মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত আসামি জামায়াত নেতা মীর কাসেম আলী রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণ ভিক্ষার আবেদন করবেন না। শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে তিনি নিজে কারাগার কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ এর জেল সুপার প্রশান্ত কুমার বণিক বাংলা ট্রিবিউনকে খবরটি নিশ্চিত করে জানান, দুপুর ২টার দিকে মীর কাসেম আলীর কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল তিনি রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাইবেন কিনা। প্রশ্নের জবাবে তিনি ‘না’ বলে দিয়েছেন।
জেল সুপার বলেন, ‘আমরা বিষয়টি ঊধ্বর্তন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।’
এখন কারা কর্তৃপক্ষ আদালতের দেওয়া রায় বাস্তবায়নে প্রস্তুত কিনা এ ব্যাপারে জেল সুপারের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে যখন যেভাবে নির্দেশ আসবে সেভাবেই পালিত হবে।’
এর আগে ৩১ আগস্ট বুধবার মীর কাসেম আলীর স্ত্রী খন্দকার আয়েশা খাতুন মীর কাসেম আলীর সাথে সাক্ষাতের পর সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, মীর কাসেম আলীর দাবি, ২২ দিন আগে সাদা পোশাকধারী লোকজন তাদের ছেলে ব্যারিস্টার আহম্মেদ বিন কাসেমকে বাসা থেকে ধরে নিয়ে গেছে। মার্সি পিটিশনের সিদ্ধান্তের আগে সরকারের কাছে তাদের নিখোঁজ ছেলেকে ফেরত চেয়েছেন।
আয়েশা খাতুন জানান, তিনি শুধু ছেলেই নন মীর কাসেম আলীর মামলার আইনজীবীও।
মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি জামায়াত নেতা মীর কাসেম আলীর সাথে ৩১ আগস্ট বুধবার পরিবারের তিন শিশুসহ ৯ সদস্যের স্বজনেরা কথা বলার জন্য দুপুর আড়াইটার দিকে কারাগারে প্রবেশ করেন। দুপুর ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে তারা কারগার থেকে বের হন।
স্বজনদের মধ্যে ছিলেন মীর কাসেম আলীর স্ত্রী খন্দকার আয়েশা খাতুন, কন্যা সুমাইয়া রাবেয়া, তাহেরা তাসনিম, পুত্রবধূ সাহেদা তাহমিদা, তাহমিনা আক্তার, ভাতিজা হাসান জামান খান ও পরিবারের তিন শিশু।
৩১ আগস্ট বুধবার সকালে তাকে রিভিউ আবেদন খারিজের রায় পড়ে শোনানো হয়।কারাগার সূত্রে জানা গেছে, রায় শোনার পর তাকে কিছুটা চিন্তিত ও চেহারায় উদ্বিগ্নতার ছাপ এবং বিমর্ষ দেখা গেছে।
কারা মহাপরিদর্শক এর আগে মঙ্গলবার সকালে কারাগারে এসে তার কাছে থাকা রেডিওর মাধ্যমে মীর কাসেম আলীকে রিভিউ খারিজ সংক্রান্ত রায় শুনেছিলেন।
মঙ্গলবার রাত ১২টা ৪৮ মিনিটে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মীর কাসেম আলীর রিভিউ খারিজ সংক্রান্ত রায়ের কপি গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ এসে পৌঁছায়। রাত অনেক বেশি হওয়ায় রাতে মীর কাসেম আলীকে তা পড়ে শোনানো হয়নি। বুধবার সকাল সাড়ে ৭ টায় আনুষ্ঠানিকভাবে রায় পড়ে শোনানো হয়।
৬৩ বছর বয়সী মীর কাসেম আলী কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের ফাঁসির কনডেম সেলে বন্দি রয়েছেন। ২০১২ সাল থেকে তিনি এ কারাগারে আছেন। ২০১৪ সালের আগে কারাগারে হাজতবাসকালে তিনি ডিভিশনপ্রাপ্ত বন্দির মর্যাদায় ছিলেন। পরে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্তির পর তাকে ফাঁসির কনডেম সেলে পাঠানো হয়।
এআরআর/ এসটি/ এপিএইচ/
আরও পড়ুন:
মীর কাসেমের ফাঁসি স্থগিতের আহ্বান এইচআরডব্লিউ’র