বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মো. আলমগীর বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমাকে না জানিয়েই এই নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। এছাড়া প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ও এ বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। ফলে আমরা এটা বাতিল করে দিচ্ছি। এটা নিয়ে আরও চিন্তা ভাবনা করতে হবে।’
এরআগে গত বুধবার প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর থেকে শিক্ষা কর্মকর্তাদেরকে এক চিঠিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। নির্দেশনায় বলা হয়, ‘শিক্ষার কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষকদের সন্তানদের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বাধ্যতামূলকভাবে পড়াতে হবে। প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি হয়ে পঞ্চম অথবা অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত তাদের সন্তানরা এসব স্কুলে পড়বে। এ আদেশ মহানগর থেকে গ্রাম পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। প্রাথমিক শিক্ষার মান এবং ক্লাসে শিক্ষকদের আন্তরিকতা বাড়ানোই এ পদক্ষেপের লক্ষ্য।’
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব গিয়াস উদ্দিন আহমেদ বাংলা ট্রিবিউনকে নির্দেশনার বিষয়ে বলেন, ‘অধিদফতরের এমন কোনও চূড়ান্ত নির্দেশনা দিয়েছে কিনা তা আমার জানা নেই। তবে আমরা মন্ত্রণালয়ের প্রায় মিটিংয়েই প্রাথমিক শিক্ষকদের সন্তানকে কিন্ডারগার্টেন স্কুলে পড়ানো যাবেনা এ বিষয়ে আলোচনা করি।’
তিনি আরও বলেন, ‘মাঠ পর্যায়ে খোঁজ নিয়ে দেখেছি শিক্ষকদের সন্তানরা কিন্ডারগার্টেন স্কুলে পড়ালে প্রচুর সমালোচনা হয়। আমাদের সরকারি স্কুলে শিক্ষকরা কোয়ালিফাইড, কিন্তু কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষকরা তো কোয়ালিফাইড নয়। ফলে এই নির্দেশনাটি চূড়ান্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।’
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালককে না জানিয়ে শিক্ষা কর্মকর্তাদেরকে এমন নির্দেশনা দেওয়া হলো কেনও এমন প্রশ্ন করতেই অধিদফতরের পলিসি এবং অপারেশন শাখার পরিচালক মো. আনোয়ারুল্লাহ বাংলা ট্রিবিউনের প্রতিবেদককে পাল্টা প্রশ্ন করে জানতে চান, ‘আপনার মতে কি বলে? শিক্ষকদের সন্তানদেরকে কি কিন্ডারগার্টেনে পড়ানো উচিত?’
উচিত কি উচিত না সেটা বলার ক্ষমতা এ প্রতিবেদক রাখেন না জানালে তিনি উত্তরে বলেন, ‘আমরা একটি খসড়া করেছিলাম। সেটি ভুল করে শিক্ষা কর্মকর্তাদের মেইলে চলে গিয়েছে।’
এত বড় একটি সিদ্ধান্ত ভুল করে কর্মকর্তাদের মেইলে গেলো কিভাবে প্রশ্ন করা হলে কিছুটা ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি বলেন, 'মানুষের ভুল হতে পারেনা? সেরকম ভুল করেই মেইলটি সেন্ড হয়ে গেছে। তবে খুব শিগগিরিই সিদ্ধান্ত বাতিলের ঘোষণা দেওয়া হবে।’
/আরএআর/এনএস/