিয়েছি। খুব দ্রুত কাজ শেষ হবে। আমরা এজন্য উন্মুক্ত নকশা প্রতিযোগিতার আয়োজন করবো। প্রধানমন্ত্রীর পরিদর্শন শেষে এ ব্যাপারে আমরা পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেবো।'
/ এআরআর/টিএন/